• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

    বিশেষ প্রতিনিধি: | ২৮ মে ২০১৭ | ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

    ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

    সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা মূল্যের একশ’ বিঘা জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাহিদিয়া বিলের ওই জমি ভুয়া নামে রেকর্ড মালিক দেখিয়ে কবলা দলিল করেছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, জমির প্রকৃত মালিক ও প্রান্তিক কৃষকদের হত্যা ও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন শাহারুল ও তার ক্যাডার বাহিনী।


    রবিবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মাহিদিয়া গ্রামের ১৬০জন জমির মালিক এ অভিযোগ করেন। পরে তারা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

    ajkerograbani.com

    সংবাদ সম্মেলনে মাহিদিয়া গ্রামের ১৬০ জন জমির মালিকের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন, শফিয়ার রহমান।

    তিনি অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাহারুল ইসলাম তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহায়তায় রিফিউজিদের (ভারত থেকে আসা) নামে ভুয়া রেকর্ডের মালিক দেখিয়ে নিজ নামে কবলা দলিল করেছেন। ওই জমি দখলে তিনি পুলিশ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে প্রকৃত মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। অথচ ১৯৬২ সালের রেকর্ড ও দখল সূত্রে আমরাই ওই জমির মালিক।

    তিনি আরো বলেন, আমাদের পূর্বপূরুষরা ১৯২৭ সালের পূর্ব থেক ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিল। তৎকালীন এই জমির গাতিদার ছিল নবু সরদার। জমির গাতি পরিচালনা করতো মফেজ দফাদার। তাদের কাছ থেকে পাট্টা মূল্যে এবং কোনো কোনো জমিতে ওয়ারেশ সূত্রে জাফর সরদার, শামছুর রহমান সরদার, মোকছেদ দফাদার, সুনাল্যে বিশ্বাস, হাগু মোল্লা, শরিয়তুল্লাহ মোল্লা, অটল বিহারী পাল, ইউসুফ সরদার জমি চাষাবাদ করে আসছিল।

    পরবর্তীতে কাউছার আলী মোড়লসহ অনেকে চাষাবাদ করতো। ব্রিটিশ সরকার মানচিত্র চিহ্নিত করে উল্লিখিত মালিকগণের নামে ১৯২৭ সালে রেকর্ড লিপিবদ্ধ করে। পরবর্তীতে ১৯৪৬-৪৭ সালে পাকিস্তান সরকার জেলা প্রশাসকের নামে ওই একশত বিঘা জমি অধিগ্রহণ করেছিল।

    ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর অনেক ভারতীয় নাগরিককে সে দেশ থেকে পুশব্যাক করা হয়। তাদেরকে রূপদিয়া, সাড়াপোল, বানিয়াবহু, তপসীডাঙ্গা, চাঁচড়া, রাজা বরদাকান্ড রোড এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়। বিল হরিনা ও মাহিদিয়া বিলের কিছু জমি রিফিউজিদের চাষাবাদের জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে একশ’ বিঘা জমি তফশীল অনুযায়ী দখল শর্ত হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। একশ’ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ৪২ শতাংশ জমি সরকারের নামে রেকর্ড হয়। যা সরলা বালা কান্তি ও সূর্যকান্তির জমি হিসেবে পরিচিত। অথচ ওই জমি কখনো রিফিউজিদের নামে রেকর্ড ছিল না। তবে ১৯৯০ সালের রেকর্ড অনুযায়ী কিছু জমি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় অধিগ্রহণ করে। বাকি জমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড থাকে। ১৯৬২ সালের রেকর্ড ও দখল অনুযায়ী আমরাই ওই জমির মালিক।

    এদিকে প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন, আমি প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে ২৯ বিঘা জমি কিনেছি। আমি কারো জমি দখল করিনি। আমাকে হেয় করার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উস্কানিতে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে। তিনি আরো বলেন, আমার কোনো ক্যাডার বাহিনী নেই। কেউ ভয়ভীতি প্রদর্শনও করেনি।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757