• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এক ইউনিয়নের ৭ কলেজ এমপিওভুক্ত

    ডেস্ক | ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৫:১৭ অপরাহ্ণ

    এক ইউনিয়নের ৭ কলেজ এমপিওভুক্ত

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নে সাড়ে ২৩ হাজার মানুষের বিপরীতে উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য ৭টি এমপিওভুক্ত কলেজ রয়েছে। সদ্য সেখানকার একটি কলেজকে এমপিওভুক্ত করা হয়। কলেজটি সকল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এমপিওভুক্ত হওয়ায় জেলাব্যাপী আলাচনার ঝড় উঠেছে।

    জানা গেছে, এর আগে ওই ইউনিয়নে এমপিওভুক্ত ৬টি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার পরও নতুন একটি কলেজকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে ওই ইউনিয়নের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মোট ৭টি। কিন্তু ওই ইউনিয়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে মাত্র ৪টি। যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি বা সমমান পাশ করে কলেজে ভর্তি হন। স্থানীয় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের অভিযোগ, একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সময় এখানকার এসব কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেয়।


    উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নে মোট জনসংখ্যা ২৩ হাজার ৪০২ জন। এখানে উচ্চ শিক্ষার জন্য রয়েছে একটি টেকনিক্যাল কলেজ, ১টি ডিগ্রী কলেজসহ ৪টি কলেজ ও একটি কামিল আলীয়া মাদ্রাসাসহ ৩টি মাদ্রাসা। এর মধ্যে দেবীপুর ফাজিল মাদ্রাসাটি শতবর্ষী। কিন্তু সম্প্রতি ওই ইউনিয়নের মিরুখালী স্কুল এন্ড কলেজকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখা চালু করার পর সেটির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল ওই প্রতিষ্ঠানটির একাদশ শ্রেণীর প্রাথমিক পাঠদান অনুমতি ও স্বীকৃতি বাতিলের জন্য হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন।

    অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি পেয়ে এমপিও ভুক্তির সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে একই বছর এমপিওর জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। সে মোতাবেক গত কয়েকদিন আগে ঘোষিত এমপিওর তালিকায় তা প্রকাশ পায়।

    ওই কলেজের একাডেমিক স্বীকৃতির অনুমতি প্রদানের আদেশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২২ জুন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. মো. লিয়াকত হোসেন এ প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক স্বীকৃতির অনুমতি প্রদান করেন। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর ২০১৬ সালে এতে পাশের হার ৫৬ শতাংশ হলেও ২০১৯ সালে এ হার ছিলো মাত্র ২০ শতাংশ।

    জানা গেছে, সদ্য এমপিও তালিকাভুক্ত এ কলেজটির এমপিও বাতিলের দাবীতে মিরুখালী কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহাবুবুল হক শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেছেন। ওই আবেদন সূত্রে জানা গেছে, মিরুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ২০১৩ সালে একাদশ শ্রেণী খোলা হয়। এতে পার্শ্ববর্তী মিরুখালী কলেজের দূরত্ব ৮ শত মিটার হলেও দেখানো হয়েছে ৪ কি.মি।

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আ. সোবহান শরীফ জানান, জনসংখ্যা ও দূরত্বের দিক থেকে এখানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠান চাহিদার থেকে বেশীই রয়েছে। তা ছাড়া সম্প্রতি এখানকার মিরুখালী স্কুল এন্ড কলেজটিকে এমপিওভুক্ত করার পর এলাকায় আরো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী সংগ্রহে বেশ সমস্যার সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঙ্খিত শিক্ষার্থী নাই।

    স্থানীয়রা জানান, এসব কলেজ একটি অপরটির প্রায় কাছেই এবং এর একটি থেকে অপরটিতে পায়ে হেঁটেই যাওয়া যায়। এর সর্বোচ্চ ভাড়া ১০টাকার বেশী নয়।

    উপজেলার মিরুখালী, দাউদখালী, টিকিকাটা ও ধানীসাফা এ ৪ ইউনিয়নের প্রায় ৯৮হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে একটি কলেজের প্রাপ্যতা দেখানো হলেও নতুন এমপিওভুক্ত ওই প্রতিষ্ঠানটি মিরুখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর অন্য ইউনিয়নগুলোর প্রত্যেকটিতেও রয়েছে একাধিক উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

    এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এমন নিকটবর্তী দূরত্বে নতুন প্রতিষ্ঠান থাকার কথা নয়। এ বিষয়ে সুপারিশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী