• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    “একজন প্রেমার গল্প বলছি”

    মাসুদ রানা, রিয়াদ সৈদী অারব প্রবাসী | ০২ আগস্ট ২০১৭ | ৯:১৩ অপরাহ্ণ

    “একজন প্রেমার গল্প বলছি”

    ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে গণিতে এম.এ করা বর্ষার দিনে ভারী বৃষ্টির পর সবুজ গাছ পালা গুলো যেমন সতেজ দেখায় তেমন, কিংবা, শীতের দিনে শিশির ভেজা ভোরের ঘাষ যেমন কোমল আর স্নিগ্ধ দেখায় তেমন, লজ্জা বতি লতার মত অসম্ভব লাজুক এক মেয়ের কথা বলছি, উচ্চ শিক্ষিত, মার্জিত, ভদ্র, হুমায়ুন আহমেদ এর উপন্যাস এর নায়িকা “রুপা”র মত এক মেয়ে। গল্প উপন্যাস ছাড়া ও যে এমন মেয়ে থাকতে পারে এই মেয়ের সাথে পরিচয় না হলে জানতে পারতাম না। এই পর্যন্ত শুনে হয়তো আপনাদের ভাল লাগছে।


    কিন্তু বাস্তবতা কত নির্মম সেটা শুনুন….

    ajkerograbani.com

    একটা ইন্টারনেসোনাল অর্গানাইজেশন এ থাকা অবস্থায় প্রেমার বিয়ে হয় আকমল ( ছদ্দ নাম) এর সাথে। প্রথম প্রথম কিছু টের না পেলেও আস্তে আস্তে প্রেমার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে ওঠে, কত বড় ভুল সে করেছে। ভদ্রতার মুখস পরা, নারী লোভি, মদ্দ্যপ আকমল এর সাথে কয়েক মাস না জেতে এ বুঝতে পারে মানুস কত টা নির্মম কত টা নিষ্ঠুর হতে পারে। প্রতি দিন রাত করে মদ্দ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরা, তার মোটা অংকের বেতনের প্রায় সবটা ই জোর করে নিয়ে নেয়া। এটা ছিলো নিত্ত্য ঘটনা। প্রথম প্রথম তাকে সঠিক পথে আনার সব চেষ্টা ই প্রেমা করে কিন্তু সে ব্যর্থ হয়। লোক লজ্জার ভয় সে সব কিছু মুক বুঝে সহ্য করে। এর। মাঝে তার কোল জুড়ে আসে এক রাজপুত্র মত ছেলে। প্রেমা ভেবেছিল ছেলের মুখের দুকে তাকিয়ে আকমল ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু ঘটলো উল্টোটা। প্রেমা চাকরি ছেড়ে দিয়েছে সুনে তার প্রতি শারিরিক নিরজাতন চালাতে লাগলো। এভাবে আর কত! তারপর ও আমাদের সমাজের তথাকথিত নিয়ম কে মেনে সে সব সহ্যকরে যায়। অবশেষ, নিজের আর নিজের বাচ্চার নিরাপদ ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে প্রেমা আকমল কে তালাক দেয়। কিন্তু এতে ও আকমল তার পিছু ছাড়ে না। বাধ্য হয়ে প্রেমা কোন এক ইউরোপ এর দেশে পাড়ি জমান। বেচে থাকার জন্ন্য, নিজের ছেলের সুন্দর ভবিষ্যৎ এর কথা মাথায় রেখে বাংলার লাজুক এক নারি সাথ সমুদ্দুর পাড়ি দিয়ে চিলে জায় অচেনা অজানা এক দেশে। সকাল, দুপুর রাত চোখের জলে তার দিন কাটতে থাকে। ইতিমধ্যে তার সাথের নিয়ে আসা ডলার ও শেশ হয়ে আসে। সে দুচোখে আধার দেখে। সেশমেশ তার ঠাই হয় ” হোম্লেস শেল্টার” এ কয়েক মাশ এই শেল্টার এ মানবেতার জীবন কাটিয়ে সে একটা চাকরি নিয়ে কলেজ করতিপক্ষের দেয়া ছোট্ট একটি ফ্লাট এ ছেলে কে নিয়ে ওঠে। কিন্তু আকমল এরপর ও থেমে থাকে নাই। প্রতিদিন প্রেমার বাড়ির লোকজন কে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে। সে তার ছেলে কে ফেরত নেয়ার অজুহাতে ইউরোপ জেতে চায়। এদিকে মা বাবা ভাইদের জাতে কোন ক্ষতি আকমল করতে না পারে এই ভেবে প্রেমা কোন আইনি সহাওতা ও নেয় না। ভদ্র ভাবে বেচে থাকতে চাওয়া যে কত বড় অপরাধ, ইচ্ছা করলেই সব অন্ন্যায়ের প্রতিবাদ করা জায় না।

    এখন আর কোন ভালোবাসা ই প্রেমার ভালোবাসার নদিতে ঢেউ তুলতে পারে না। সে আজ হাসতে ভুলে গেছে। সে আবেগহীন এক যন্ত্র তে পরিনত হয়েছে।

    এটা সুধু প্রেমার গল্প না, বাংলার প্রতিটা গ্রামে, বন্দরে, শহরে এরকম হাজার ও প্রেমার গল্প আছে, অনেকে সইতে না পেরে জীবন দিচ্ছে আর অনেকে ভালোবাসার দেবি থেকে পরিনত হচ্ছে আবেগহীন মুরতিতে। একজন পুরুষ হিসেবে এই লজ্জা কি আমার আপনার একটু ও লাগে না!

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755