• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা ও একজন দিলীপ কুমার আগরওয়ালা

    বিশেষ প্রতিবেদক | ১১ জানুয়ারি ২০২০ | ২:৫১ অপরাহ্ণ

    ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা ও একজন দিলীপ কুমার আগরওয়ালা

    চু য়াডাঙ্গা জেলা বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পূর্বে এটি বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত ছিল। দেশ বিভাগের পূর্বে এটি পশ্চিম বঙ্গের নদি য়া জেলার অন্তর্গত ছিল। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম কমান্ড দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলী য় কমান্ড গঠিত হে য়ছিল চুয়াাডাঙ্গা য়া।


    মহান মুক্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের প্রথম রাজধানী ঘোষণা করা হয় এ জেলাকে। ইতিহাস ঐতিহ্য মন্ডিত এ জেলাটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। জেলাতে নানা যুগের ১০৪টি প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে।
    ইতিহাস সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে দর্শনা ডিস্টিলারী হাউজ, কেরু অ্যান্ড কোং, রেস্টহাউস, হিরোম-লের পুকুর ও বাগানবাড়ি, পুরাতন হাউলি দোয়া, মণ্ডলবাড়ি বাস্তুপুর, কার্পাসডাঙ্গা নীলকুঠি, আটচালা ঘর ও নদীর ঘাট (নজরুল স্মৃতিবিজড়িত), নাটুদা আটকবর, গচিয়াপাড়া হাজার দুয়ারী স্কুল, নাটুদা জোড়া শিবমন্দির, দর্শনা হল্টস্টেশন, কার্পাসডাঙ্গা মিশন, ডিসি ইকোপার্ক, শিবনগর জামে মসজিদ, গোলাম মোস্তফা (ঘটু মোল্লা) বাড়ি, রাম বাবুর বাড়ি, রেজা চিশতি (র.) মাজার, মধু জমিদারের পুকুর (জলাধার), জুড়ানপুর মমালিতা ভবন, ভালাইপুর নীলকুঠি, লোকনাথপুর নীলকুঠি, হোসেন মঞ্জিল, কার্পাসডাঙ্গা প্রাচীন গির্জা, খ্রিস্টান পাদ্রীর কবর, কার্পাসডাঙ্গা নীলকুঠির প্রবেশ তোরণ, দর্শনা রেলস্টেশন, কুঁকিয়া চাঁদপুর নীলকুঠি (বিলুপ্ত), উক্ত পুরাতন জামে মসজিদ, হযরত কিতাব আলী শাহ মাজার, কমলার দোয়া, চুয়াডাঙ্গা প্রধান ডাকঘর, জীবননগর সেন মন্দির, ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়ুলগাছি পীরগঞ্জ জামে মসজিদ, মোমিনপুর বোয়ালমারী পুরাতন জামে মসজিদ, বোয়ালমারী জমিদার বাড়ি, ভিমরুল্লাহ পুরাতন জামে মসজিদ, জীবননগর কাশীপুর জমিদার বাড়ি, সাগরমনী দেবীর বাড়ি, হীরালাল দত্তের বাড়ি, তিতুদহ মিয়াপাড়া জামে মসজিদ, সিরাজ মঞ্জিল, জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন, কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক, শহীদ-উর-রহমানের বাড়ি, সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, জীবননগর সপ্তম অ্যাডওয়ার্ডের পাতকুয়া, বটকৃষ্ণ ইন্দ্র কুমারের বাড়ি (শহীদুল ইসলামের বাড়ি), প্রাচীন লোহারপুল, খন্দকার বাশার মোল্লার বাড়ির ঢিবি, আলমডাঙ্গা দোবে জমিদারদের কাচারী ও তহশিলখানা সনাতনপুর, জমিদার বিজয় কুমার দোবের বাড়ি, দোবে জমিদার বাড়ির মন্দির, ঘোলদাড়ি নীলকুঠি, কামিনী ফকিরানীর বাস্তুভিটা, জামজামি শাহী জামে মসজিদ (বিলুপ্ত), কাজী গোলাম দরবেশের কাচারী বাড়ি (মসজিদ সংলগ্ন), জামজামি ঈদগা ধ্বংসাবশেষ, ঘোষবিলা (ধুলিয়া) নীলকুঠি, মতিলাল আগারওয়াল বাড়ি, আলমডাঙ্গা কুমারী সাহা জমিদার বাড়ি, সাহা জমিদার বাড়ির প্রাচীন পাতকুয়া, কুমারী কালী মন্দির, লালব্রিজ (রেলসেতু), আলমডাঙ্গা দোতালা রেলস্টেশন, হযরত বিনোদিয়া (র.) মাজার, শ্রী শ্রী সত্য নারায়ণ মন্দির, চুয়াডাঙ্গা পৌর বড় মসজিদ, ধোপাখালী পুরাতন মসজিদ, জীবননগর রাখাল শাহ মাজার, চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন, সুভাষিনী দাসের বাড়ি, মতিরাম আগরওয়ালার বাড়ি, দামুড়হুদা বেগুপাড়া মসজিদ, কার্পাসডাঙ্গার কুতুবপুর মসজিদ, হযরত মেহমান শাহ মাজার ও তৎসংলগ্ন ঢিবি, পীর বুড়া দেওয়ানের দরগাহ, জীবননগর আন্দুলবাড়িয়া অজ্ঞাত ইমারত, হযরত মানিক পীরের মাজার, খাজা পারেশ সাহেবের মাজার, চুয়াডাঙ্গা সদর বড়সলুয়া মহিশতলা মসজিদ ঢিবি, কালুপোল রাজার ভিটা, গড়াইটুপি হযরত মল্লিক শাহ মাজার, মুজিবনগর বাগোয়ান শেখ ফরিদের মাজার, বাগোয়ান শাহী জামে মসজিদ, আলমডাঙ্গা ঘোষবিলা হযরত শাহনূর (বাঘী দেওয়ান) বাগদাদী (র.) এর মাজার, ঘোষবিলা প্রাচীন মসজিদ (বিলুপ্ত)।


    দেশ বিভাগের পূর্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার অন্তর্গত ছিলো। পূর্বে এটি বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত ছিলো। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে নদীয়া জেলার অন্তর্গত কুষ্টিয়া জেলার জন্ম হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে চুয়াডাঙ্গা স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে মানচিত্রে জায়গা পায়। চুয়াডাঙ্গা আয়তনে ৫৪তম বৃহত্তর জেলা। স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রাক্কালে সর্বপ্রথম চুয়াডাঙ্গাকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তা এবং কৌশলগত কারণে পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজধানী মেহেরপুরের মুজিবনগরে সরিয়ে নেয়া হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধে জেলায় পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় শতাধিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধকালীন গণহত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পেছনে, দামুড়হুদার নাটুদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে তিনটি গণকবর, হৈবতপুরে, জীবননগরে সীমান্তবর্তী ধোপাখালী গ্রামে এবং আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের কাছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ ক্যানালের তীরবর্তী স্থানে যুদ্ধের স্মৃতিধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে স্মৃতিস্তম্ভ। জেলায় রয়েছে- নবগঙ্গা নদী, চিত্রা নদী, ভৈরব নদ, কুমার নদ, মাথাভাঙ্গা নদী। যদিও কালের আবর্তে সবগুলো নদী আজ মৃত প্রায়। দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে জীবননগরের দত্তনগর কৃষিখামার, দামুড়হুদার নাটুদহের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর, দর্শনা কেরুজ চিনিকল, ডিস্টিলারি কারখানা, হাজার
    দুয়ারি স্কুল, কার্পাসডাঙ্গার নীলকুঠি, আলমডাঙ্গার ঘোলদাড়ি ওমর শাহর মসজিদ, তিয়রবিলা বাদশাহী মসজিদ, চুয়াডাঙ্গা সদরের গড়াইটুপিতে সাধক হযরত খাজা মালিক উল গাউস (র.) মাজার, চারুলিয়ার মেহমান শাহরের মাজার, জমিদার নফর পালের প্রাকৃতিক শোভাবর্ধনকারী তালসারি সড়কসহ বিভিন্ন স্থান।

