• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কর্মীরাই আওয়ামী লীগকে করেছে ধন্য

    হাবীব রহমান | ০৫ জুলাই ২০১৭ | ১:২৯ অপরাহ্ণ

    কর্মীরাই আওয়ামী লীগকে করেছে ধন্য

    রোজগার্ডেন থেকে গণভবন- এ সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়েছে। কর্মী সম্মেলনের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের পথচলা শুরু। সেই থেকে অবহেলিত খেটে-খাওয়া কর্মীরাই সংকটে, দুর্যোগে, সংগ্রামে এগিয়ে এসেছে। দলের দুঃসময়ে হাল ধরেছে। এরাই আওয়ামী লীগকে করেছে অনন্য ও ব্যতিক্রমী।


    দলের জন্য সারাদেশ ঘুরে কর্মী সংগ্রহ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তৃণমূল কর্মীদের আপন করে খুব কাছে টানতেন। কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ককে বঙ্গবন্ধু ‘রক্তের সম্পর্ক’ বলে অভিহিত করেছেন বিভিন্ন সময়ে।

    ajkerograbani.com

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে মুক্তিলাভের পর ১৯৭০ সালের ৪ ও ৫ জুন মতিঝিল ইডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু তার কারাবন্দি থাকাকালীন কতিপয় সিনিয়র নেতার আওয়ামী লীগকে ভাঙার চেষ্টা এবং তখন দলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘আমি যখন কারাগারে সেই সুযোগে নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান যুক্তফ্রন্ট (পিডিএম) গঠনের নামে আওয়ামী লীগের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি এবং আমাকে ডিসমিস করিয়া নতুন পাল্টা আওয়ামী লীগ গঠন করেন। কিন্তু তিনি জানিতেন না, নেতা নেওয়া যায়, কর্মী নেওয়া যায় না, তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রক্তের।’

    প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়েয় ভাঙনও এসেছে আওয়ামী লীগে। তবে মহীরুহ এ দলটিকে টলাতে পারেনি নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের জন্যই। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ছয় দফা প্রশ্নেও দলে বিভক্তি আসে। ১৯৭২ সালে ছাত্রলীগ ভেঙে হয় জাসদ ছাত্রলীগ। তাদের মূল দল হয় জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল)। পঁচাত্তর-পরবর্তী দুঃসময়ে দলকে অনেক চড়াই-উৎরাই পোহাতে হয়। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলকে সুসংগঠিত করেন। পরবর্তী বছরই আওয়ামী লীগের বাইরে বাকশালের আলাদা কমিটি হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ভেঙে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম সৃষ্টি হয়। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বের হয়ে গিয়ে দল গঠন করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নামে। ১/১১ সময়ে চ্যালেঞ্জের মুখেও টিকে থাকে আওয়ামী লীগ।

    জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও অবৈধ সেনাশাসকদের নির্যাতন আর নিপীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় আওয়ামী লীগকে। কিন্তু কোনো অপচেষ্টা কখনোই সফল হয়নি। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী, সমর্থকরা জীবন দিয়ে সব প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছে, শক্তিশালী করেছে।

    ১/১১-পরবর্তী ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সংগঠনের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনেক ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল নেতাদের দৃঢ়তার কারণে দলকে এ পর্যন্ত নিয়ে আসা গেছে, আপনারা আমাকে রক্ষা করেছেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ‘কর্মীরাই হাল ধরে’।

    শুধু ওই সময়ে নয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় সময়েই তৃণমূল নেতাকর্মীদের এভাবে প্রশংসা করেন। দলের সর্বশেষ সম্মেলনেও গত বছরের অক্টোবরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনি বলেছেন, নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। তৃণমূলের কর্মীরা কখনো বেইমানি করে না।

    পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছর ১০ মাসের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দল গঠন কিছুতেই সহজসাধ্য ছিল না। মুসলিম লীগ সরকারের রক্তচক্ষুর ভয়ে সেদিন ঢাকা শহরের কোথাও কেউ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের জন্য হলরুম ভাড়া বা জায়গা দিতে সম্মত হননি। অবশেষে উদ্যোক্তাদের ঠাঁই হলো পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের কেএম বশিরের (হুমায়ুন সাহেব নামে পরিচিত) ‘রোজ গার্ডেন’ বাগান বাড়িতে। বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সোহরাওয়ার্দী-আবুল হাশিম সমর্থক প্রগতিশীল অংশের এই কর্মী সম্মেলনের (২৩ ও ২৪ জুন ১৯৪৯) উদ্যোক্তারা এ ভূখণ্ডের ইতিহাসের নতুন বীজ বপন করছিলেন সেদিন। কারাবন্দি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক। তখন বঙ্গবন্ধুর বয়স মাত্র ২৯ বছর। তবে অচিরেই তিনি পরিণত হন এর প্রাণশক্তি রূপে।

    পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লিখেছেন, ‘কোথাও হল বা জায়গা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন সাহেবের রোজ গার্ডেনের বাড়িতে সম্মেলনের কাজ শুরু হয়েছিল।’

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757