• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কলকাতার পার্লারে মাসাজের আঁড়ালে যা চলে…

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ২০ মার্চ ২০১৭ | ৮:৫০ অপরাহ্ণ

    কলকাতার পার্লারে মাসাজের আঁড়ালে যা চলে…

    বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা বিউটি পার্লারের সঙ্গে বিশেষ তফাত নেই। কিছুটা পুরনো পার্লারের দরজা। মাঝের চৌকো অংশে ঘসা কাঁচ। সেই কাঁচের উপর রঙিন পর্দা। শোকেসে প্রসাধন সামগ্রী। অপেক্ষাকৃত নতুন পার্লারে ঘসা কাঁচ বা পর্দা নেই। ভিতরে সারি সারি চেয়ার। চুল, দাঁড়ি কাটা হয় সেখানে। তবে মেয়েরা হেয়ারকাট বা আইব্রাও করাতে গেলে নম্রভাবে বিদায় করা হয়। ধরিয়ে দেওয়া হয় অন্য পার্লারের কার্ড।


    কিন্তু সেখানেই মাসাজ নিতে চাইলে? মধ্য কলকাতার ঝাঁ চকচকে ইউনিসেক্স পার্লারে প্রশ্নটা শুনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তি সুমিষ্ট স্বরে বললেন, ‘‘কওনসা মাসাজ?’’
    উত্তর দেওয়া গেল, ‘‘আচ্ছাওয়ালা।’’


    এক তরুণের সঙ্গে সাংবাদিককে পাঠানো হল দোতলায়। সেখানে তিন-চারটা আট বাই ছ’য়ের মাসাজ রুম। কাঠের পার্টিশন। নীলচে দেয়ালের ঘরের কোণে বেসিন। প্লাস্টিকের টুলে পাউডার, আয়োডেক্স, স্বচ্ছ শিশিতে সাদা ক্রিম আর টিসু পেপার। অপ্রশস্ত খাটে রাখা তোয়ালে। ছোট্ট এডজ়াস্ট ফ্যান।

    ছেলেটি জানাল, তিনরকম মাসাজ আছে। ১৫০০, ১৮০০ এবং ২০০০ টাকার। ২০০০ খরচ করলে সবচেয়ে বেশি ‘এনজয়মেন্ট’! মিনিটকয়েকের মধ্যে ঘরে ঢুকলেন টাইট জিন্স আর হাল্কা গোলাপি টিশার্ট। মঙ্গোলয়েড মুখাবয়ব।

    তবে খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না মাসাজ। শুরু হয়ে গেল ‘এক্সট্রা সার্ভিসে’র মোহ তৈরির চেষ্টা।

    এক্সট্রা সার্ভিসের প্রয়োজন নেই শুনে রীতিমতো খেপে গেলেন ম্যাসিওর। বুঝিয়ে দিলেন, একস্ট্রা সার্ভিস ‘নিয়মে’র মধ্যে পড়ে! ওই টাকাটাই তাঁর রোজগার। অবশ্য সাংবাদিকের পরিচয় পেয়ে ম্যাসিওর জানালেন, তিনি কথা বলতে রাজি। তবে একস্ট্রা সার্ভিসের দেড় হাজার টাকা দিতেই হবে তাঁকে। কারণ, বিনা পয়সায় কথা বলে সময় তিনি নষ্ট করতে পারবেন না। আর এডজ়াস্ট ফ্যানের ঘুলঘুলি দিয়ে ঘরে নজর রাখে বাইরের ছেলেটি। ফলে সাবধান! পরবর্তী কথোপকথনে জানা গেল, কীভাবে এক বাস্কেটবল প্লেয়ার পৌঁছে গেছে মাসাজ রুমে।

    স্পা বা বড় মাসাজ পার্লারে যে তরুণীরা কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত। নিজেদের পরিষেবা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত বলতেই বেশি পছন্দ করেন তাঁরা। সমাজতত্ত্ববিদ প্রশান্ত রায়ের ব্যাখ্যা, ‘‘গ্লোবাল ফ্রেমওয়ার্ক বুঝিয়ে দিচ্ছে, শরীর থেকে ভ্যালু সরিয়ে রাখলে বেঁচতে অসুবিধা নেই। সমাজের শিক্ষিত শ্রেণি এই ধরনের বিষয় নিয়ে গবেষণা করে, তাঁদের অধিকার নিয়ে কথা বলে কাজটাকে একধরনের স্বীকৃতিও দিচ্ছেন। ফলে অনেকেই স্বেচ্ছায় এ কাজে নামছেন।’’

    -এলএস

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669