• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    এইচএসসিতে ছেলেকে টপকে মা-খালার সাফল্য

    অনলাইন ডেস্ক | ২৩ জুলাই ২০১৭ | ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

    এইচএসসিতে ছেলেকে টপকে মা-খালার সাফল্য

    মা, ছেলে ও খালা একসঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফলের সাথে পাশ করায় আনন্দের জোয়ার বইছে নাটোর শহরের মলিকহাটি এলাকার রুহুল আমিনের বাড়িতে। জানা যায়, ছেলেকেই টপকে ভালো ফলাফল করেছেন মা। আর মাকে টপকে আরো ভালো ফলাফল করেছে ছেলের খালা।


    চলতি বছর কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেড থেকে এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশ নেয় রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব আমিন। সে পেয়েছে জিপিএ ৩.৬৭। আর ২২ বছর পর আবারও নাটোর মহিলা কলেজ এইচ এস সি পরীক্ষায় বসেন মা শাহানাজ বেগম। অর্জন করেন জিপিএ-৪.৮৩। অপরদিকে খালা মমতা হেনা মা শাহনাজ বেগমের সাথে একই কলেজে কম্পিউটার অপারেশন ট্রেডে ভর্তি হয়ে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে অর্জন করেন জিপিএ-৪.৮৮।

    ajkerograbani.com

    একই পরিবারের এই তিনজনকে একসাথে পাশ করতে দেখে চমকে গেছেন অনেকেই। ফলাফল ঘোষণার পরপরই তাদের একনজর দেখতে অনেকেই ভীড় জমাচ্ছেন শহরের মলিকহাটি এলাকায় তাদের বাড়ীতে।

    জানা যায়, ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাশ করেন রুহুল আমিনের স্ত্রী শাহানাজ বেগম। তারপর আর পড়া হয়নি তার। এক পুত্র ও এক কন্যার জননী শাহানাজ বেগম তার সন্তানদের পড়ালেখা করাতে গিয়ে আবারও পড়াশোনার প্রতি টান অনুভব করেন। তাই ২২ বছর পর আবারও নাটোর মহিলা কলেজ এইচ এস সি পরীক্ষায় বসেন এই মা। এই শাহনাজ বেগমের ফুপাতো বোন মমতা হেনা যখন দেখলেন তার মামাতো বোন এতদিন পর আবারও পড়াশোনা শুরু করেছে, তখন তিনিও শুরু করেন পড়াশোনা। ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাশ করার ২৪ বছর পর আবারো হাতে তুলে নেন বই। এরপর দুই বোন একই কলেজে কম্পিউটার অপারেশন ট্রেডে ভর্তি হয়ে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে।

    মায়ের ভালো ফলাফলে খুব খুশী ছেলে রাকিবও। রাকিব জানায়, অর্থিক সমস্যার কারণে তার তিনটি বই কেনা হয়নি। ধার করতে হয়েছে অন্যদের থেকে। তার চেয়ে ভালো রেজাল্ট করলেও কোন কষ্ট নেই বরং আনন্দ এজন্য যে, তার মা ও খালা এতকিছুর পরও প্রমাণ করতে পেরেছেন, ইচ্ছা থাকলেই করা যায় যে কোন কিছু।

    ২২ বছর পর ছেলের সাথে পরীক্ষা দিয়ে এমন ফলাফল অর্জনের বিষয়টি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না রাকিব আমিনের মা শাহনাজ বেগম। এ বিষয়ে তিনি জানান, এই ফলাফলের নেপথ্যে যা কাজ করেছে, তা ইচ্ছাশক্তি। অনেক কষ্ট করে ছেলে মেয়েকে বড় করার পর নিজেরও মনে হয়েছে একটু পড়াশোনা করতে পারলে ভালো হতো। কিন্ত দুই সন্তানের পর নিজের পড়ালেখার খরচ চালানোর সামর্থ্য আমার ছিলো না। আবার পড়াশোনা শুরু করার ইচ্ছার কথা শুনে এগিয়ে আসেন বাবা হাজী শাহজাহান আলী ও ভাই কাউসার আলী। পড়াশোনার জন্য বই দেন ভাই, পড়তে সহযোগিতা করে ছেল-মেয়ে আর ফর্ম পূরণের টাকা দেন আমার বাবা। স্বামী দিয়েছেন অনুপ্রেরণা। এভাবেই আমার অর্জন আজকের ফলাফল। আজ থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনের আকাঙ্খা আরো বেড়ে গেলো। সুযোগ পেলে আমি আরও পড়াশোনা করতে চাই।

    খালা মমতা হেনা পাশের খবরে খুশিতে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘নতুন করে পড়াশোনা করতে গিয়ে উৎসাহ পেয়েছি আমার ভাই ও মেয়ের থেকে। আর বাকীরা করেছে উপহাস বিদ্রুপ। পড়তে গিয়ে আর্থিক টানাপোড়েন পোহাতে হয়েছে প্রচুর। অন্যদের মতো প্রাইভেট পড়তে পারিনি, ভাই ও মেয়ে তখন সাহায্য করেছে। নতুন বই কিনতে পারিনি, পুরাতন বই কিনেছি। দুই বোন মিলে একসেট বই কিনে পড়েছি। বড় মেয়ের টাকায় ফর্ম পূরণ করেছি। এভাবেই প্রতিকূলতাকে জয় করে আজ পাস করলাম, এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে?

    মমতা হেনার কন্য সুরাইয়া সূচী বলেন, গত বছর আমি এইচ এসসি পাশ করার পর আমার মাকে আবারও পড়তে বলি কেননা আমি যখন মায়ের গর্ভে তখন আমার জন্য তিনি পড়ালেখা ছেড়েছিলে। আমার কথায় মা আজ পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করেছেন এর জন্য আমার আনন্দের আর কোন সীমা নেই। আজকে আমার মায়ের জন্য আমরা গর্বিত।

    এদিকে মেয়ে ও নাতির ভালো ফলাফলের সংবাদে খুশি শাহানাজ বেগমের পিতা হাজী শাহজাহান আলী। তিনি বলেন, জীবন সায়াহ্নে এসে এমন ঘটনা তাকে গর্বিত করেছে। তিনি জানান, মেয়ে ও নাতির জন্য তিনি সামর্থ্য মত সবকিছু করবেন।

    রাকিব আমিনের পিতা রহুল আমিনও খুশী স্ত্রী-সন্তানের ফলাফলে। তিনি বলেন,‘একজন স্বামী ও বাবা হিসেবে আমি গর্বিত। ছেলের সাথে মায়ের পড়ার সময় অবাক হয়েছিলাম আমি। ভাবনা ছিল পারবে কি না। অথচ সব শঙ্কা দূর করে আর দশজনের মত রাকিবের মাও পাশ করলো ভালো ফলাফল করলো।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755