সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

এমপি হলেও চিকিৎসা পেশা ছাড়বেন না প্রাণ গোপাল দত্ত

ডেস্ক রিপোর্ট   |   সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  

এমপি হলেও চিকিৎসা পেশা ছাড়বেন না প্রাণ গোপাল দত্ত

কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তবে তিনি সংসদ সদস্য হলেও চিকিৎসা পেশা ছাড়বেন না। আগের মতোই দেখে যাবেন রোগী।
সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি জানিয়েছেন তিনি।

দেশে নাক, কান, গলা রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতির চূড়ায় নাম লিখিয়েছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব ও চিকিৎসা সেবার জন্য পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসক হিসেবেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।


সাবেক ডেপুটি স্পিকার মো. আলী আশরাফের মৃত্যুতে শূন্য কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়পত্র জমা দেন তিনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রাণ গোপাল বাদে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় সোমবার তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এখন শুধু গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় আছেন তিনি। গেজেট প্রকাশের পর শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যাত্রা শুরু করবেন এ চিকিৎসক। গত বছরেই তার জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দল থেকে তাকে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি।


এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সংসদ সদস্য হলেও চিকিৎসা পেশা ছাড়বেন না। আগের মতোই রোগী দেখে যাবেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা ডা. বিধান চন্দ্র রায়কে পথ প্রদর্শক হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘৮০ বছর বয়সে ডা. বিধান রায় পহেলা জুলাই ১৯৬২ সালে মারা গেছেন। উনি ৩০ জুন ১৯৬২ পর্যন্ত সন্ধ্যার পরে ১৫টা রোগী দেখে ঘুমাতে গিয়ে তারপরে মারা যান। আমিও চাই- আমারও একটা এরকম সাডেন ডেথ হোক। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্তও যেন আমি চিকিৎসা সেবা দিতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমি ডাক্তারি ছাড়ব না। আমি বিশ্বাস করি, এ ডাক্তারি আমাকে এ জায়গায় এনেছে। সবচেয়ে বড় কথা হল, ৬৮ বছর বয়সে আমি যা অর্জন করেছি, রাজনীতিতে গিয়ে সব বিসর্জন দেব না। আমার অর্জনের পরিধিটা আমি ধারণের চেষ্টা করব। এটাই হল আমার কথা।’

এর আগে যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত, জাতীয় পার্টির লুৎফর রেজা ও ন্যাপের মো. মনিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে জাতীয় পার্টির লুৎফর রেজা ও ন্যাপের মো. মনিরুল ইসলাম তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

ন্যাপের মনিরুল ইসলামের প্রসঙ্গে প্রাণ গোপাল বলেন, ‘উনি আমার ছাত্র, আমার বড় ভাইয়েরও ছাত্র। আমার বাড়ির পাশের। আমি মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে এসে গ্রামের স্কুলে মাস্টারি করেছিলাম, আমার বড় ভাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। উনাদের ছাত্র ওই প্রার্থী।’

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়াতে তাদের ছাড় না দেওয়ার প্রবণতা থেকে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন (তারা)। যখন দেখা গেল আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী দাঁড়ায়নি, তখন তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীও অসম্ভবভাবে আমার প্রতি কৃতজ্ঞ।’

সংসদ সদস্য হওয়ার পর কিভাবে জনগণের সেবা করবেন সেই পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগামীর সব পরিকল্পনাও আপনাদের জানাব।’

প্রাণ গোপালের জন্ম ১৯৫৩ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার চান্দিনায়, পড়াশোনার শুরু সেখানেই। ১৯৬৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করার পর ভর্তি হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে।

১৯৭০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর প্রাণ গোপালের ইচ্ছা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার, ভর্তিও হয়েছিলেন। কিন্তু বাবার ইচ্ছায় পড়তে হয় মেডিকেলে, ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে।

মেডিকেলের ছাত্র থাকা অবস্থায় একাত্তরে অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে নামেন দেশকে স্বাধীন করতে। স্বাধীনতার পর ফিরে যান আবার মেডিকেল কলেজে, ১৯৭৬ সালে এমবিবিএস পাস করেন। যোগ দেন সরকারি চাকরিতে। চার বছর পর উচ্চ শিক্ষার জন্য যান তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে।

১৯৮৩ সালে দেশে ফিরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন প্রাণ গোপাল। সেখান থেকে নানা পদ-প্রতিকূলতা পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে আসেন। দুই মেয়াদে এই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১২ সালে চিকিৎসাবিদ্যায় স্বাধীনতা পুরস্কার পান প্রাণ গোপাল দত্ত ।

Posted ১০:৩৪ পিএম | সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement