• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ইতিহাসের দৃষ্টিকোনে হযরত উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ)কে ঘিরে যত আলোচনা

    এস এম হায়দার আলী: | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৫:১৮ অপরাহ্ণ

    ইতিহাসের দৃষ্টিকোনে হযরত উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ)কে ঘিরে যত আলোচনা

    হযরত খানে আজম উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ) এর পরিচয় লিখতে গিয়ে অনেক লেখক গবেষক ঐতিহাসগণ ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য, মতামত উপস্থাপন করেছেন। বাগেরহাট ইতিহাস গ্রন্থের লেখক ড. শেখ গাউস মিয়া তার লেখনীতে মন্তব্য করেছেন যে, তিনি কে ছিলেন? কোথা থেকে এসেছিলেন? কিইবা তার পরিচয়- অদ্যাবধি এসব মতামত বা বক্তব্য কিংবা গবেষণা ধুয়াসার জ্বালে ঘুরপাক খাচ্ছে।


    একমাত্র তার সমাধিগার্ত্রে শিলালিপির উপর নির্ভর করা ব্যতিত ইতিহাস থেকে সঠিক পরিচয় উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। কারন উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ)কে নিয়ে ব্যাপক গবেষণার অভাব রয়েছে। তার নামাঙ্কিত কোন মুদ্রাও নেই। আর শিলালিপির অনেক স্থানে অস্পষ্ঠ থাকায় বিস্তারিত পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি মনে করি আল্লাহ’র নবী, পয়গম্বর রসূল (সঃ) নায়েবে রসুল (সঃ) তথা আল্লাহ’র অলী, বুজুর্গাান, সূফী সাধক, ইসলামী জ্ঞান তাপস, ইসলাম প্রচারক, মোমিন মুত্তাকীগণদের নিয়ে কথা বলা বা কোন বিষয় নিয়ে লেখার পূর্বে এসব গুনী সর্বজনবিদিত সম্মানীয় ব্যক্তিদের মর্যাদা ক্ষুন্ন না হয় সে সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। যেটা সম্পর্কে নিশ্চিত নয় সে বিষয় থেকেও বিরত থাকতে হবে । তবে ইতিহাসের মূল উপাদান হলো শিলালিপি, পৌরণিক কাহিনীর দলিল কিংবা পান্ডুলিপি বা প্রথিতযশা লেখকদের লেখনী ও গবেষকদের উদ্ভাবিত নির্ভরযোগ্য তথ্য। এরপরও যদি সন্দেহ থাকে তবে যাকে নিয়ে লেখালেখি তারা কর্মকান্ডের স্মৃতিগাঁথা নিদর্শন, পূরাকৃতির উপর পর্যবেক্ষন করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। এরপর নিজের মতামত, ইতিহাসের আলোকে, জনশ্র“তি থেকে ও স্থানীয় প্রবীণ বুদ্ধিজীবি, পন্ডিত জ্ঞানীদের বক্তব্য এর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও যুক্তিতর্কের নির্ভরযোগ্য উপাদান সংখ্যাগরিষ্ঠদের কাছে গ্রহনযোগ্য মতামতের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করা যেতে পারে। একমাত্র তার সমাধিগার্ত্রে শিলালিপির উপর নির্ভর করা ব্যতিত ইতিহাস থেকে সঠিক পরিচয় উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। কারন উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ)কে নিয়ে ব্যাপক গবেষণার অভাব রয়েছে। তার নামাঙ্কিত কোন মুদ্রাও নেই। আর শিলালিপির অনেক স্থানে অস্পষ্ঠ থাকায় বিস্তারিত পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। যেটুকু পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তাহলো তার মৃত্যু তারিখ,পবিত্র কুরআনুল কারিমের মর্যাদবান সূরা, পাঁচ কলেমা, চার খলিফাদের নাম, চার ফেরেসতাসহ আরবী ফার্সী ভাষায় মানুষকে তার আদর্শে পরিচলনার জন্য দিক নিদের্শামূলক বাণী লিপিবব্ধ করা হয়েছে। কোন লেখক তার পরিচয় লিখতে গিয়ে তিনি স্বাধীন জৈনপুর শর্কীয় শাসনের প্রতিষ্ঠাতা খানজাহান লিখেছেন। আবার কেউ লিখেছেন তিনি দিল্লী থেকে গৌড়ে আসেন। এরপর বঙ্গদেশের দক্ষিন পূর্বাঞ্চলে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আবার কোন কোন লেখক হযরত উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ) জৈনপুর থেকে সরাসরি বাংলায় আসেন বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ লিখেছেন তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত খোরাসানের বাসিন্দা কেউ কেউ লিখেছেন, হযরত উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ) স্বাধীন জৈনপুর রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, আবার অনেকে লিখেছেন উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ) দিল্লীর সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের প্রধান সেনাপতি, বাংলার রাজধানী গৌড়ের আশেপাশের স্থানে তার পিতামতা বসবাস করতেন ইত্যাদি। আমাদের হযরত খানে আজম উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ) এর সার্বিক জীবন প্রনালী জানতে হলে, অবশ্যই আমাদের ভারতবর্ষে মুসলিম লম শাসকগণ পর্যায়ক্রমে প্রায় আট শত বছর শাসন করেন। এ সব মুসি লমগনেরইতিহাস জানতে হবে। ভারতবর্ষে মুসলমান শাসকগণ শাসন করেন প্রায় ৮ শত বছর ধরে। এসব মুসলিম শাসকগণ আরব, তুর্কীস্থান, ইরান অতীতের পারস্য, আফগানিস্থান মধ্য এশিয়ার আজারবাইজান, আর্মেনিয়া প্রভৃতি দেশের মুসলিমগণ। আমাদের আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর ইন্তেকালের অব্যবহিত পরে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) এর সময় থেকে আরব মুসলমানদের ভারতবর্ষে আগমনের সূত্রপাত ঘটে। আরব শাসিত ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর সাহসী বীর সেনানায়ক মুহম্মাদইবিন কাশিমের নেতৃত্বে ভারতবর্ষের সিন্ধুর রাজা দাহিরকে পরাজিত করে দেবল বন্দর অধিকার করেন এবং আরবের ৪ শত মসুলিম পরিবারকে দেবল ও তার আশেপাশের এলাকায় পূণর্বাসিত করেন। এ সূত্র ধরে পরবর্তীতে পাকভারত উপমহাদেশের পমহাদেশেরপরে সুলতানী শাসনামলে যে কয়জন সুআরো অসংখ্য পরিচিতির বিষয়ে জানা যায়। কিন্তু কোনটাই ইতিহাসকে গভীরভাবে অনুসন্ধান ও যাচাই করে গবেষণামূলক কোন বক্তব্য উপস্থাপন সম্ভব হয়নি বলে আমার বিশ্বাস। একজনের বর্ণনার সাথে অন্যজনের বর্ণনার অসংগতি রয়েছে। ইতিহাসের আলোকে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে না পারায় কিংবা অনুমানভিত্তিক তথ্য উপাত্ত দাড় করিয়ে পাঠকদের বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আমি মনে করি। এ মহান ইসলামী সূফী সাধকের শিলালিপি থেকে এটা পরিস্কারভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আরবী ফার্সী ভাষায় তার প্রখর লেখনী ক্ষমতা ছিল। যে গুণাবলী তার পূর্বপুরুষের লালিত কৃষ্টি। ইতিহাসের আলোকে জানতে পারি যে, প্রাচীন কাল আরবরা সভ্যতার শীর্ষে উঠে এসেছিল। ইসলামে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) সমগ্র ভারত বর্ষে ইসলামী শাসন ব্যবস্থার প্রচলনের লক্ষ্যে থেকে (৬৩৪-৬৪৪ খ্রীঃ) ভারতে প্রথম আরব অভিযান শুরু করেন। খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) এর নির্দেশে তিনটি নৌঅভিযান পরিচালিত হয়। মোম্বাই এর থানা, ভারত বন্দর ও সিন্ধুর দেবল বন্দর আক্রমন করে।এ অভিযানে আশানুরুপ কোন ফল না পাওয়ায় খলিফার নির্দেশে দ্বিতীয়বার ভারতের উত্তর পশ্চিম গিরিপথ দিয়ে কাবুলের পথে অভিযান পরিচালিত হয়। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসিদের প্রবল বাধার মুখে আরবরা বেশীদুর অগ্রসর হতে না পেরে ফিরে যায়। তৃতীয়বার পথ পরিবর্তন করে বালুচিস্তানের পথে ৬৪৩ খ্রীঃ আরব সেনাপতি আব্দুল্লাহ এর নেতৃত্বে মাকরান অভিযান শুরু করেন। মাকরান অধিকার করার ফলে সিন্ধুর পথে আরবদের আক্রমনের পথ সুগম হয়। এরপর ৬৬৩ খ্রীঃ খলিফা হযরত আলী (রাঃ) এর শাসনকালে বোলন গিরিপথ দিয়ে আক্রমন শুরু করে। কিন্তু— স্থানীয় জাঠদের তীব্র বাঁধার মুখে আক্রমন ব্যাহত হয়। এরপর আরব শাসিত ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তার সেনাপতি মুহম্মদ বিন কাশিমের নেতৃত্বে দুইবার অভিযান পরিচালনা করেন। ৭১২ খ্রীঃ মুহম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু নদের দেবল বন্দর অধিকার করেন। তিনি দেবলে ৪০০ মুসলিম পরিবারকে পুণর্বাসিত করেন। এরপর মু‏হম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু নদ পার হয়ে মুলতান পর্যন্ত আরবদের দখলে আনতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে আব্বাসীয় খলিফার শাসনামলে আরব শাসকগণ পশ্চিম ও উত্তর ভারেত ঢুকতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। আব্বাসীয় শাসনের অবসানের সাথে সিন্ধুতে আরব শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সিন্ধুতে মুসলমানদের অস্তিত্ব বজায় থাকে বলে ইতিহাসে জানা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তর ভারতে তুর্কী আক্রমনের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে তুর্কী বীর ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা জয়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গদেশে মুসলিম শাসনের দ্বার উন্মুক্ত হয়। ফলে বাংলায় মুসলিমদের আধিপত্য বাড়তে থাকে। আরব, ইরান, ইরাক, তুর্কীসহ মধ্য এশিয়া থেকে মুসলিম সূফী সাধক, অলী, পীর, গাউস, কুতুব বঙ্গ দেশে ইসলাম প্র চারের উদ্দেশ্যে আসতে শুরু করেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। খানকা শরীফ তৈরী ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শরীয়াভিত্তিক বিভিন্ন নিয়ম কানুন স্থানীয়দের মধ্যে প্রচার করতেন। আর এভাবেই ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় অসংখ্য অলী আউলিয়া ইসলাম প্রচারক বুজুর্গানগণ তৎকালীন ভারতের আজমীর, দিল্লী, কাশ্মীর, আফগানিস্তানের গজনী, কাবুল, জাবুল, মুলতান, জৈনপুর, বাংলার পান্ডুয়া, গৌড়, লখনৌতি, সোনারগাঁও, সিলেট প্রভৃতি স্থানে মুসলিম শাসকদের গোড়াপত্তনের পাশাপাশি আরব, তুর্কী, ইরাক, পারস্য, মধ্য এশিয়া বুজুর্গান সূফী সাধক অলী আউলিয়া ইসলামী পন্ডিতগণ বঙ্গদেশে আসতে শুরু করেন। তৎকালীন মুসলিম শাসকগণ ইসলাম প্রচারে এসব ইসলাম প্রচারক সূফী সাধক, অলী, আউলিয়াদের পৃষ্টপোষকতাসহ বিভিন্ন উপায়ে উৎসাহ দিতেন। আর এসব সূফী সাধকগণের মাতৃভাষা ছিল আরব বংশাদ্ভূতদের আরবী এবং তুর্কী ও পারস্যদের ভাষা ছিল ফার্সী। তাছাড়া আরবী ভাষা থেকে ফার্সী ও তুর্কী ভাষার উদ্ভব হয়েছে বলে গবেষণায় জানা যায়। ফার্সী ভাষার আধুনিক রুপ তুর্কি ভাষা। সুতরাং আরবী, ফার্সী ও তুর্কী একে অপরের পরিপূরক। এছাড়া অনেক আরব মুসলিম ইসলামের প্রাথমিক যুগে তুর্কীতে বসতি গড়ে তোলে। আরবী ভাষা জ্ঞানে প্রাচীনকাল থেকেই তুর্কীরা আরবী ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। ইসলামের প্রথম অবস্থায় খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামলে মুসলিম কর্তৃক পারস্য বিজিত হওয়ায় ফার্সী ও আরবী ভাষার মধ্যে সমন্বয় ঘটে। ফার্সীর ভাষার মধ্যে আরবী ভাষা আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়। ফলে ফার্সী ও তুর্কী ভাষার মধ্যে আরবী ভাষা স্থান দখল করায় তুর্কী ও পারস্য জাতি আরবী ভাষায় ফান্ডিত্য অর্জন করে। কিন্তু পারসিকগণ আরবী ভাষা অর্থাৎ পবিত্র কুরানুল সানন্দে বরণ করে নিলেও আরব জাতির সাথে তাদের মনের মিল তৈরী হয়নি। যার ধারাবাহিকতা অদ্যাবধি বহাল রয়েছে। অতএব, সূফী সাধকগণের জন্ম ও পরিচয় জানতে হলে কে কোন ভাষায় লিখন ও পঠনে পারদর্শী ছিলেন, কোন ভাষায় কথা বলতেন, তাদের বংশ পরিচয় বা পদবী কি? এ বিষয়গুলোও গবেষণার উপাদান হিসাবে গণ্য করতে হবে। এ বিষয়গুলির প্রতি স্পষ্ট ধারনা পেলে আলোচিত মহান ব্যক্তিবর্গের সার্বিক পরিচয় জানার পথ সুগম হয় বলে আমার মনে হয়। উদাহরণ স্বরুপ আমাদের আলোচিত হযরত উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ) এর শিলালিপি পর্যবক্ষেন ও পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি শিলালিপিতে পবিত্র কুরআন শরীফের আরবী হরফে মর্যাদাবান সূরাগুলি লিপিবদ্ধ করেছেন। এছাড়া চার খলিফার নাম, চার ফেরেসতার নাম. কলেমা লিপিবব্ধ করেছেন। আরবী ফার্সী ভাষায় অনেক নির্দেশনামূলক বাণী সমাধি গাত্রের উৎকীর্ণ শিলালিপিতে পাওয়া যায়। ফার্সী ভাষায় তার স্বরচিত কবিতা শিলালিপিতে খোদিত আছে। সমাধিগাত্রের শিলালিপির কিছু কিছু স্থানে অস্পস্ট থাকায় পাঠ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অনুমান করা হয়, সুলতানী শাসনের পর মোগল ও নবাবী শাসনকালে অর্থাৎ বৃটিশ শাসনের পূর্বে সূষ্ঠু রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে পবিত্র রওজা শরীফের সমাধিগাত্রের অনেক লেখা বিলীন হয়ে গেছে। যে সব লেখাগুলির অধিকাংশ আরবী ও ফার্সী ভাষায় হযরত উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ) এর নিজস্ব জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত মানবজাতির জন্য উৎকৃষ্ট নির্দেশনামূলক অমর বাণী। যে বাণীগুলো হয়ত তৎকালীন একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বানোয়াট মনগড়া স্বঘোষিত মানবতা বিরোধী মতবাদের বিপক্ষে ছিল। ফলে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এ অমর দিক নিদের্শনামূলক বাণী বিলুপ্ত করা হয়েছে। জীবদ্দশায় তাঁর নির্দেশ মোতাবেক অভিজ্ঞ কারিগর ও নক্সাকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিলায় খোদিত করা হয়েছে। সুতরাং আমরা নিশ্চিত ভাবে ধারনা লাভ করতে পারি যে, হযরত খানে আজম উলূঘ খানজাহান আলাইহীর (রহঃ) আদি পুরুষের জন্ম আরবে। ইসলাম ধর্মের আগমনের শুরতে এসব আরব মুসলিমগণ ইসলাম ধর্ম তুর্কিতে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা তুর্কিতে বসতি স্থাপন করে দীর্ঘকাল বসবাস করায় তুর্কী জাতি হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তীতে দ্বাদশ শতকের প্রথম দিকে তারা আরবী, ফার্সী, ফিকাহ শাস্ত্রে পুঁথিগত জ্ঞান অর্জনের জন্য ইরাকের বাগদাদ নগরীতে চলে আসেন এবং বাগদাদে তৎকালীন বিশ্বের জ্ঞানচর্চার সর্বোচ্চ সুনামবাহী প্রতিষ্ঠান ইসলামী জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রে দীক্ষা লাভ করেন। তারই উত্তরসূরী হযরত উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ)। বিস্তারিত বই এর অন্য অংশে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে হযরত খানে আজম উলুঘ খানজাহান আলী (রহঃ) শীর্ষক প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।
    যারা হযরত খানে আজম রুলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ) সম্পর্কে গ্রন্থ, প্রবন্ধ, গ্রন্থ ও নিবন্ধ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ হযরত খানে আজম খানজাহান আলী (রহঃ) সৈয়দ ওমর ফারুক, হযরত খানজাহান আলী (রহঃ), মোঃ আব্দুর রহিম, বাগেরহাটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস,অধ্যাপক শেখ গাউস মিয়া, হযরত খানজাহান আলী (রহঃ), মাও: জয়নুল আবেদীন, উলুঘ খানজাহান (রহঃ), প্রফেসর এম এ আউয়াল, পীর খানজাহান আলী (রহঃ),আঃ আজিজ, উলুঘ খান ই জাহান (রহঃ),ইসলামী বিশ্বকোষ, ঢাকা পাবলিকেশন, বাগেরহাটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, মাজহারুল ইসলাম খান, পীর খানজাহান আলী (রহঃ) ,পশুপতি চট্টেপাধ্যায়, ইতিহাসের দৃষ্টিতে ষাট গম্বুজ এর স্থপতি হযরত খানজাহান আলী (রহঃ),আব্দুল বারী ইজারাদার, যশোর ও খুলনার ইতিহাস,অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র মিত্র, খানজাহান আলী (রহঃ), মোঃ আবুল কালাম আজাদ পলাশ, দক্ষিনের বাদশা হযরত খানেল আজম হযরত উলুঘ খানজাহান আলাহীর রহমাতুলিল্লাহ,নূরুল্লা মাসুম, খানজাহানের সমাধি সৌধ ও তার স্থাপত্য পর্যালোচনা,আয়েশা বেগম, বিপ্লবী পীর খানজাহান আলী (রহঃ),এস. এম. হায়দার আলী, গৌড়ের ইতিহাস রজনী কান্ত চক্রবর্তী, বাংলাদেশের সুফী সাধক গোলাম সাকলায়েন, ইতিহাসের নিরীখে উলূঘ খানজাহান (রহঃ), প্রফেসর এম. এ. আউয়াল, ষাটগম্বুজের আজান ধ্বনি, তিতাস চৌধুরী, সূফী দর্শনে হযরত খানেল আজম খানজাহান আলাহীর রহমাতুল্লাহ (প্রবন্ধ),মোঃ অহিদুজ্জামান, হযরত খানজাহান ও ইসলামী কৃষ্টি সভ্যতা ,শেখ ছালেহ আহমদ, বৃহত্তর খুলনার ত্রিরত্ন, সঞ্জীব হাউলী, পীর খানজাহান আলী সাহেবের জীবনী,শেখ আব্দুল আজিজ, হযরত খানজাহান আলী (রহঃ) এর জীবন ও কর্ম মো: সামছু আলী, হযরত খানেল আজম হযরত উলূঘ খানজাহান আলাইহীর রহমাতুলিল্লাহ এর জীবনী ও ষাটগম্বুজ মসজিদ পরিচিত, মাওঃ মোঃ হেলাল উদ্দিন, হযরত পীর খানজাহান আলী (রহঃ), মো: আলী জিন্নাহ, খানজাহান আলী (রহঃ) দর্পণ (সম্পাদিত) ,এস. এম. হায়দার আলী, এক মুক্তার ঝিলিক, ডঃ সুনীল কুমার, উলূঘ খানজাহান (রহঃ), অধ্যাপক আবু তালিব, খানজাহান (রহঃ) এর পূরাকৃতি সংকলণ,আরিফুল ইসলাম, দক্ষিন বঙ্গে ইসলাম শামসুদ্দিন আহমেদ খান, দি আরলী মুসলিম মন্যুমেন্ট এ্যাট বাগেরহাট,জোহনী ভ্যান্স এলডি, ষাটগম্বুজের আযান ধ্বনি, তিতাস চৗধুরী, বাগেরহাট গাইড, মোঃ মুর্ত্তজা হোসেন মুন্সী, নড়েআল থেকে নড়াইল, এস এম রইচ উদ্দিন আহম্মদ প্রমূখ।
    অলীকুল শিরোমনি সূফী সাধক হযরত খানে আজম উলূঘ খানজাহান আলী (রহঃ) গ্রন্থ থেকে সংকলিত
    লেখক:
    এস এম হায়দার আলী, সাংবািদক ও কলামিস্ট

    ajkerograbani.com

     

     

     

     

     

     

     

     

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    সমুদ্রসুন্দরী জেলিফিশ

    ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757