• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কাশিয়ানীর সন্তান সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টুকে যুবলীগের উচ্চপদে দেখতে চাই

    আলহাজ্ব মুহাম্মদ হায়দার আলী হিটলু | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

    কাশিয়ানীর সন্তান সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টুকে যুবলীগের উচ্চপদে দেখতে চাই

    অণলবর্ষী বক্তা, আজীবন মুজিববাদী বর্তমান যুবলীগের তরুণ তুর্কী, কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী সংসদের অন্যতম সদস্য, আওয়ামী লীগের রাজপথের অকুতোভয় পরিক্ষিত সৈনিক, যুবলীগ চেয়্যারমান ওমর ফারুক চৌধুরী ও জননেতা শেখ সেলিম ভাইয়ের আস্থাভাজন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টু জার্মানি থাকাকালীন সময় ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর নূরকে ওপাক হাইমে শারীরিক ভাবে বেদম প্রহার করে আহত করার দায়ে ড্রেসডিন প্রভীন্স জেলে জেল খেটেছিল। এ যেন এক বীরপুরুষ বীরত্বের পরিচয় ।
    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুকে সরাসরি স্টেনগান দিয়ে ঝাঝড়া করে দিয়েছিলো ঘাতক মেজর (বরখাস্ত) নূর চৌধুরী। তিনি ১৯৯৮ সালে জার্মানীতে সরকারের ওপাক হাইমে হেফাজতে ছিলেন। সেই সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহবায়ক কমিটির সদস্য, সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টু তখন জার্মাণীর(সাবেক পূর্ব জার্মান,ড্রেসডীন প্রভীন্স) ওপাক হাইমে ছিলেন। ভাগ্যক্রমেই হোক আর দূর্ভাগ্যক্রমেই হোক তখন একই ভবনের ২য় তলায় অবস্থান করছিলেন বংগবন্ধুর ঘাতক মেজর নূর চৌধুরী আর তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতা সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টু ১ম তলায় বাস করতে ছিলেন।
    মেজর নূর চৌধুরী জানতে পারেন ছাত্রলীগের এক নেতা বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে বসবাস করছেন তখন মেজর নূর চৌধুরী নিজে এসে সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টুকে জিজ্ঞেস করেন বাড়ী কই? মিন্টু জবাব দিলো গোপালগঞ্জ। তখন মেজর নূর চৌধুরী বংগবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনাসহ তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন। অকথ্য ভাষায় গালাগালি আর অপমান সইবার পাত্র নন মোহাম্মদ আলী মিন্টু। প্রথমতঃ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ্য করতে না পেরে জীবনের মায়া ত্যাগ করে ঝাপিয়ে পড়েন খুনি মেজর নূর চৌধুরীর উপর সুঠামদেহের অধিকারী মুজিব সৈনিক সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টূ। বেদম প্রহার, কিল-ঘূষি, লাঠি মারতে মারতে বংগবন্ধুকে হত্যাকারী খুনি মেজর নূর চৌধুরীকে আহত সহ রক্তপাত করেন এবং বংগবন্ধু হত্যার প্রতিশোধে পাগলপ্রায় হয়েছিলেন।
    পরবর্তীতে জার্মানীর ড্রেসডীন প্রভীন্সের পুলিশ হেলিকপ্টার নিয়ে এসে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী মিন্টুকে গ্রেফতার করেন ও হেলিকপ্টার করে নিয়ে থানায় নিয়ে যায় এবং ০৩ দিন জেলে রাখেন। পরবর্তীতে তাকে জার্মানী ত্যাগ করতে জার্মানী সরকার বাধ্য করেন। …..এই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা তখন জার্মানীতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বংগবন্ধুর সৈনিকেরা এই দুঃসাহষিক কাজের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছিলেন।
    পঁচাত্তরের পনেরো আগস্টের সেই কালো রাতের কথা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বত্রিশ নম্বরের বাসায় ততক্ষণে হামলা করেছে কুচক্রী সেনার দল। দোতলা বাড়ির নিচতলায় বঙ্গবন্ধুর ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালকে হত্যার পর দোতলায় বঙ্গবন্ধুর ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ঘাতকরা।
    ভয়ঙ্কর সেই গোলাগুলির শব্দে বঙ্গবন্ধুর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজি জামাল। একটা সময়ে বঙ্গবন্ধু দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসতেই ঘাতকরা তাঁকে ঘিরে ধরে। মেজর মহিউদ্দিন ও তাঁর সঙ্গে থাকা সেনারা বঙ্গবন্ধুকে নীচে নিয়ে যেতে থাকে। ঘাতকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, “তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?”
    বঙ্গবন্ধুর সেই ব্যক্তিত্ব দেখে ঘাবড়ে যান মহিউদ্দিন। বঙ্গবন্ধু বলেন, “তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি, কী করবি, বেয়াদবি করছিস কেন?” এ সময় নিচতলা ও দোতলায় সিঁড়ির মাঝামাঝি অবস্থান নেন মেজর বজলুল হুদা ও মেজর নূর চৌধুরী। বঙ্গবন্ধুকে নীচে নিয়ে আসার সময় মেজর নূর চৌধুরী কিছু একটা বললে মহিউদ্দিন সরে দাঁড়ায়। সিঁড়ির দুই তিনটি ধাপ নামতেই বঙ্গবন্ধুকে স্টেনগান দিয়ে গুলি করে বজলুল হুদা ও নূর চৌধুরী।
    বঙ্গবন্ধুর বুকে ও পেটে ১৮টি গুলি লাগে। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে বত্রিশ নম্বরের সিঁড়িতে পড়ে থাকেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সারা সিঁড়ি ভেসে যায় রক্তে।


    শেখ মুজিবুর রহমানের বুক ঝাঝড়া করে দেওয়া আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর সম্ভব হয়নি। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালে হংকং,১৯৯৮ সালে জার্মানী(তৎকালীন পূর্বজামাণী) হয়ে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষে কানাডায় আশ্রয় নিয়েছেন নূর চৌধুরী। তারপর থেকে এই দেশটিতেই আছেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী।


    কুখ্যাত খুনি,নিজ স্টেনগান দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুক ঝাঝড়া করে দেওয়া মেজর নূর চৌধুরীকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়ার সন্তান বর্তমান যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতা সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টু ১৯৯৮ সালে জার্মাণীতে বেদম প্রহার, কিল-ঘূষি, লাঠি মারতে মারতে রক্তপাত করে আধামরা করে যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে তা বাংগালী জাতির পক্ষ থেকে সামান্য প্রতিশোধ,সামান্য হলেও এই কাজটি অসামান্য। এমন কাজটি ১৬ কোটি বাংলাদেশের মানুষ করতে চায়,,যা করে দেখিয়ে ইতিহাস হয়েছেন সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টু। কাশিয়ানীর এই সন্তানকে যুবলীগের আরো উচ্চ পদে দেখতে চাই ।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669