রবিবার ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণে ঝুঁকিতে ঢাকা, এরপর যেসব জেলা

  |   সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণে ঝুঁকিতে ঢাকা, এরপর যেসব জেলা

দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি ও মৃত্যু। গত বৃহস্পতিবারের পর থেকে প্রতিদিনই দ্বিগুণ হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এমনকি গত দুদিন ধরে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভাঙছে রোগটি। নতুন নতুন এলাকায় করোনা ছড়িয়ে পড়ছে। সরকার কমিউনিটিতে সীমিত আকারে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করলেও এলাকাভিত্তিক সংক্রমণের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো এলাকা ও বাড়িঘর লকডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। সর্বশেষ এই মুহূর্তে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা থেকে বের হওয়া ও ঢাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আক্রান্ত ও মৃত্যুর পাশাপাশি বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণের জন্য যে সব কারণকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন, ধীরে ধীরে সে সব কারণও বাড়ছে। বিশেষ করে দেশের পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় গত শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকা ও এর আশপাশে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে ফেরা শ্রমিকদের ঢল, দেশজুড়ে করোনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পরে শনিবার মধ্যরাতেই কারখানা পুনরায় বন্ধের ঘোষণার ফলে এসব শ্রমিকের মাধ্যমে এসব এলাকায় রোগটি সংক্রমণের ঝুঁকি স্থায়ী হয়ে গেল।
এ নিয়ে গতকাল রবিবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তারা দুজনই এ সিদ্ধান্তের কারণে করোনার ঝুঁকি বাড়ল বলে মন্তব্য করেছেন।
এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, মূল কারণটা হলো আমাদের ওয়ার্কপ্ল্যান যেটা হচ্ছে সেটা যেমন পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না; তেমনি এসব ওয়ার্কপ্ল্যানের মধ্যেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। যেমন- বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে যেসব রোগী আসছেন, তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে ও ফল অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চাইল্ড ফাউন্ডেশনে যে সব রোগী আসছেন, তাদের নমুনা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিশু হাসপাতালে। নমুনা নিয়েই ওই সব ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব লোকজন কোথা থেকে আসছেন, তিনি নিজে পজিটিভ কি না, তা জানতে দেরি হচ্ছে। এর ফাঁকে ওই লোক থেকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এটা ঠিক হচ্ছে না। নমুনা পরীক্ষা পর্যন্ত সন্দেহজনকদের আইসোলেশনে রাখতে হবে। দ্রুত ফল বের করতে হবে। তারপর ফল অনুযায়ী পজিটিভ হলে তাকে ভর্তি করাতে হবে, না হলে ছেড়ে দিতে হবে। এই বিশেষজ্ঞ সরকারের নেওয়া ওয়ার্কপ্ল্যানে সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
এমন অবস্থায় গতকালও দেশে করোনা আক্রান্তের আগের দিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙেছে। একদিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এটাই ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া নতুন রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে গত শনিবার আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল নয়জন। একদিনের ব্যবধানে বাড়ল দ্বিগুণ সংখ্যক আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত শনিবার একদিনে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল দুজন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৮ জন ও মৃত্যু নয়জন। অর্থাৎ গত শুক্রবার থেকে সারা দেশে নমুনার সংখ্যা ও পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর পর থেকেই রোগী শনাক্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে গতকাল সরকার দেশে লকডাউনের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়িয়েছে। এর আগে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সব অফিস-আদালত বন্ধ রাখার যে ঘোষণা সরকার দিয়েছিল, তা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাওয়ায় জরুরি সেবায় যুক্তদের ছাড়া কাউকে গতকাল রবিবার থেকে ঢাকায় ঢুকতে কিংবা বের হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
ঝুঁকির যত কারণ : বিশেষজ্ঞরা দেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির জন্য কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, রোগটি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারকে চিন্তাভাবনা করে প্ল্যান করতে হবে। একদিকে সরকার লকডাউন ঘোষণা করছে, আবার সাধারণ মানুষকে পথে নামার রাস্তা করে দিচ্ছে। পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার কথা বলে অসংখ্য লোকজনকে ঘরের বাইরে এনে গোটা দেশকে ভয়াবহ করোনা ঝুঁকির মধ্যে ফেলল। এর আগে কারও সঙ্গে ভালোভাবে আলোচনা না করেই দুই দফা ইতালি থেকে ফেরা বাংলাদেশিদের হোম কোয়ারেন্টাইনের নামে সমাজে ছেড়ে দেওয়া হলো। পরে এরাই রোগটি ছড়াল। অর্থাৎ সরকারের সিদ্ধান্তে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশেষজ্ঞ বলেন, লকডাউনের সময় মূল কাজ আক্রান্ত ও তাদের সান্নিধ্যে যারা গেছেন, তাদের খুঁজে বের করে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা ও সবার পরীক্ষা করা। উপসর্গ পাওয়া গেলে তাদের আলাদা করে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। বাকিদের ছেড়ে দিতে হবে। এখানে সেটা এখনো হচ্ছে না।
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, সরকার বলছে, কমিউনিটিতে রোগটি সীমিত আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন বলছে এলাকাভিত্তিক সংক্রমণের কথা। এখান থেকে রোগটি যাতে আর ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য পরীক্ষা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া ও সর্দি-কাশি-জ্বরের সঙ্গে করোনার মিল থাকায়, এসব রোগে আক্রান্তদেরও করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। সেটা ঠিকমত হচ্ছে না। ফলে আক্রান্ত বাড়ছে।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে করোনা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। কারণ আমরা এখনো করোনা পজিটিভ রোগীদের শনাক্ত করতে পারছি না। তারা ছড়াচ্ছে।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সরকার করোনা সংক্রমণের পাঁচটি ক্লাস্টার (এলাকা) চিহ্নিত করেছে। ঢাকায় দুটি, ঢাকার বাইরে তিনটি। কিন্তু কোন এলাকা করোনা পজিটিভ, সেটা জানা যাচ্ছে না, বের করা যাচ্ছে না। সেই জায়গাটা চিহ্নিত করা না গেলে সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে। আবার এই এলাকায় কে পজিটিভ, কার মাধ্যমে ছড়াচ্ছে, তাদের সঙ্গে কাদের সংযোগ বা তারা কাদের সান্নিধ্যে গেছেন, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে। সেটা করা না গেলে ক্লাস্টারেও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ক্লাস্টারের মধ্যে করোনা বাড়বেই। কেউ মারা যাবে, কেউ সুস্থ হয়ে যাবে। সুতরাং এসব বিষয় ভাবতে হবে।
এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছা বলেন, করোনা বাড়ছে, বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। অনেক উন্নত দেশেও এই পরিস্থিতি। কিন্তু আমরা সেটা কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি, সেটাই বিষয়। লকডাউন দেওয়া হচ্ছে লোকজনকে ঘরে রাখতে, যাতে নতুন সংক্রমণ না ঘটে। লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারের যেমন ভূমিকা নিতে হবে, তেমনি মানুষজনকেও সচেতন হতে হবে। নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। অসুস্থ হলে আইইডিসিআরসহ স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাতে হবে। তথ্য লুকানো যাবে না।
করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে এই ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ বলেন, এটা বিশেষ পরীক্ষা। দক্ষ লোকজন লাগে। সব ধরনের ল্যাবরেটরিতে করা যায় না। সতর্ক না থাকলে ল্যাব থেকেই ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। সরকার পরীক্ষার পরিধি বাড়িয়েছে।
এলাকাভিত্তিক ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক বাড়বে। কারণ মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় করোনা। তাই এলাকা লকডাউন করতে হবে। কার থেকে ছড়াচ্ছে, সেটা বের করতে হবে। তবে এ জন্য মানুষদের সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা অভ্যাসগুলো মানতে হবে।
নমুনা সংগ্রহ নিয়ে জটিলতা : সরকার দেশজুড়ে করোনা পরীক্ষার পরিধি বাড়ালেও নমুনা সংগ্রহে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এখনো নমুনা সংগ্রহ, বিতরণ ও ফলাফল ঘোষণার একক কর্র্তৃত্ব অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় আইইডিসিআরের বেশি। এ প্রতিষ্ঠানটি সংগৃহীত নমুনা অন্য প্রতিষ্ঠানকেও সরবরাহ করে। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে নমুনা পাঠানোর। ওই দিন এক হাজার নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা : করোনা সংক্রমণে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ঢাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট ১৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ১২ জন। গত শনিবার পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৬ জন। গতকাল রোববার পর্যন্ত সারা দেশে আক্রান্ত ৮৮ জনের মধ্যে ঢাকায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮ জন অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ৪২ শতাংশই ঢাকার বাসিন্দা।
আইইডিসিআরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীর ২৯টি এলাকায় ইতিমধ্যেই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বাসাবো ও মিরপুরের টোলারবাগকে ‘ক্লাস্টার’ বা এলাকাভিত্তিক সংক্রমণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাসাবোতে নয়জন ও টোলারবাগে ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যান্য এলাকার মধ্যে সোয়ারীঘাটে তিনজন, বসুন্ধরা, ধানমণ্ডি, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর-১০, মোহাম্মদপুর, পুরানা পল্টন, শাহআলীবাগ ও উত্তরাতে দুজন করে, আশকোনা, বুয়েট এরিয়া, সেন্ট্রাল রোড, ইস্কাটন, গুলশান, গ্রিন রোড, হাজারীবাগ, জিগাতলা, কাজীপাড়া, লালবাগ, মিরপুর-১১, মগবাজার, মহাখালী, নিকুঞ্জ, রামপুরা, শাহবাগ, উর্দু রোড ও ওয়ারীতে একজন করে আক্রান্ত হয়েছে।
ঢাকার বাইরে মাদারীপুর ও নারায়ণগঞ্জ বেশি ঝুঁকিতে : দেশের মধ্যে ঢাকাসহ ১১ জেলায় করোনার সংক্রমণ দেখা গেছে। এর মধ্যে দুই জেলা মাদারীপুর ও নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন করে। এ ছাড়া গাইবান্ধায় পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন। এই তিন জেলাকে ক্লাস্টার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইইডিসিআর। এ ছাড়া গাজীপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, কক্সবাজার, শরীয়তপুর, রংপুর ও চট্টগ্রামে একজন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
সারা দেশে পাঁচটি এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ : নারায়ণগঞ্জ ১টি, মাদারীপুরে ১টি, গাইবান্ধায় ১টি ও রাজধানীতে ২টি ক্লাস্টারে সংক্রমণ ঘটেছে। রাজধানীতে মিরপুরের টোলারবাগ ও বাসাবোতে সামাজিকভাবে সংক্রমণ ঘটেছে। এক্ষেত্রে রাজধানীতেই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি রয়েছে। অবশ্য ইতিমধ্যেই টোলারবাগ ও বাসাবোতে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার পাশাপাশি ওই এলাকা লকডাউন করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ জন : মোট আক্রান্ত ৮৮ জনের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ১৩ জনকে শনাক্ত করেছে আইইডিসিআর। বাকি ৫ জনকে শনাক্ত করেছে অন্যান্য হাসপাতাল। ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত ব্যক্তি পুরুষ এবং বয়স ৫৫ বছর। তিনি নারায়ণগঞ্জের অধিবাসী। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। বর্তমানে সংক্রমণ রয়েছে ৪৬ জনের। তাদের মধ্যে ৩২ জন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ১৪ জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের লক্ষণ-উপসর্গ মৃদু।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১১-২০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে দুজন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে চারজন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ৯ জন ও ষাটোর্ধ্ব ২ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১৫ জন ও মহিলা ৩ জন। তাদের ১২ জনই ঢাকার। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ৫ জন ও মাদারীপুরের ১ জন।

Facebook Comments Box


Posted ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১