মঙ্গলবার, আগস্ট ২৪, ২০২১

ই-কমার্সে কেন অস্থিরতা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট ২০২১ | প্রিন্ট  

ই-কমার্সে কেন অস্থিরতা

বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে ই-কমার্স বিকশিত হচ্ছে। করোনার কারণে গত দেড় বছরে এ খাতের প্রসার হয়েছে ধারণারও বেশি। গত এক বছরে এর মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বেড়েছে ২০০ শতাংশের বেশি। তবে সম্প্রতি কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। সরবরাহকারীদের পাওনাও পরিশোধ করতে পারছে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অফিস বন্ধ রেখেছে। এসব ঘটনায় ই-কমার্স খাতের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। দেখা দিয়েছে আস্থাহীনতা। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ব্যাপক ডিসকাউন্টের বিতর্কিত মডেলের ব্যবসা, ক্রেতার সচেতনতার অভাব, তদারকিতে ঘাটতিসহ নানা কারণ এ খাতে অস্থিরতার জন্য দায়ী।
সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্যাপক ডিসকাউন্টের ফাঁদে দেশের প্রায় পাঁচ লাখ লোকের আট থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা আটকা পড়েছে। এর মধ্যে ক্রেতা আছেন আড়াই থেকে তিন লাখ। আর সরবরাহকারী রয়েছেন দেড় থেকে দুই লাখ। আট থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বেশিরভাগ গ্রাহকের টাকা আটকা পড়েছে। এর মধ্যে ইভ্যালি নিজেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে স্বীকার করেছে, তাদের কাছে ক্রেতা, পণ্য সরবরাহ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক পাওনাদারের ৫৪৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ধামাকা ডটকমের সরবরাহকারীরা বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এক চিঠিতে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির কাছে তারা ২০০ কোটি টাকা পাবেন। ই-অরেঞ্জের ক্রেতারা পাওনা টাকা ও পণ্যের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ১৫ দিনের মধ্যে টাকা দ্বিগুণ হওয়া এবং সেই টাকা দিয়ে ওয়েবসাইট থেকে কম দামে পণ্য কেনার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবসা করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বিরুদ্ধে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দালাল প্লাস, শ্রেষ্ঠ ডটকম এবং ফাল্কগ্দুনী শপের বিরুদ্ধেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। এ রকম আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের পাওনা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, ইভ্যালি বা আলোচিত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার মডেল টেকসই নয়। তাদের ডিসকাউন্টের প্রলোভনে প্রথমে অল্প কিছুসংখ্যক ক্রেতা এসেছে। এসব ক্রেতার প্রচারণার ফলে পরে আরও ক্রেতা এসেছে। এভাবে অনেক ক্রেতা তাদের আগাম টাকা দিয়েছে। এক পর্যায়ে তারা আর নতুন ক্রেতা পায়নি। ফলে সময় বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। কিন্তু এভাবে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। এ পদ্ধতিতে চলতে গেলে হয় নতুন ক্রেতা আসতে হবে, নতুবা বিনিয়োগকারী আসতে হবে। এর কোনোটা না এলে শেষের দিকে যারা টাকা দিয়েছে তারা লোকসানে পড়বে। তিনি বলেন, ই-কমার্স কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা কে কীভাবে করছে, তা নিয়ে। তিনি মনে করেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে নির্দেশিকা দিয়েছে, তার বাস্তবায়ন জরুরি। এখন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্দেশিকা অমান্য করার অভিযোগ এলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কেউ যেন কোনো ফাঁকফোকরের সুযোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার মডেলের কারণে এ খাতে এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা আগাম নিয়েছে। এখন চেষ্টা চলছে গ্রাহকের টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। যেসব প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কার্যক্রম করেছে তাদের সম্পদের হিসাব ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আগামীতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যেখানে আগাম পরিশোধ, সময়মতো পণ্য সরবরাহ, লেনদেন প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ই-কমার্সের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য ই-ক্যাবসহ সংশ্নিষ্ট সবার সঙ্গে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।


Posted ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১