• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কাশিয়ানীর কিংবদন্তী শিক্ষক একেএম ওয়ালিয়ার রহমান

    হানিফ মাহমুদ; কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ) | ০৪ জুলাই ২০১৭ | ১২:৫০ অপরাহ্ণ

    কাশিয়ানীর কিংবদন্তী শিক্ষক একেএম ওয়ালিয়ার রহমান

    কাশিয়ানীর কিংবদন্তী শিক্ষক একেএম ওয়ালিয়ার রহমান কাশিয়ানীর গর্ব। এমএ খালেক কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ, কাশিয়ানী জিসি পাইলট উচ্চ বিধ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক, একেএম ওয়ালিয়ার রহমা ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার খায়েরহাট গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম একেএম সিরাজুল হক, মাতা জামিরুন নেছা। ছোটবেলা থেকেই তিনি চটপটে ও দুরন্ত সভাবের ছিলেন। বারাসিয়া নদীতে সাঁতার কেটে, জোয়ারের দুরন্ত পানিতে গাঁ ভাসিয়ে বেড়ে উঠেছেন তিনি। নিজ গ্রামের মক্তবে তার শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। কাশিয়ানী জিসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৯ সালে তিনি মেট্রিক পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে এমএ পাশ করার পর তার নিজ স্কুল কাশিয়ানী জিসি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা টিচার্সট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে এমএ খালেক কলেজ প্রতিষ্ঠার পর কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে বনিবনা না হওয়ায় তিনি চাকুরী ছেড়ে ১৯৭৩ সালে কাশিয়ানী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৯৪ সালে চাকুরী ছেড়ে রাতইল নায়েবুন্নেছ ইনস্টিটিউশনে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। এক বছর সেখানে থাকার পর ১৯৯৫ সালে পুনরায় তিনি প্রধান শিক্ষক হিসাবে কাশিয়ানী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ওই স্কুলে চাকুরী জীবন শেষ করে ২০০২ তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
    তার মৃত্যুতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
    তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কাশিয়ানী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান থন্দার বলেছেন, ‘তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন এবং তার সাথে শিক্ষক হিসাবে কাজ করার ও সৌভাগ্য হয়েছে। তিনি ছিলেন মহানুভব একজন মানুষ, একজন ভাল বন্ধু, একজন উপদেষ্টা। তিনি ছিলেন সিংহ পুরুষ। তার হাতধরে এই স্কুল অনেক কিছু অর্জন করেছে।’ কাশিয়ানী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুনশী ওয়াহিদুজ্জামন বলেছেন, ‘স্যারের আদর ও সহযোগিতায় আমি এপর্যন্ত পৌছাতে পেরেছি। স্যারকে কাশিয়ানী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে একটি সম্মামনা দেয়া হয়েছিল, অসুস্থতার জন্য স্যার আসতে পারেননি। আমার উচিৎ ছিল স্যারের বাড়ীতে গিয়ে সম্মমনা ক্রেস্টটা দিয়ে আসা। আমি আমার সেই দ্বায়িত্ব পালন করিনি। স্যারের মৃত্যুর পর আজ আমি নিজেকে অপরাধী ভাবছি। সত্যি আমি অন্যায় করেছি। আফসোস করা, কষ্ট পাওয়া ছাড়া আজ আর কিছুই করার নাই। ক্রেস্টটি এখনও স্কুলে সংরক্ষিত আছে।’
    প্রতিবেদক, কাশিয়ানী প্রেসক্লাব সভাপতি, কাশিয়ানী বার্তার প্রধান সম্পাদক হানিফ মাহমুদ স্যারকে স্মরণ করে বলেছেন, ‘ কলেজ জীবনে তিনি ছিলেন আমার প্রথম শিক্ষক। কলেজের শিক্ষকরা বন্ধুর মত হয় এটা আমি তার কাছ থেকেই জেনেছি। স্যার বাংলার শিক্ষক ছিলেন, আমাদের বাংলা পড়াতেন। কাজী নজরুল ইসলামের “দারিদ্র” কবিতার ‘হে দারিদ্র তুমি মোরে করেছ মহান’ লাইনটি পড়াতেই তিনি ২ মাস পার করে দিলেন। বললেন, কথাতো শেষ হয়নারে। একদিন কলেজ ছুটির পর স্যারের সাথে পায় হেটে বাঁশ বাগানের ভিতর দিয়ে বাড়ী ফিরছিলাম, স্যার বললেন, জীবনকে উপভোগ করতে হলে জীবনের মানে বুঝতে চাইলে তুই বাংলা নিয়ে পড়াশুনা করিস’। স্যারের সেই কথাটি আমি রাখতে পারিনি, তবে বই পড়ে স্যারের উপদেশ মত জীবনকে উপভোগ করার এবং শান্তি পাবার চেষ্টা করি। আজ স্যারকে স্মরণ করি এবং স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’


    Facebook Comments Box


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757