• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কমিটি দিতে বিলম্বেই অন্ধকার ছাত্রনেতাদের ভবিষ্যৎ

    এম তুহিনুজ্জামান তুহিন, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় | ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৬:৪৮ অপরাহ্ণ

    কমিটি দিতে বিলম্বেই অন্ধকার ছাত্রনেতাদের ভবিষ্যৎ

    বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের জন্মের সঙ্গে মিশে আছে ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন,৬৬-র ঐতিহাসিক ৬ দফা ও ১১ দফা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান, ৭০-র নির্বাচন,৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক বিজয় এবং আন্দোলন সফল করার ক্ষেত্রে তৎকালীন ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অপরিসীম। পরবর্তীতে ’৯১-র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও এদেশের ছাত্র রাজনীতির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। আর এ কারণেই আমাদের দেশের জনগণের কাছে ছাত্র রাজনীতির আলাদা একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

    তবে আজকাল কিছু কারনে ছাত্ররাজনীতি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।যার আরো বেশি ভয়াবহতা ছিল বিএনপি সরকারের আমলে। ফলে এদেশের গুটিকয়েক সুশীল ব্যক্তি ছাত্ররাজনীতি বন্ধে মতামত দিয়েছেন।আসলেই কি ছাত্ররাজনীতি বন্ধেই হবে সব সমস্যার সমাধান?


    তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে জঙ্গিবাদীরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে কি বলবেন? দেশে আগামীতে নেতৃত্ব দেবে কারা?নাকি ব্যবসায়ী এবং সুশীল আমলাদের পোক্ত ভাবে নেতৃত্বে আসার পায়তারা এটি? নানা রকম পাল্টা পশ্ন জাগে অনেকের মনেই। আমার মতে,ছাত্ররাজনীতি কেন এমন হচ্ছে?কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়?সে ব্যাপারেই ভেবে দেখার সময় এসেছে।

    অনেকের মতে,ছাত্ররাজনীতির কারনে জীবন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নষ্ট হচ্ছে ছাত্রনেতাদের।হ্যা,এটা প্রায় শতভাগ সত্য।আর এই কারনে তারা পরবর্তীতে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।শুরু করে চাঁদাবাজি কিংবা অন্যকোনো অপকর্ম।

    আগামীতে দেশের যোগ্য নেতৃত্বের কথা ভেবে “ছাত্ররাজনীতি সচল” রেখে কিভাবে ছাত্রনেতাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বাঁচানো যায়,সেই আলোচনা করায় শ্রেয়। এতে ছাত্রসমাজ বিপথে যাবে না।দেশও নেতৃত্বশূন্যতায় পড়বে না কখনও।

    বর্তমান বাংলাদেশের চাকরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ত্রিশ বছর।তীব্র প্রতিযোগিতার জন্য কয়েক বছরের প্রস্তুতি প্রয়োজন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বা বড় ইউনিটের শীর্ষ পদ লাভের সর্বোচ্চ বয়সসীমা আর চাকরীতে প্রবেশের বয়সসীমা প্রায় সমান।এতে করে কমিটি দিতে বিলম্ব হলেই পদবঞ্চিতদের অনেকেরই জীবনের ভবিষ্যৎ বাতি নিভে যায়।এমনটা বিভিন্ন বড় বড় ইউনিটের সাথে ঘটছে বারবার।
    অন্যদিকে ছাত্রদল যেন ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ধ্বংসের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে একাই।কমিটি গঠন হয় বহুবছর পর পর।তাদের সংগঠনে ২৯/৩০ বছর বয়সি নেতা-কর্মী জুনিয়র ধরা হয়।পদ লাভ করতে করতে বয়স চল্লিশ বা তার বেশি বয়স হয়।সবাই পদ পাবে না এটাই স্বাভাবিক।তাদের চাকরীতে প্রবেশের বয়সও অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়।
    এতে করে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সংসারের দায়িত্ব নিতে কিংবা নিজেরা সচ্ছল ভাবে চলতে অনেকেই বিপথে চলে যায়।বিএনপি দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে থাকাই তারা এসবেও সুবিধা করতে পারছে না আজকাল।

    এদিকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রনেতারা অনেকেই ২৫-২৬ বছর বসয়ে ইউনিট নেতা হতে ক্যান্ডিডেট হন।ইউনিট কমিটির মেয়াদ এক বছর।সঠিক সময়ে পদ পেলে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়তে পারে কিংবা দায়িত্ব পালন শেষেও চাকরীতে প্রবেশের সুযোগ থাকে।আর যারা পদ বঞ্চিত হয় তারাও ভালোভাবেই চাকরীর প্রস্তুতি নিতে পারে।
    সবাই যে ইউনিটের শীর্ষপদের জন্য রাজনীতি করে তা নয়। অনেকেই একটি ছোট খাটো পদপদবী পেলেই পড়ার টেবিলে বসবে ভেবেই ছাত্রজীবন পার করে দেয় প্রটোকল দিতে দিতে। কিন্তু কমিটিই গঠন হয় না বছরের পর বছর।
    আবার দেখা যায়,এক বছর মেয়াদী কমিটি তিন-চার বছরেও পূর্নাঙ্গ হয় না।গঠন হয় না নতুন কমিটিও।ততদিনে পড়ার টেবিলের সাথে দূরত্বটা বাড়তে থাকে ছাত্রনেতাদের।ভবিষ্যৎ ততদিন চলে যায় অন্ধকারে।তারপরই শুরু হয় নিজের হাতে রাজনীতিতে নিয়ে আসা ছোট ভাইদের নিয়ে অপকর্ম গুলো।

    তাই ছাত্ররাজনীতিকে আগের মত গতিশীল ও মননশীল করতে বিলম্ব না করে সঠিক সময় কমিটি গঠন ও পূর্নাঙ্গ করতে হবে।ছাত্রদের রাজনীতি ছাত্রদের
    হাতে তুলে দিতে হবে।এতে করে ছাত্রনেতাদের জীবন ও ক্যারিয়ারের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে না।হয়তো ফিরবে আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী