• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    কি আছে এদের কপালে?

    ডেস্ক | ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ

    কি আছে এদের কপালে?

    কতিপয় নেতার ক্যাসিনোকাণ্ড, চাঁদাবাজি, টেণ্ডারবাজি ও দখলবাণিজ্য নিয়ে সংকটে যুবলীগ। শুদ্ধি অভিযানে তছনছ ‘সাম্রাজ্য’। অপকর্মের হোতারা কেউ গ্রেপ্তার, কেউ পলাকত, কেউ বা অন্তরালে। সংগঠনের ভাবমূর্তি একেবারে তলানিতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম সংগঠনের নেতারা। এরইমধ্যে কেউ কেউ গ্রেপ্তার ও সংগঠন থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। নজরদারিতে রয়েছেন আরো অনেক নেতাই। যা ভাবিয়ে তুলেছে স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও। সংগঠনটিকে কলঙ্কমুক্ত করতে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশ দিয়েছেন আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস আয়োজনের। কংগ্রেসকে সামনে রেখে আজ রবিবার বিকেলে যুবলীগ নেতাদের গণভবনে ডেকেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়বেন নেতারা।

    যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফরুক চৌধুরী ও সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের আজকের বৈঠকে অংশ নেয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বুধবার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জানতে গেলে এ নিষেধাজ্ঞার কথা সাফ জানিয়ে দেন তিনি। বৈঠকে কারা থাকবেন তা নিয়ে ওইদিন বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। অভিযুক্তদের ছাড়াই গণভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নেতারা। তার আগে গত ১১ অক্টোবর সম্মেলনের প্রস্তুতি ও সার্বিক বিষয় নিয়ে করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসেন প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। ওই বৈঠকেও যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে দেখা যায়নি।


    বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে ওইদিন দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। সম্মেলনে কে সভাপতিত্ব করবেন- এ বিষয়ে নির্দেশনার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন নেতারা।

    ২০১২ সালে ওমর ফারুক চৌধুরী চেয়ারম্যান ও হারুনুর রশীদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠনের পর এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয়, ক্যাসিনোকাণ্ড, টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠন, মাদক ও টেন্ডারবাজির মতো অপরাধ সংঘটিত হলেও সংগঠন থেকে কেন কোনো পদক্ষেপ আগে নেয়া হয়নি, সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা। যদিও এর আগে যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে একাধিকবার সতর্ক করেছেন শেখ হাসিনা।

    আজকের সাক্ষাতের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে নামপ্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা, টেন্ডারবাজি, মাদক, চাঁদাবাজি, কমিটি বাণিজ্য প্রভৃতি ঘটনার সঙ্গে যুবলীগ নেতারা জড়িত জেনে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও, সময়মতো তা করতে পারেনি সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব। এসব বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ। যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ নেতাদের নানা অনিয়মের ফলে সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবেই চান না দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তার যে অর্জন, তা ম্লান হয়ে যাক গুটিকয়েক নেতাকর্মীর জন্য। এ কারণেই তার কঠোর অবস্থান। নেতাদের এসব কর্মকাণ্ডে পুরো যুবলীগের ওপরই চটেছেন আওয়ামী লীগপ্রধান। আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যুবলীগ নেতাদের প্রতি তার ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন।

    আওয়ামী লীগের ওই নেতা আরো বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান একের পর এক অন্যায় কাজকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্য ও কমিশন নেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে- তাও নতুন নয়। এতকিছু জানার পরও কেন্দ্রীয় নেতারা কেন মুখ খোলেননি? কেন তারা নীরব ছিলেন? এখন প্রধানমন্ত্রী ক্ষেপেছেন, তাই সবাই সরব হয়েছেন। আমাদের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে তাদের কাছে জবাব চাইবেন।

    আজকের বৈঠকের বিষয়ে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাইরে আমাদের কিছু বলার নেই। কংগ্রেসকে সামনে রেখে তিনি আমাদের যে নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেটাই করব। সেখানে কারো কোনো প্রস্তাব দেয়ার কিছু নেই। প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা সেটাই নেত্রীকে অবহিত করব। সিদ্ধান্তে কী আছে তা জানতে চাইলে ওমর ফারুক বলেন, আমাদের সংগঠনের চেয়ারম্যান যেহেতু সম্মেলনে থাকতে পারছেন না; তাহলে তাকে ছাড়া কীভাবে সম্মেলন করব, সে দিক-নির্দেশনা আমরা নেত্রীর কাছ থেকে নেব। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানের ব্যাংক হিসাব জব্দ, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে- এটা প্রধানমন্ত্রীর হুকুম ছাড়া সম্ভব ছিল না। সুতরাং নেত্রীর মনোভাব আমরা পেয়েছি।

    যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহী বলেন, যেহেতু সংগঠনের চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিতর্ক আছে। অর্থাৎ তিনি কংগ্রেসে থাকতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে কে সভাপতিত্ব করবেন, বা কংগ্রেস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন- প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা কথা বলব। সম্মেলনের বিভিন্ন উপকমিটি গঠন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নতুন কমিটি গঠন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আমরা নেত্রীর নির্দেশনা চাইব। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবার অভিভাবক, তিনি যেভাবে বলবেন, আমরা সেভাবেই সম্মেলনের আয়োজন করব।

    সম্প্রতি অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সহসভাপতি আরমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ছাড়া যুবলীগের পরিচয়দানকারী আরেক নেতা জি কে শামীম যিনি এক সময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাকেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সম্রাট, আরমান ও খালেদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারও করা হয়। তার আগে উত্তর-দক্ষিণের শীর্ষ চার নেতাকে গণভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

    বহিষ্কার করা হয় পিওন থেকে যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক বনে যাওয়া কাজী আনিসুর রহমানকেও। ক্যাসিনোকাণ্ডের আরেক হোতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ। তিনি এখন বিদেশে পালিয়ে আছেন। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণ করেছে। এদিকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে জি কে শামীম, সমেরাজ ও খালেদের স্বীকারোক্তিতে তাদের অন্যতম প্রশ্রয়দাতা হিসেবে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর নাম বেরিয়ে আসে। এরপর থেকেই তার ওপর ক্ষেপে যান প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে বেরিয়ে আসে যুবলীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের নাম। যিনি দক্ষিণ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। এরই মধ্যে শাওনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। আজকের বৈঠকেও ওমর ফারুক চৌধুরী ও নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে অংশ নিতে মানা করে দেন প্রধানমন্ত্রী।

    জানা যায়, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও যুবলীগের ২৭ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যের মধ্যে একজন মারা গেছেন। নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে বাদ দিয়ে বাকি ২৫ জন সদস্য বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দুজন ও নয়জন সাংগঠরিক সম্পাদক আজকের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

    বৈঠকের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে কী আলোচনা হবে, তা নেত্রীর সিদ্ধান্ত। তবে যুবলীহসহ অন্যান্য সংগঠনের যারাই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়েই তিনি হার্ডলাইনে আছেন। আমি এটুকু বলতে পারি; বৈঠকে হয়ত যুবলীগের বয়স নির্ধারণ করা হবে। এতে করে বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্যদের কেউই কমিটিতে আসতে পারবেন না। কারণ বয়স তাদের কাভার করবে না। আরেকটি চেয়ারম্যানকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। কারণ চেয়ারম্যানের কারণে সংগঠনের বাকিরা তো দায়ী হতে পারে না।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী