সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

এ মাসেই দায়িত্ব নিতে পারেন ঢাকার দুই মেয়র

ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

এ মাসেই দায়িত্ব নিতে পারেন ঢাকার দুই মেয়র

ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে গত পয়লা ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নির্বাচিত দুই মেয়র মে মাসের আগে দায়িত্ব নিতে পারবেন না এমনটি আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে। কারণ ২০১৫ সালে যে মেয়র নির্বাচন হয়েছিল সেই নির্বাচনের মাধ্যমে যে দুজন ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তারা ১৫ মে শপথ নিয়েছিলেন। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী এই দুই মেয়রের মেয়াদ অবসান হবে ২ মে। তারপর নতুন মেয়ররা দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রশ্ন উঠেছে, মে মাসেই যদি দায়িত্ব নেওয়া হয় তাহলে কেন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো? নির্বাচন কমিশন এর ব্যাখ্যা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ার নব্বই দিন আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হয়। সেই বিবেচনায় এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল মার্চে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা, মার্চে মুজিববর্ষ, এপ্রিলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার রুটিন রয়েছে। তাছাড়া ২৩ এপ্রিল থেকে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণেই নির্বাচন কমিশন জানুয়ারির শেষ প্রান্তে যেটা পরবর্তীতে ১ তারিখে নির্বাচন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দ্রুত নির্বাচন হওয়ার পর এখন যেটা হয়েছে তা হলো, ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনেই অচল অবস্থা তৈরী হয়েছে।
উত্তরে মেয়র আতিকুল ইসলাম পদত্যাগ করে নির্বাচন করেছেন। কাজেই সেখানে কোন মেয়র নেই। প্যানেল মেয়র দিয়ে রুটিন কাজ চালানো হচ্ছে। দক্ষিণে সাঈদ খোকন এবার মনোনয়ন পাননি। তার বদলে মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস। সেই কারণেই বিদায়ী মেয়র সাঈদ খোকন এখন রুটিন কাজের বাইরে কোন কাজে আগ্রহী হচ্ছেন না। কারণ নতুন মেয়র এসে নতুন আঙ্গীকে সিটি কর্পোরেশনকে এগিয়ে নিবেন। এই বিবেচনা থেকেই তিনি তার কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলেছেন। এরফলে দুই সিটির কার্যক্রমেই একটা স্থবিরতা তৈরী হয়েছে। আর এই বাস্তবতায় স্থানীয় সরকারের আওতায় কিভাবে নতুন দুজন মেয়রকে মেয়াদ অবসানের আগেই মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া যায় সে ব্যাপারে পরীক্ষা নীরিক্ষা করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, এতদিন নব নির্বাচিত মেয়রদের বসে থাকা দু:খজনক। এটা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে স্থবিরতা তৈরী করতে পারে। এই কারণেই তারা চিন্তা করছে যে, অনতিবিলম্বে নতুন দুই মেয়রকে কিভাবে দায়িত্ব দেওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ ব্যাপারে আইনজ্ঞদের মতামত এবং পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এরফলে আইন সংশোধন করা, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনের মধ্যেই কিভাবে নতুন মেয়রদের শপথ গ্রহণ এবং দায়িত্ব দেওয়া যায় তা নীরিক্ষা করার জন্য কয়েকজন আইনজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকতা বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবীরা আইনটির বিভিন্ন খুঁটিনাটি দিক বিচার বিশ্লেষণ করে দেখছেন। আর প্রয়োজনে এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ অন্যান্য আইন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। আগামী দুই এক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আর এটা যদি করা হয় তাহলে হয়তো বর্তমানের দক্ষিণের মেয়রকে সময় শেষ হওয়ার কিছুদিন আগেই সরে যেতে হবে। আর উত্তরে যেহেতু কোনো মেয়র নেই প্যানেল মেয়র রয়েছে, তাই সেখানে তেমন কোনো জটিলতা তৈরি হবে না।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মনে করছে নব নির্বাচিত মেয়ররা যত দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ততেই ঢাকার উন্নয়ন অগ্রগতির কাজ এগিয়ে যাবে। কারণ ঢাকায় এখন অনেকগুলো বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। কাজেই এই চলমান প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন মেয়রদের অত্যন্ত জরুরী। আর এই বিবেচনা থেকেই আইনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে একটি উপায় বের করার কাজ চলছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। আগামী দুই/এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

Facebook Comments Box


Posted ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০