মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০

করোনার উল্টো পিঠে অবদান!

আহমেদ আল আমীন   |   মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

করোনার উল্টো পিঠে অবদান!

করোনায় সবকিছু তছনছ। পাথরের আঘাতে কাঁচের টুকরোর মতো ভেঙে পড়ছে ফুলদানিগুলো। পরিবার, সমাজ, সম্পর্ক সবকিছু খান খান হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসটি যেন ভয়ঙ্কর ভিলেন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশাপাশি নিজের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাস অনুযায়ী করোনার বিষয়টি ব্যাখ্যা করছে মানুষ। সে যাই হোক, এই অদৃশ্য শত্রু কি মানবজাতির সাথে পুরোটাই বৈরি আচরণ করছে? শুধুই কি ভাঙছে? বহমান এ সময়ে মানবজাতির চরিত্র ও মানসগঠনে এর কি কোনো অবদান নেই? প্রশ্ন উঠতে পারে, এ আবার কেমন কথা? করোনার মতো নিষ্ঠুর শত্রু মানুষের কাছে অবদান রাখে কীভাবে?
কিন্তু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হবে, ভয়ঙ্কর এই নিষ্ঠুর সময়েও করোনাভাইরাস মানবজাতির কাছে ঋণ রেখে যাচ্ছে। পশুত্বের স্তর থেকে মনুষ্যত্বের স্তরে উন্নীত করছে মানুষকে। অন্য সাধারণ দুর্যোগের সময়ও এর দেখা মেলে, তবে করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারির এই সময়ে বিশ্বব্যাপী স্থূলভাবেই বিষয়টি দৃশ্যমান। কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে, তবে তা ধতর্ব্যে পড়ে না।
সম্পদের মোহে আচ্ছন্ন মানুষ বৈষয়িকভাবে এগিয়ে গেলেও মনুষ্যত্বের দিক থেকে অনেক নিচে নেমে যাচ্ছিল। কখনও কি বিষয়টি খেয়াল করেছেন? চাই, চাই আরও চাই; আর শুধু খাই মনোভাব চারদিকে। দৃশ্যপটের অন্য দিকে ক্ষুধায় জর্জরিত, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত মানুষের নিত্য ক্রন্দন। ভুখা-নাঙ্গা মানুষের দীর্ঘ মিছিল।
অন্যায়, দুর্নীতি, অসততা, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা অবিচার, প্রতিহিংসা, অপবিত্রতা ও স্বার্থপরতা কি বাড়ে নি? জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রের পানির উচ্চতায় হুমকির মুখে পড়ছে মানুষের বসতি। বুদ্ধিবৃত্তিক জীব হিসেবে পৃথিবীতে মানুষ কি সঠিকভাবে কাজ করছে? দেখে মনে হয়, মানুষ হিসেবে নিজের আচরণটাই যেন ভুলে গেছে মানুষ। ভুলে গেছে তাকেও মরতে হবে।
করোনার ভয়াল গ্রাসে পড়ে যেন সম্বিত ফিরে পায় মানুষ। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ধীরে ধীরে স্বরূপে প্রত্যাবর্তন করে। সে বুঝতে পারে, এ পৃথিবীতে একা ভালো থাকা যায় না। কেউ পারেনি। সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। নিজের ভালো থাকার জন্যই অন্যকে, প্রতিবেশিকে কিংবা পরিবেশকে ভালো রাখতে হবে। কারণ পৃথিবী তোমার একার নয়, সবার আছে অধিকার।
একদা স্বার্থপর মানুষ এখন যথেষ্ট সচেতন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বেশ মনোযোগী। নিজের দায়িত্ববোধ বাড়ছে। প্রতিবেশির প্রতি সে উদাসীন থাকে না। করোনা রোধের বিভিন্ন দাওয়াইয়ের কথা শুনে ঘুম ভেঙে মধ্যরাতেও অন্যকে জানিয়ে দেয়। কারণ রোগটা তো ছোঁয়াচে! নিজের জন্যই ভালো রাখতে হবে প্রতিবেশিকে।
এমনকি শত্রু দেশের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেয় অপর শত্রু দেশ। ধর্ম-বর্ণের ভেদ ভুলে মানুষের কাতারে সবাই। মানুষটা জেগে উঠেছে প্রতি মানুষের মনে।
এখন গরীব-অসহায় কিংবা প্রান্তিক মানুষের কথাও সে ভাবে। এভাবে মানবিকতা, ঔদার্য, মৃত্যুভয়, সততা, দায়িত্ববোধ, সহানুভূতি, আত্মত্যাগ ও অন্যকে নিয়ে ভালো থাকার মানসিকতা জাগ্রত হচ্ছে। এসব গুণের দাম কত?
করোনার এই সময়ে মানুষের মাঝে এমন কিছু মহৎ গুণের অনুশীলন বেড়েছে। করোনাযুদ্ধে জয়ী হয়েও সে এর চর্চা ও প্রয়োগ ধরে রাখলে পৃথিবীর চেহারাটাই বদলে যাবে। প্রতিটি ঘরেই হবে ফুলদানি, বিশ্বজুড়ে ফুলবাগিচা।
আহমেদ আল আমীন: লেখক ও সাংবাদিক


Posted ৪:৩০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]