• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    কাশিয়ানীতে কে হবেন উপজেলা চেয়ারম্যান, জেনে নিন সমীক্ষা

    বিশেষ প্রতিবেদক | ১৮ মার্চ ২০১৯ | ৫:৪৭ অপরাহ্ণ

    কাশিয়ানীতে কে হবেন উপজেলা চেয়ারম্যান, জেনে নিন সমীক্ষা

    আগামী ২৪ মার্চ কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এখানে দলগত ভাবে কোন দলই প্রার্থী দেয়নি। উন্মুক্ত ভাবেই হচ্ছে কাশিয়ানীর নির্বাচন। উপজেলা সবর্ত্রই বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কমতি নেই। কে হচ্ছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। সকলের ধারণা এখানে হবে ত্রিমুখী লড়াই।

    কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান অংশ নিয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোক্তার হোসেন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জানে আলম মিয়া বিরু, বর্তমান উপজেলা মহিলা-ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামচুন্নাহার মিনা জামান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মোঃ ফারুক আহমেদ(জাপানী ফারুক) ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কাজী নূরুল আমিন তুহিন।

    ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কাশিয়ানী উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১৬১৪৭১। এর মধ্যে পুরুষ ৭৯৬৪৬ ও মহিলা ৮১৮২৫ জন।
    এর মধ্যে মহেশপুর ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২৪৩৬২, মাহমুদপুর ৮৬৩৭, সাজাইল ১৪৩৭৭, কাশিয়ানী ১৮৯৬১, পারুলিয়া ৭৬০৬, রাজপাট ৯৬২৯ , রাতইল ১৬৪৪৫, ওড়াকান্দি ১০৭৯৬, পুইশুর ৬০৬২, বেথুড়ী ৯২০৫, নিজামকান্দি ৭৭৭৯, সিংগা ৪৯৯০, ফুকরা ১৬৫৯৬, হাতিয়াড়া ৬০২৬ জন।

    পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সব উপজেলায় ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা খুবই কম (৫০% এর নিচে)। সে হিসেবে কাশিয়ানী উপজেলায় যদি ৫০% শতাংশ ভোট পড়ে তাহলে ভোট কাস্ট হবে ৮০ হাজার। জিততে হলে যে কোনো প্রার্থীকে পেতে হবে কমপক্ষে ৩০ হাজার ভোট।

    প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা

    জানে আলম বিরু:
    বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলম বিরুর নিজ ইউনিয়নে ভোটার সবচেয়ে বেশি (২৪৩৬২) । মহেশপুরে যদি ৫০% শতাংশ ভোট কাস্ট হয় তাহলে প্রাপ্ত ভোট ১২ হাজার। ভোটারদের মতে, এখানে ৮০ শতাংশ ভোট পাবেন জানে আলম বিরু। যদি তিনি মহেশপুরে ১০ হাজার ভোট পান, তাহলে চেয়ারম্যান হতে আরো ২০ হাজারের বেশি ভোট অন্য ১৩ ইউনিয়ন থেকে পেতে হবে। বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে তার ১৪ ইউনিয়নেই রয়েছে নিজস্ব কর্মী বাহিনী। যদি তারা ঠিক মতো কাজ করে তাহলে তিনি হতে পারবেন পরবর্তী চেয়ারম্যান।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোক্তার হোসেন:

    কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোক্তার হোসেন। ওড়াকান্দীর সন্তান মোক্তার হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় সব ইউনিয়নে রয়েছে তার কর্মী ও সমর্থক বাহিনী। কাশিয়ানীর দক্ষিণ ৭ ইউনিয়নে তার অবস্থান খুবই ভালো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুইশুর, বেথুড়ী, নিজামকান্দি, সিংগা ও হাতিয়াড়া ইউনিয়নে তার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি তার পক্ষে ভোটাররা রায় দেন তাহলে তিনি হতে পারবেন পরবর্তী চেয়ারম্যান। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোক্তার হোসেন চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় ১৮ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।

    সুব্রত ঠাকুর:

    কাশিয়ানী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর। তিনি হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী হিসেবে হিন্দু সম্প্রাদায়ের লোক জনের কাছে খুবই প্রিয়। এ উপজেলায় হিন্দু ভোটার রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার। নিজ ধর্মের ভোটারদের উপর ভর করে তিনি তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। হিন্দু সম্প্রাদায়ের ৫০% শতাংশ ভোটর যদি ভোট প্রদান করেন তাহলে প্রাপ্ত ভোট হবে ১৩ হাজার। এখান থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পাবেন সুব্রত ঠাকুর। তাকে চেয়ারম্যান হতে হলে পেতে হবে মুসলমান ভোটারদের কমপক্ষে ২০ হাজার ভোট।

    শামচুন্নাহার মিনা জামান:

    কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামচুন্নাহার মিনা জামান। তিনি মরহুম মনিরুজ্জামান মৃধার স্ত্রী। মনিরুজ্জামান মৃধা ছিলেন কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন মহেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার মৃত্যুর পর শামচুন্নাহার মিনা জামান মহেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরপর দুইবার কাশিয়ানী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বামীর জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে। এবার দেখার বিষয় কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে কতোজন ভোটার ভোট দেন?

    ফারুক আহমেদ(জাপানী ফারুক):
    কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মোঃ ফারুক আহমেদ(জাপানী ফারুক)। রাতইল ইউনিয়নের সন্তান ফারুক আহমেদ(জাপানী ফারুক) এলাকায় দানবীর হিসেবে পরিচিত। এবার দেখার বিষয় ভোটাররা তাকে গ্রহণ করে কিনা?

    তুহিন কাজী:
    কাশিয়ানী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কাজী নূরুল আমিন তুহিন। মহান মুক্তিযুদ্ধ কালিন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে গঠিত কাশিয়ানী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, সৎ, সাহসী এবং আদর্শবান জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ কাজী নূরুল হালিম (হালিম কাজী’র) সুজোগ্য পুত্র নুরুল আমিন (তুহিন কাজী)। ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী রাজনীতির ধারক তুহিন কাজী ১৯৯২ সালে এম এ খালেক কলেজের ভিপি, ১৯৯৭ সালে কাশিয়ানী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে কাশিয়ানী থানা যুবলীগ এর সভাপতি পদে আছেন। ১/১১ এর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে গাড়ি পোড়ানো মামলার অন্যতম আসামি। ত্যাগী, সংগ্রামী, লড়াকু এই রাজনিতীক আপাদমস্তক এবং বংশগত আওয়ামীপন্থী। বিগত বি.এন.পি দুঃশাসন এর সময়ে হামলা-মামলা, জেল-জুলুম, অত্যাচার-হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে উজ্জীবিত, “মুজিব সৈনিক” নুরুল আমিন (তুহিন কাজী) এর সার্বিক রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রশংসনীয়। এবার দেখার বিষয় ভোটাররা তাকে গ্রহণ করে কিনা?

    কাশিয়ানীর সাধারণ ভোটাররা জানান এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, জানে আলম বিরু, মোক্তার হোসেন ও সুব্রত ঠাকুরের মধ্যে। তবে চেয়ারম্যান যেই হন না কেন তাকে অনেক কাঠ খড়ি পুড়াতে হবে। এখন দেখার বিষয় কে হন উপজেলা চেয়ারম্যান?

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী