• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    এসএসসি পাস জালাল অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ!

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ১৮ এপ্রিল ২০১৭ | ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

    এসএসসি পাস জালাল অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ!

    ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাত্র দুইশ’ গজ দূরের ‘রুবেল এক্স-রে ক্লিনিক’। এখানে চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা। এনালগ এক্স-রে মেশিনের মাধ্যমে মফস্বলের সহজ-সরল মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছেন জালাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি।


    ওই ক্লিনিকের লোকজনের দাবি, জালাল একজন ‘অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ’। সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রোগী দেখেন তিনি।

    ajkerograbani.com

    কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, জালাল অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ হওয়া দূরে থাক তিনি কোনো চিকিৎসকই নন। তিনি মাত্র এসএসসি পাস। হাতুড়ে ডাক্তার বাবার সূত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজেছেন তিনি।

    স্থানীয়রা জানান, জালালের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পোড়াবাড়ি গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল হেকিম। তিনি ‘হাড়ভাঙা চিকিৎসা’ করেন।

    জালাল স্থানীয় চরজিথর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর বাবার সূত্রে ‘হাড়ভাঙা চিকিৎসা’র পেশায় জড়িয়ে পড়েন।

    শনিবার গৌরীপুরের উত্তর বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, ‘রুবেল এক্স-রে ক্লিনিকের’ সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন।

    সেখানে কথা হয় কোনাপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে হারুন মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, শুক্রবার ঢাকায় একটি গার্মেন্টে কাজ করার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে তা বাম পা ভেঙে গেছে। পরিবার ঢাকায় চিকিৎসা না করে তাকে কথিত অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ জালালের কাছে নিয়ে আসে।

    ক্লিনিকটিতে রামগোপালপুর ইউনিয়নের কান্দুলিয়া গ্রামের মো. আজাদ মোস্তফার কন্যা এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানা আক্তারকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

    হোঁচট খেয়ে ফারজানার পায়ের আঙ্গুলের হাড় ভেঙ্গে গেছে। এই নিয়ে তিনবার প্লাস্টার করা হয়েছে।

    হাটশিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র অরবুলার ভাঙা বামহাতেও চিকিৎসা চলছে। খেলতে গিয়ে বাম হাত ভেঙে যায়। সে হাটশিরা গ্রামের শামীম মিয়ার ছেলে।

    অগ্রদূত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. হৃদয় মিয়া। সে কোনাপাড়া গ্রামের মো. ইউসব আলীর ছেলে। তারও চিকিৎসা চলছে ক্লিনিকটিতে।

    জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন চার বছর যাবৎ বিকল। এখানে অর্থোপেডিক্স বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই।

    এই সুযোগে এনালগ মেশিন আর কথিত বিশেষজ্ঞ জালালকে দিয়ে ব্যবসা খুলে বসেছে ‘রুবেল এক্স-রে ক্লিনিক’। হাতুড়ে চিকিৎসা নিয়ে দু-একজন ভালো হলেও অধিকাংশ মানুষই প্রতারিত হচ্ছেন। ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করছেন।

    পৌর শহরের উত্তরবাজারের বাবুল মিয়া জানান, তার ২৩ মাসের শিশু সন্তান লিমন মিয়াকে হাতে ব্যথার কারণে জালালের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    সেখানে লিমনকে এক্স-রে করার পর জালাল বলেন, তার হাড় ভেঙে গেছে। বিষয়টি সন্দেহ হলে শিশুটিকে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে বলা হয় তার হাড় ভাঙেনি।

    ভুল চিকিৎসার শিকারদের একজন হলেন পৌর শহরের বাড়িওয়ালাপাড়ার নজিবুর রহমানের ছেলে শাহীন রহমান। তিনি বলেন, ‘গত নভেম্বর মাসে এক দুর্ঘটনায় আমার ডান হাতের আঙ্গুলের হাড় ভেঙে যায়। জালালের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আঙ্গুলের অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।’

    এরপর অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও তার হাতের আঙ্গুল আর ঠিক হয়নি বলে জানান শাহীন।

    এ ব্যাপার জানতে চাইলে প্রথমে কথিত বিশেষজ্ঞ জালাল উদ্দিন যুক্তি দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালেও মানুষ পঙ্গু হয়।’

    পরে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস বলে স্বীকার করেন জালাল। তিনি বলেন, রোগীদের ব্যথানাশক ও বিভিন্ন এন্ট্রিবায়েটিক ওষুধ লিখে দেন। এসব ওষুধে কোনোরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলেও দাবি করেন জালাল।

    তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেন ‘রেজিস্টার্ড মেডিকেল অফিসার’ ব্যতীত এসব ওষুধ লেখার ক্ষমতা কারো নেই। তবে ওষুধ লেখার বৈধতা অর্জনের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে এমএলএফ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে দাবি করেন জালাল।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. এনামুল কবীর জানান, ডাক্তারী প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসাশাস্ত্রে অভিজ্ঞতা ছাড়া এই চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার জানান, ডাক্তারের সনদ ব্যতীত এ চিকিৎসা অবৈধ ও টাকা-পয়সা নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। [LS]

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757