• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    এরপর কে?

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক | ২৭ অক্টোবর ২০১৭ | ১১:১৩ অপরাহ্ণ

    এরপর কে?

    এ অঞ্চলের রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকের নাম অবশ্যই মীর জাফর। এখনো রাজনীতিতে পদস্খলন, বিশ্বাসভঙ্গকারীকে মীর জাফর হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মীরজাফর তুল্য বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক। ফারুক, রশীদ, ডালিম সহ ৭৫ এর খুনিদের জাতি বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই চিহ্নিত করে। বঙ্গবন্ধু সেনাপ্রধান করেছিলেন মেজর জেনারেল শফিউল্লাকে। উপ-প্রধান করেছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। এ দুজনকেই আওয়ামী লীগ বিশ্বাসঘাতক মনে করে। ৭৫ এর ১৫ আগস্টে আওয়ামী লীগের চোখে বিশ্বাসঘাতকের তালিকা বেশ দীর্ঘ।


    জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন জিয়া। জিয়াকে ক্ষমতায় বসানোর প্রধান ভূমিকা ছিল কর্নেল তাহেরের। জাসদ আজও জিয়াকে ‘মীরজাফর’ হিসেবেই মূল্যায়ন করে।


    জিয়াউর রহমান তাঁর ক্ষমতা পোক্ত করতে পাকিস্তান ফেরত হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে সেনাপ্রধান করেছিলেন। এখনো বিএনপি বিশ্বাস করে, জিয়ার হত্যায় এরশাদের হাত ছিল। বিএনপির চোখে এরশাদ তাই বিশ্বাসঘাতক।

    এরশাদ তাঁর নয় বছরের ক্ষমতা হারান গণঅভ্যুত্থানে। কিন্তু তিনি মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল নুরুদ্দিন তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। এরশাদের প্রতি সেনাপ্রধান ৯০ এ আনুগত্য প্রত্যাহার করেন।

    বিএনপি খুব শখ করে জেনারেল নাসিমকে সেনাপ্রধান করেছিল ৯৫ সালে। কিন্তু ৯৬ এ বিএনপির রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস তাঁকে বরখাস্ত করে। এখনো বিএনপি জেনারেল নাসিমকে বিশ্বাসঘাতক মনে করে।

    ৯৬ এ আওয়ামী লীগ শ্রদ্ধা দেখিয়ে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিল। আওয়ামী লীগের কাছে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন এখন স্রেফ একজন বিশ্বাসঘাতক। আওয়ামী লীগ প্রধান নির্বাচন কমিশনার করেছিলেন সাবেক আমলা এম এ সাঈদকে। তিনিও মীর জাফরের তকমা পেয়েছেন।

    ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করেছিলেন। এখন তিনি বিএনপির কাছে মীর জাফরের চেয়েও ঘৃণিত এক নাম। সাতজনকে ডিঙ্গিয়ে জেনারেল মঈন ইউ আহমেদকে সেনাপ্রধান করেছিলেন বেগম জিয়া। বিএনপি তাঁকে চরম বিশ্বাসঘাতক মনে করে।

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার গায়ে বিশ্বাসঘাতকতার তকমা লেগেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জিয়া প্রেম নিয়ে আওয়ামী লীগ লা জবাব।

    দেখা যাচ্ছে, স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটা সরকারের আমলেই এক বা একাধিক ‘মীর জাফর’ খেতাব পেয়েছে। ওই কথিত ‘মীর জাফর’ সরকার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে।

    সাধারণ মানুষের কৌতুহল, পরের মীর জাফরের মুকুটটা কে পরবে, কে হবেন পরবর্তী বিশ্বাসঘাতক?

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673