• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ঈদযাত্রা : যানজটে জিম্মি প্রতিটি মহাসড়ক

    ডক্টর শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ | ২৩ জুন ২০১৭ | ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ

    ঈদযাত্রা : যানজটে জিম্মি প্রতিটি মহাসড়ক

    এবারের ঈদযাত্রা সম্পর্কে কেউই আশার বাণী শোনাতে পারছেন না। যোগাযোগমন্ত্রীর মুখেও ধ্বনিত হয়েছে হতাশার কথা। টানা বৃষ্টিপাত রাস্তাঘাটের অবস্থা এতটাই বেসামাল করে ফেলেছে যে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য কার্যত কোনো সুখবর নেই। ঈদযাত্রা জোরেশোরে শুরুর আগেই গত কয়েক দিন দেশের মহাসড়কগুলোতে যানজটের যে আভাস মিলেছে তা আতঙ্কিত হওয়ার মতো।
    যানজটে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়ক। দেশের উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের মির্জাপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে গত দুই দিন থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকসহ যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বৃষ্টি, গর্ত, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকল হওয়া ইত্যাদি কারণে এ পথে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া চার লেনের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার ৯২টি রুটে অন্তত ১২ থেকে ১৩ হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করছে।
    ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি অবাধে চলছে। এসব গাড়ির কোনো কোনোটি বিকল হয়ে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি করছে। সরু রাস্তা আর খানাখন্দের কারণে গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির কারণে যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না। এমন অবস্থা কমবেশি অন্যান্য মহাসড়কেও। বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বেশির ভাগ সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চালাতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। যারা স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে ঘরে ফিরছেন তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি না থাকলেও নিষ্ঠুর বাস্তবতা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলার যেসব অধিবাসী ঢাকা বা অন্যান্য জেলায় কর্মরত তারা সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন। ইচ্ছা থাকলেও তাদের পক্ষে ঈদে স্বজনদের কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
    এদিকে চলতি বছর ঢাকা খুলনা মহাসড়কের ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে শিমুলিয়া–কাঠালবাড়ি ঘাট হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৬ কিলোমিটার মহাসড়ক ২ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নতির কাজ শুরু হয়েছে। মহাসড়কের কাজে প্রতিনিয়ত বিপুল সংখ্যক গাড়ি মালামাল লোড আনলোড করায় বর্তমান ২ লেনের সড়কে এবারের ঈদে যাত্রীদের ভোগান্তি ও দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হবে। মহাসড়কেই গাড়ির দীর্ঘ যানজটের আশংকা করছেন যাত্রীরা। তার সাথে মাটির কাজ চলায় অনেক স্থানে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ঢালের। ফলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই রয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার চরম ঝূকি। রয়েছে কর্দমাক্ত পরিবেশও। ভাঙ্গা, মালিগ্রামসহ কয়েকটি স্থানে রয়েছে অস্থায়ী বাজার।
    জরাজীর্ন ও ভাঙ্গাচুড়ার কারনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গত কয়েক বছরের ঈদসহ সারা বছরই দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহালেও এবার অনেকটাই স্বস্তি রয়েছে। এই বৃষ্টির মাঝেই মহাসড়কটির টেকেরহাট থেকে মোস্তফাপুর পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটারে তড়িঘড়ি করে সংস্কার নামক জোড়াতালি চলায় লক্করঝক্কর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বৃষ্টির মধ্যে কাজের মান নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। বড়ইতলা থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশ ও মোস্তফাপুর থেকে ভূরঘাটা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশে আগেই সংস্কার হওয়ায় পরিস্থিতি সহনীয়। মাত্র দুই লেনের অতি ব্যস্ত এই মহাসড়কের রাজৈরের কালীবাড়ির বিপদজনক মোড়টি ডিভাইডার দিয়ে ৪ লেনের কাজ শেষ পর্যায়ের সংবাদটি স্বস্তির হলেও এখনো রয়ে গেছে অসংখ্য ঝূকিপূর্ণ বাক। ২ লেনের সরু অতি ব্যস্ত মহাসড়ক জুড়েই এজিনের পাশের মাটি সরে যাওয়ায় চরম দূর্ঘটনার ঝূকি রয়েছে।
    সম্প্রতি এ রুটে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংর্ঘষে ৩ জন নিহত ও ২০ জন যাত্রী আহতসহ প্রতি নিয়ত ২ লেনের সরু এই মহাসড়কে দূর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষের প্রানহানী ও অঙ্গহানী ঘটে।
    দেশের অভ্যন্তরীণ সড়কের বেশির ভাগই বেহাল দশা। কোন সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ইট সুরকি উঠে গিয়ে একাকার। সামান্য বৃষ্টিতে অনেক সড়কে কাদাপানিতে ডুবে থাকে। এসব সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে যানবাহন। ঈদুল ফিতরে এসব সড়ক দিয়ে ঘরমুখী মানুষের চাপ বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। ফলে বেহাল সড়কের কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে অনেক বেশি।
    দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৮০ ভাগ সড়কেরই বেহাল দশা। তার পরও যানবাহন চলছে অনেকটা বাধ্য হয়ে। ঈদের মধ্যে আরো ঝুঁকি নিয়ে চলবে এসব যানবাহন। এলজিডির আওতাধীন সড়কেরও বেশির ভাগ পিচ উঠে খানাখন্দে ভরে গেছে। অনেকে সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে আবার অনেকের অবস্থা এতই খারাপ যে, সেগুলো নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া সড়কে বড়-বড় গর্ত ও বিপজ্জনক খানাখন্দ মেরামত করতে হবে।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী থেকে ঢাকা চট্রগ্রাম, ঢাকা সিলেট, ঢাকা ময়মনসিংহ , ঢাকা আরিচা মহাসড়কসহ ৭২টি মহাসড়কে ঈদের সময় মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ যাতে কম থাকে সেদিকে নজর দিলেও আঞ্চলিক সড়কে মহাদুর্ভোগে পড়তে হবে মানুষকে। এছাড়া জেলা পর্যায়ের সড়কগুলোর আরো করুণ দশার কারণে ঈদের সময় মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। বেহাল সড়কের কারণে একদিকে যেমন তৈরি হবে ভয়াবহ যানজট। অন্যদিকে পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষের সীমাহীন কষ্ট বেড়ে যাবে।
    ঈদ যাত্রায় বরাবরই থাকে পথের বাধা। বেহাল সড়ক-মহাসড়ক ঘরমুখী মানুষের বিড়ম্বনার কারণ হয়। এবারও তেমনটি ঘটবে না, তা কে বলতে পারে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এখনই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো কখনো এ মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ মহাসড়কের চার লেনের কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে বংশাই নদীর সেতু দেবে গেছে। ফলে এখন থেকেই বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও যাত্রীদের ভুগতে হবে-এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও বাড়তি যাত্রীর চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কোচ ও ইঞ্জিন সংযোজনের চেষ্টা করছে। ঢাকার সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী লঞ্চের আগাম বুকিং শুরু হয়েছে। এবারও যথারীতি পুরনো লঞ্চ ঘষেমেজে রং লাগানো হচ্ছে-এমন ছবিসহ খবর এসেছে পত্রিকায়।
    পরিশেষে বলছি, বর্তমান সরকারের গত আট বছরে ঈদের সড়ক ব্যবস্থাপনা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। এ ব্যাপারে মন্ত্রীদের দৌড়ঝাঁপও প্রশংসা কুড়িয়েছে। এবার তারা আরও বেশি সক্রিয় হলেও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নির্বিঘ্ন যাতায়াত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগ এড়ানো না গেলেও তা যাতে সীমিত থাকে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা তৎপর হবেন এমনটিই আশা করা যায়।

    লেখক : অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম এবং প্রধান সম্পাদক দৈনিক আজকের অগ্রবাণী। advahmed@outlook.com


    Facebook Comments Box


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757