বৃহস্পতিবার ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের তিন দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

ডেস্ক   |   সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

ইউরোপের তিন দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

ইউরোপের যে তিনটি দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি হয়েছে তারা সবাই জানিয়েছে যে গত একদিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। ইতালিতে ৩৬৮ জন মারা গেছে। সব মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮০৯ জনে। স্পেনে একদিনে ৯৭ জন মারা যাওয়ার পর প্রাণহানির সংখ্যা হয়েছে ২৮৮ জন। আর ফ্রান্সে একদিনে ২৯ জন মারা গেছে। সব মিলিয়ে মোট প্রাণহানি হলো ১২০ জন মানুষের।
যুক্তরাজ্যেও একদিনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ১৪ জন মারা যাওয়া মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। প্রাদুর্ভাবের কারণে ইউরোপের সরকারগুলো নাগরিকদের চলাচল সীমিত করেছে এবং সীমান্তেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আজ সোমবার সকাল থেকে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক এবং লুক্সেমবার্গের সাথে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে জার্মানি। স্পেনের সাথে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছে পর্তুগাল।
নাগরিকদের চলাচল সীমিত করেছে চেক রিপাবলিক সরকার। দেশটি ঘোষণা দিয়েছে যে, জনগণ কাজে যাওয়া ও ফেরা, খাবার বা ওষুধ কেনা এবং জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আত্মীয়দের বাড়িতে যেতে পারবে। এছাড়া অন্য যেকোনো ধরনের চলাচলে স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাত থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সোমবার থেকে এক সাথে পাঁচজনের বেশি মানুষের সমাগম নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রিয়া। ২৯ মার্চ পর্যন্ত পাব বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ইউরোপের অনেক দেশেই স্কুল বন্ধ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা করেছে যে, চীনে শুরু হওয়া মহামারির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ইউরোপ।
এই সংকট বিষয়ে ধারণা দিতে, সুইজারল্যান্ড বলেছে যে, দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮০০ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। যা নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২২০০ জনে। দেশটিতে ১৪ জন মারা গেছে। এই প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে বেশি ইতালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৪৭ জন এবং মিলানের ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শুধু লম্বার্ডি এলাকাতেই মারা গেছে ১২১৮ জন।
গত সোমবার পুরো দেশ অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দেয় ইতালি সরকার। নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে নাগরিকদের চলাচলেও। খাবার আর ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য সব কিছু বন্ধ থাকবে। এর আগে স্কুল, ব্যায়ামাগার, জাদুঘর, নাইটক্লাব এবং অন্যান্য স্থান বন্ধ করে দেয়া হয়। শনিবার, ৭৭৫৩ জন আক্রান্ত থাকা স্পেন এবং ৫৪০০ জন আক্রান্ত থাকা ফ্রান্স, এই দেশ দুটি নিজেরাই আলাদাভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কাজ কিংবা খাবার ও ওষুধ কেনা ছাড়া সব ধরনের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্পেনের সরকার।
ফ্রান্সে ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, সিনেমা এবং বেশিরভাগ দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে। ব্যাপকহারে সমন্বিত পদক্ষেপ ও সম্পদ দিয়ে মহামারিকে রুখে দিতে সদস্য দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন। তিনি বলেছেন, কোনো একক দেশে আলাদাভাবে উৎপাদনের পরিবর্তে জোটবদ্ধ ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন ভেন্টিলেটর, পরীক্ষার কিট এবং মাস্কের উৎপাদন বাড়াবে এবং পরে সেগুলো অন্য দেশে সরবরাহ করা হবে। জোটভুক্ত দেশ ছাড়া অন্য দেশে এসব পণ্যের রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments Box


Posted ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১