    অবিভক্ত বাংলার নদীয়া জেলা ছিল বাঙালী সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। পৌরবময় সেই উত্তরাধিকার চুয়াডাঙ্গা জেলাও বহন করে চলেছে। এখানকার লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। এক সময় মুর্শিদী, মারফতি, যাত্রা, ভাসান, কবিগান, কীর্তন, জারি গান, গাজারী গীত, গাজনের গান, মাদার পীরের গান, মেয়েলী গীত, বিয়ের গান, কৃষকের মেঠোগান, প্রভৃতি গ্রামগুলো মুখরিত করে রাখত। এ জেলা মুসলমান ফকির ও বাউলপন্থী হিন্দু বৈষ্ণব প্রমুখের ধর্ম সাধনার একটি কেন্দ্রস্থল। লালনের বহুসংখ্যক অনুসারী ও গোসাই গোপাল ও অপরাপর অনেক বাউলপন্থী রসিক বৈষ্ণবের বাস ও বিচরণ স্থান এই চুয়াডাঙ্গা।
    চুয়াডাঙ্গা জেলার একটি অভিজাত শিল্প ব্যবসায়ী পরিবারের পরিবারের সন্তান দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসেয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক, জেমস অ্যান্ড স্টোন অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারন সম্পাদক, এফবিসিসিআই-এর সহ সভাপতি, সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য, এপেক্স ক্লাব এবং বাংলাদেশ-জার্মানী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ অনেক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।

    দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বাবা অমিয় কুমার আগরওয়ালা তৎকালীন জার্মানির কোলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে বাবার ব্যবসার হাল ধরেন। তিনিও ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তিন পুরুষের শিক্ষা ও ব্যবসায়িক ঐতিহ্যপূর্ণ পারিবারিক ছোঁয়ায় শৈশব থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালার আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। চুয়াডাঙ্গায় প্রথম শুরু করেন ঠিকাদারি ও অন্যান্য ব্যবসা যা আজ সারা দেশে বিস্তৃত। পাশাপাশি খেলাধুলা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। তারুণ্যের এক স্বর্ণকালেই তাঁর মধ্যে পরিলক্ষিত হয় ব্যবসায় নেতৃত্বের আকাক্সক্ষা। চুয়াডাঙ্গা জেলার ব্যবসায়িক সংগঠনসহ বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িয়ে পড়েন।

    এপর্যায়ে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা ইউনিট ও চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। বিগত তিন বছর তিনি জেলার সর্বোচ্চ করদাতার স্বীকৃতিও অর্জন করেন। চুয়াডাঙ্গার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার পরিবারের যেমন সুনাম রয়েছে। তেমনি ব্যক্তিগতভাবে তিনিও দানবীর হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার বিচক্ষণ নেতৃত্বের ফলে সাফল্য ধরা দেয় হাতের মুঠোয়। ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের প্রিয় পাত্রে পরিণত হন। নির্বাচিত হন জেলা চেম্বারের পরিচালক, একই সঙ্গে শিল্পকলা একডেমি, সাহিত্য পরিষদ, রোগী কল্যাণ সমিতি, দৈনিক মাথাভাঙ্গার উপদেষ্টা ও আজীবন সদস্য পদ লাভ করেন। শুরু করেন সিনেমা ব্যাবসা, পান্না মুভিজের ব্যানারে বেশ কিছু ব্যবসা সফল ছবি নির্মাণ করেন। পাশাপাশি পান্না জুয়েলার্স নামে প্রথম আমদানিকৃত ডায়মন্ড জুয়েলারির ব্যবসা শুরু করেন। একই সময় শুরু করেন এ্যাগ্রো বিজনেস ও পরিবহন ব্যবসা।

