• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কাকরাইলে জোড়া খুন : রক্তমাখা অস্ত্র ফেলা হয় পদ্মায়

    অনলাইন ডেস্ক | ০৪ নভেম্বর ২০১৭ | ৮:১৮ অপরাহ্ণ

    কাকরাইলে জোড়া খুন : রক্তমাখা অস্ত্র ফেলা হয় পদ্মায়

    রাজধানীর কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে এ ঘটনায় গ্রেফতার আল আমিন জনি। সে ব্যবসায়ী আব্দুল করিমের তৃতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তার ভাই। শনিবার (০৪ নভেম্বর) সকালে গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।


    জনি জানায়, নরসিংদী থেকে ঢাকায় আসার পর নানামুখী সমস্যায় পড়েছিলেন তার বোন শারমিন মুক্তা। তিন-চার মাস আগে করিমের সঙ্গে তার বিয়ে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘটনার তিন-চার দিন আগে মুক্তা আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। জনি মনে করে, বোনের এসব সমস্যার জন্য করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারই দায়ী। এরপরই সে তাকে হত্যা করে। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে প্রাণ হারায় শাওন।


    র‌্যাব জানায়, তাদের কাছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে জনি এসব কথা জানিয়েছে। শনিবার বিকাল সাড়ে চারটায় কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মুক্তা ব্যবসায়ী আব্দুল করিমের তৃতীয় স্ত্রী। চার বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। মুক্তা তার মা ও ভাই জনিকে নিয়ে নরসিংদীতে থাকতেন। সম্প্রতি তিনি মা-ভাইকে নিয়ে ঢাকায় এসে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। কাকরাইলের বাসাটি (ঘটনাস্থল) ছিল শামসুন্নাহারের নামে।

    ঢাকায় আসার পর থেকে স্বামী করিমের সঙ্গে আর্থিক বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় মুক্তার। ব্যবসায়ী করিমের অধিকাংশ সম্পত্তি প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের নামে। এ নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়।

    র‌্যাবকে জনি জানায়, তিন-চার মাস আগে করিমের সঙ্গে মুক্তার বিয়ে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ঘটনার তিন-চার দিন আগে মুক্তা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ওই সময় বাসায় করিম এবং জনিও ছিলেন।

    মুফতি মাহমুদ জানান, বোনের আর্থিক সংকট, আত্মহত্যার চেষ্টা, বিচ্ছেদ– সবকিছুর জন্য করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারকে দায়ী করে জনি। ওইদিনই সে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

    সে অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর নিউমার্কেট থেকে সে একটি ধারালো অস্ত্র কেনে। ঘটনার দিন (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সে ওই বাড়িতে যায়। কলিংবেল চাপলে গৃহকর্মী দরজা খুলে দেন। পরে গৃহকর্মী রান্নাঘরে ঢুকলে জনি রান্নঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়। ঘটনার সময় বাসায় শামসুন্নাহার ও তার তৃতীয় সন্তান শাওন ছিলেন বাসায়।

    মুফতি মাহমুদ বলেন, জনি তাদের ঘরে ঢুকে প্রথমে শাওনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে, ‘এখানে বসে থাকো। আমি তোমার মায়ের সঙ্গে কথা বলব।’ এরপর শামসুন্নাহারকে সে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে। শাওন মাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তার গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে জনি। শাওন দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে সে সিঁড়িতে পড়ে যায়। এদিকে, বাসা থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে জনি দারোয়ানকে বলে– ওপরে ঝামেলা হচ্ছে, আপনি যান। বলে সে ভবন থেকে বেরিয়ে আসে।

    শামসুন্নাহারের বাসায় ঢোকার আগেই পাশের পরিত্যক্ত একটি ভবনে নিজের এক সেট জামাকাপড় রেখে এসেছিল জনি। হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে গিয়ে সে কাপড় পাল্টায়। হত্যাকাণ্ডের সময় জনি নিজেও সামান্য আহত হয়েছিল। এজন্য পাশের ক্লিনিকে গেলেও সঙ্গে টাকা কম থাকায় সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয় সে।

    এরপর সে প্রথমে ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর চলে যায়। পথে পদ্মায় নিজের রক্তমাখা কাপড় ও অন্যান্য জিনিস ফেলে দেয়।

    র‌্যাবের মুখপাত্র জানান, জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আগামীকাল রবিবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673