• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কলকাতার নারীরা একাকিত্বে ভুগছেন

    অগ্রবাণী ডেস্ক: | ০৫ মে ২০১৭ | ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ

    কলকাতার নারীরা একাকিত্বে ভুগছেন

    মন খারাপ বাড়ছে শহর কলকাতার। বাড়ছে একাকিত্ব, বিশেষত নারীদের। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রথমা চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘কর্মরত বা কর্মহীন— সব মেয়েদের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা দ্রুত বাড়ছে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা একঘেয়েমি আর ক্লান্তির শিকার বেশি হচ্ছেন।


    তার মতে, শহরে দ্রুত হারে একাকিত্ব বাড়ছে নারীদের। তার পিছনে বয়সোচিত শারীরিক পরিবর্তন কিছুটা দায়ী হলেও বাকিটা মূলত কর্মক্ষেত্রে লড়াইয়ের ধকল। ওই বিশ্লেষকের কথায়, ‘‘আমরা দেখছি, একটি মেয়ে কর্মক্ষেত্রে উচ্চপদে রয়েছেন। অফিসে সমবয়সি পুরুষদের তুলনায় সিনিয়র তিনি। তাঁর শুধু মনে হচ্ছে, তাঁকে জিততেই হবে। কারণ, কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় বৈষম্যের শিকার হতে হয় মেয়েদের। জিততেই হবে, এই মানসিকতা চাপ বাড়াচ্ছে।’’


    প্রথমা চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘কর্মরত বা কর্মহীন— সব মেয়েদের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা দ্রুত বাড়ছে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা একঘেয়েমি আর ক্লান্তির শিকার বেশি হচ্ছেন। বেশি মানসিক ক্লান্তির শিকার হচ্ছেন মধ্যবয়সিনীরা। মন ভাল করার জন্য বাড়ির বাইরে কোথাও আড্ডা দিতে সহজেই পারেন ছেলেরা। মেয়েদের পক্ষে তা সব সময় হয়ে ওঠে না। সে কারণেই সহজে বোরড হওয়া, হঠাত্ ভাল লাগা, ভাল লাগার অবসান ইত্যাদি বাড়ছে।’’ শহরে মনোবিদদের একাংশের অভিজ্ঞতা, একাকিত্বে ভুগছেন, এমন মেয়েদের মধ্যে ছেলেদের তুলনায় ধূমপান বা মাদক সেবনের প্রবণতাও অনেক বেশি থাকে।

    চিকিত্সক সত্যব্রত কর বলেন, ‘‘এখনকার প্রজন্মের একাংশ তাড়াতাড়ি বোরড হয়ে অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজ করেন। কেউ আবার অবসাদে ডুবে যান।’’ মনোবিদেরা জানাচ্ছেন, এই অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজ কখনও নিত্যনতুন সম্পর্কে, কখনও গতির নেশায়, কখনও মাদকে। নতুন গাড়ি, নতুন ফোন, নতুন মাদক, নতুন সঙ্গী— সবই খুব তাড়াতাড়ি পুরনো হয়ে পড়ছে। সত্যব্রতের কথায়, ‘‘চাকরিজীবী বাবা-মা সন্তানকে সময় দিতে না পারায় নিত্যনতুন আব্দার মেটাচ্ছেন। ফলে পরিবারে কোনও বন্ধন তৈরি হচ্ছে না। যা চাইছেন, তখনই তা পেয়ে যাওয়ায় অনেকেই লাইনে দাঁড়াতে চান না, লাইন ভাঙার চেষ্টা করেন। অপরাধবোধ থাকে না।’’

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীল সাহা বলেন, ‘‘বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যার কারণে অনেকে র‌্যাশ ড্রাইভিং, বাইকিং, গতির খেলায় জড়িয়ে পড়ে। ধনী পরিবারের ছেলে দামি বাইক কিনে এনে বন্ধুদের কাছে নিজেকে জাহির করে। অনেক সময় বন্ধুদের চাপে পড়ে আপাত নিরীহ ছেলেও গতির নেশায় বুঁদ হয়।’’ এন আর এস মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগ বিভাগের প্রধান ওমপ্রকাশ সিংহের অবশ্য অভিজ্ঞতা, ‘‘আগে শুধু উচ্চবিত্তদের একাংশের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যেত। এখন মধ্যবিত্তের মধ্যেও এই রোগ বাসা বাঁধছে। সিরিয়াল বা সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনছেন অনেকেই।’’

    এখানেই শেষ নয়। মনোবিদ এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে এবং মোবাইলে ইন্টারনেটের দৌলতে যৌন সম্পর্ক বা অপরাধ সম্পর্কে মনোভাব বদলাচ্ছে। সবকিছুই এখন ‘সহজ’! ‘ইনস্টিটিউট অফ সাইকায়াট্রি’র অধিকর্তা প্রদীপ সাহা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এখন ব্যস্ততা বাড়ছে ইন্টারনেটে। এটা টেকনো অ্যাডিকশন। মদ, গাঁজার মতোই আরেকটা নেশা। পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো কমে যাচ্ছে। যা বিপজ্জনক।’’ সূত্র: এবেলা[LS]

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673