    এছাড়াও কুষ্টিয়ার হরিনারায়ণপুরে পান্না সিনেমা হল ও ভেড়ামারায় প্রতিষ্ঠা করেন সজনী সিনেমা হল। ঢাকাস্থ চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতির একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন ঢাকায় পা দেয়ার সময় থেকেই। বাংলাদেশ মেইজ এ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে তিনি লাভ করেন এফবিসিসিআইর প্রথম সদস্যপদ। বাংলাদেশ প্রযোজক সমিতি, বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাব, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির গর্বিত সদস্য পদ লাভ করেন। পণ্যের গুণগত মানের ব্যাপারে তিনি সব সময়ই আপসহীন ও নিষ্ঠাবান। তার সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি আর সফল নেতৃত্বের ফলে বিশ্বমানের ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড বাংলাদেশের প্রথম জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেন। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি তিনি একই ধরনের গুণগত মান ও সেবাব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন একের পর এক প্রতিষ্ঠান। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড (বিডি) লিমিটেড, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিডিয়া লিমিটেড ও গোল্ড ল্যাব লিমিটেড।

    ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতা থেকে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করার তাগিদে ২০১৫-২০১৭ সালের নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক পদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-২০১৮ মেয়াদে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদেও আসীন হন। ব্যবসা শুধুমাত্র মুনাফার জন্য নয় জনসেবাও বটে। দেশ, সমাজ ও পৃথিবীর জন্য। এ মূলমন্ত্রে তার দাদার নামে গড়ে তোলেন দোয়ারকা দাস আগরওয়ালা মহিলা কলেজ।

    দিলীপ কুমার আগরওয়ালা তার সামাজিক কর্মকাণ্ডকে স্থায়ী রূপ দিতে প্রতিষ্ঠা করেন চুয়াডাঙ্গায় তারা দেবী ফাউন্ডেশন। যেখান থেকে গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, নবজাতককে দেয়া হয় ২৪ ঘন্টা ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, শিক্ষাবৃত্তি, অতি দরিদ্র এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল। মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি, বৃদ্ধাশ্রম ও অন্যান্য কার্যক্রম। সম্প্রতি তিনি মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।

    তরুণ উদ্যোক্তা দিলীপ কুমার আগরওয়ালা শুধু ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশে সাফল্য অর্জন করেননি, তিনি এলাকার উন্নয়নে প্রতিটি মহল্লা ও গ্রামের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখছেন। জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষাসহ সার্বিক উন্নয়নের নৌকা বেয়ে চলেছেন। অবহেলিত ও বঞ্ছিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন। আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ছোঁয়া সংবাদকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নির্মাণেও সহযোগিতা করছেন তিনি। গণমাধ্যম বান্ধব এই মানুষটির নামেই তৈরি হয়েছে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়াম।
    শতাধিক দেশে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ছুটে বেড়ালেও মুনাফার আশায় শুধু নয়, জনসেবা ব্রত কাজে লাগানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। শুধু মুনাফা নয়, সমাজ, দেশ ও গোটা বিশ্বের কল্যাণের জন্য ব্যবসাকে কাজে লাগাতে চান। এই মূলমন্ত্রে তার পিতামহের নামে গড়ে তোলেন দোয়ারকা দাস আগরওয়ালা মহিলা কলেজ। কলেজের শিক্ষার্থীদের বেতন নিয়মিতভাবে পরিশোধ করছেন নিজস্ব তহবিল থেকে। পিছিয়ে পরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে নিজ নামে তৈরী করে দিয়েছেন বিজ্ঞান ভবন।
    দিলীপ কুমার আগরওয়ালা তার সামাজিক কর্মকাণ্ডকে স্থায়ী রূপ দিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘তারা দেবী ফাউন্ডেশন।’ এ প্রতিষ্ঠান থেকে গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, নবজাতককে দেয়া হয় ফ্রি চিকিৎসা। ২৪ ঘণ্টা ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। শিক্ষাবৃত্তি, অতি দরিদ্র এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিলও প্রদান করা হয়। বিতরণ করা হচ্ছে শিক্ষা উপকরণ। মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রহণ করছেন বিভিন্ন বাস্তবমূখী কার্যক্রম। পরিকল্পনা করছেন চুয়াডাঙ্গায় একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের। জনকল্যাণমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি তিনি মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669