• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    কাশ্মির তুমি কার?

    শেখ কনক | ১০ আগস্ট ২০১৯ | ৭:১০ অপরাহ্ণ

    কাশ্মির তুমি কার?

    ঝিলম নদীর তীরে ডাল লেকের ডিঙ্গি নৌকায় কাশ্মিরীদের প্রিয় বাদ্যযন্ত্র সন্তরের মনোমুগ্ধকর আওয়াজ মর্টার আর গ্রেনেডের প্রকম্পিত শব্দে হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। পাইন, ফার আর বার্চ গাছের সারি নীল আকাশে মাথা গুঁজে থাকা পর্বত জুড়ে মেঘের খেলা, গভীর গিরি খাদের নিচে উন্মত্ত পাহাড়ি নদি আর শান্ত হ্রদে ঘেরা কাশ্মিরের সৌন্দর্যসুধা পান করতে পর্যটকেরা আর হামলে পড়েন না। ধর্ষনে ক্ষত বিক্ষত মুল্যবান ফলজ বনজ এবং ঔষধি গাছে ঘেরা কাশ্মিরের সবুজ পাহাড়। হিমালয় পর্বত ও পীর পান্জাল পাহাড়ের মধ্যবর্তী এই উপত্যকাটি যেখানে হতে পারতো দক্ষিন এশিযার অহংকার সেটি আজ পরিনত হয়েছে অভিশাপে। পৃথিবীর স্বর্গ বলে ক্ষ্যত কাশ্মির আজ শুধুই নরকের অগ্নিকুণ্ড।
    এই উপত্যকাটির প্রথম মুসলমান শাসক ছিলেন শাহ মীর (১৩৩৯)। পরবর্তী পাঁচশ’ বছর মুসলমানেরা কাশ্মির শাসন করেন। ১৮২০ সালে শিখ রাজা রন্জিৎ সিং কাশ্মির দখল করে তার রাজ্যের সাথে সংযুক্ত করে গোলাপ সিং দোগারাকে জায়গির হিসেবে দান করেন। এই গোলাপ সিং দোগারারই বংশধর হরি সিংহের রাজত্ব কালে ১৯৪৭ সালের আগষ্টে ভারত বিভক্তির দুই মাস পর অক্টোবরে পাকিস্থানের প্রত্যক্ষ মদদে উপজাতীয়রা কাশ্মির আক্রমণ করে। কাশ্মিরের নিরাপত্তা বাহিনী ছিল অত্যন্ত দূর্বল। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করার তেমন কোন অস্ত্রশস্ত্র তাদের ছিল না। তখন মহারাজা হরি সং ভাবলেন, পাকিস্তানিরা যদি কাশ্মির দখল করে নেয় তখন তাকে পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে হবে। তিনি তখন কাশ্মির রক্ষায় ভারতকে সৈন্য পাঠাতে অনুরোধ করেন। ভারতের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু তাৎক্ষণিক সৈন্য পাঠাতে রাজিও ছিলেন। কিন্তু বিচক্ষন গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউনব্যাটন রাজা হরি সিং কে সৈন্য পাঠানোর আগে ভারতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। ২৬ অক্টোবরে হরি সিং ভারতে সংযুক্ত করণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ২৫ অক্টোবর কাশ্মিরের শীত কালিন রাজধানী শ্রীনগর থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে বড় – মুলা দখল করে পাকিস্তানি এবং উপজাতীয় আক্রমনকারীরা যখন হত্যা, লুটতরাজ এবং ধর্ষনে ব্যস্ত ততক্ষণে কাশ্মির দখল করে নিয়েছে ভারতীয় বাহিনী।
    কাশ্মিরে যুদ্ধ বিরতী বলবৎ হয় ১৯৪৮ সালে। তবে পাকিস্তান তার দখলকৃত পশ্চিম জম্মু, গিলগিট -বালাতিস্থান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারে অস্বীকার করলে তখন থেকেই কাশ্মীর কার্যত ভারত ও পাকিস্তান নিয়ত্রিত দুই অংশে ভাগ হয়ে যায়।
    অন্যদিকে ১৯৬২ সালে চীন ভারত যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে চীন কাশ্মিরের আকসাই চিন অংশটি দখল করে নেয়। আর তার পরের বছর পাকিস্থান তাদের নিয়ত্রনে থাকা ট্রান্স কারাকোরাম অঞ্চলটি চীনের হাতে ছেড়ে দেয়। সেই থেকে কাশ্মিরের নিয়ত্রন পাকিস্তান, ভারত ও চীন এই তিন দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। বর্তমানে দখলে আছে ভারতের ৪৩ শতাংশ ( লাদাখ, কাশ্মির ও জম্মুর পূর্ব অংশ), পাকিস্থান ৩৭ শতাংশ (গিলগিট, বালাতিস্থান ও জম্মুর পশ্চিম অংশ) এবং চীনের ২০ শতাংশ ( আকসাই, ট্রান্স কারাকোরাম) । কাশ্মির নিয়ে কেবল ভারত পাকিস্থানের এই দখল বেদখল খেলায়! (১৯৪৭, ১৯৬৫ ও ১৯৯৯) গত তিন দশকেই প্রান হারিয়েছে ৪৭ হাজার কাশ্মিরী।
    তবে যুগে – যুগে, কালে- কালে, দেশ – দেশে যে সত্যটি কোন শাসক, দখলদার আমলে নেওয়া তো দূরের কথা জানতেই চায় না, দখলকৃত দেশটির জনগণ কী চায়? হতভাগা কাশ্মিরের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী