• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কি হচ্ছে গ্রামীণফোনে!

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ মে ২০১৭ | ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

    কি হচ্ছে গ্রামীণফোনে!

    গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন যাবত গ্রামীনফোনে কর্মরত শ্রমিকের উপর বিগত ৪ (চার) বছর বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট), ওভার টাইম, বোনাস সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে বিভিন্ন ভাবে হয়রানিমূলক কর্মকান্ড করে আসছে। যার কতিপয় বিষয় নিম্নে উল্লেখ করা হলো।


    গ্রামীনফোনে কর্মরত শ্রমিক সুত্রে জানা যায়

    ajkerograbani.com

    ১। গ্রামীণফোন লিঃ ১৯৯৭ সনে প্রতিষ্ঠিত একটি বহুজাতিক স্থায়ী বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এর সকল কাজ স্থায়ী প্রকৃতির। গ্রামীণফোন লিঃ প্রথম থেকেই নিজ নিজ পদের জন্য সরাসরি নিয়োগ করেছেন এবং শ্রম আইন বাংলাদেশ ২০০৬ সনের ৪নং ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের স্থায়ীপদের বিপরীতে নিয়োগ পেয়ে আইনানুগ সময় পর্যন্ত বিরতিহীন চাকুরী করায় আইন অনুযায়ী নিজ নিজ পদে স্থায়ী হয়ে যায়। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২(৬৫) ধারা অনুযায়ী গ্রামীণফোনে কর্মরত সকলে গ্রামীণফোন লিঃ এর শ্রমিক। আলোচ্য ২(৬৫) ধারায় বলা হয়েছে যে ,শ্রমিক যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সে প্রতিষ্ঠানেরই শ্রমিক হবে।

    ২। এখানে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে নিরবিচ্ছন্ন ভাবে আজ অবধি সাপোর্টিং অফিসার, অফিস সহকারী, গাড়ী চালক, টেকনিসিয়ান, সিম ওয়ার্কার, কন্ট্রোল সিকিউরিটি, অপটিক্যাল গার্ড সুপারভাইজার, অপটিক্যাল গার্ড, লোডার ইত্যাদি পদে ১৭/১৮ বছর যাবৎ কর্মরত আছে।এরা সবাই অতি দক্ষতাতার সহিত সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করে আসছে। তাদের কর্মদক্ষতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই প্রাণ প্রিয় কোম্পানীকে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সফলতার স্বর্নচুড়ায় অবস্থান করিয়েছেন।

    ৩। গ্রামীণফোন লিঃ এর কিছু কর্মকর্তা দ্বারা অবৈধ কিছু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের যোগ সাজসে বিগত বছরগুলোতে তাদের ইচ্ছামত কিছু বেতন ভাতা দিয়ে আসলেও গত ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত চার বছর যাবৎ বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি, গ্রেডিং, মোবাইল, ইউনিফোর্ম, নাইটভাতা সহ অন্যান্য ভাতা বন্ধ করে রেখেছে। গ্রামীণফোন লিঃ বাংলাদেশের সবচাইতে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্বেও শুধুমাত্র শ্রমিকদের ব্যাপারে দ্বৈতনীতি অবলম্বন করছে কারন অফিসারগন এবছরও প্রায় সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত ইনক্রিমেন্ট পেয়েছে, অথচ গ্রামীনফোনের সকল শ্রমিকেরা তাদের সব ধরনের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে পাশাপাশি দিনের পর দিন তাদের নানাভাবে হয়রানিও করে যাচ্ছে। যেখানে বর্তমান শ্রমিক বান্ধব সরকার তাদের শ্রমিকসহ বাংলাদেশের সমস্ত শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সর্বদা কাজ করে চলেছেন, অথচ বাংলাদেশী নাগরিক হয়ে কতিপয় স্বার্থান্নেষি মহলের অসৎ লালসার স্বীকার হয়ে বর্তমান এই উচ্চ বাজার মূল্যে পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায়ের মত দিনাতিপাত করছে।

    ৪। গ্রামীনফোনে কর্মরত শত শত শ্রমিকেরা গ্রামীণফোন লিঃ কতৃপক্ষকে বিভিন্ন সময় লিখিতভাবে এবং যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের এই সমস্যার সমাধান করার জন্য অনুরোধ করে আসছে, কিছু দিন পূর্বে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে পর পর তিনটি লিখিতভাবে অনুরোধ করেছেন তাদের এই চলমান সমস্যার সমাধানের জন্য। এ ব্যাপারে তারা কোন ধরনের কর্নপাত করছে না। এমন কি তাদেরকে র‌্যাব পুলিশের ভয় দেখানো হচ্ছে। শ্রমিকদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান না করে স্পষ্টতই শ্রম আইন বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে, গ্রামীণফোনের নানাবিদ হীন কর্মকান্ড দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অধিকার সংগঠনের দৃষ্টিগোচরে এসেছে। বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা নিয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আলোচনাতেও বাংলাদেশের শ্রম বাজারে সামগ্রীক সমীক্ষা প্রসঙ্গে গ্রামীণফোন লিঃ এর শ্রমিক বিরোধী মনোভাবের উদাহারণ দেওয়া হয়েছে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী (ডচচঋ) কোম্পানীর বাৎসরিক লভ্যাংশের ৫% শ্রমিকের কল্যানে ব্যায় করার কথা থাকলেও সে অধিকার থেকে সমস্ত শ্রমিককে বঞ্চিত করে রেখেছে। যা একান্তই শ্রমিকের প্রাপ্য। তাহারা বড় কর্মকর্তা হয়ে শ্রমিক সেজে অত্যান্ত নিষ্ঠুরভাবে প্রতিবছরের লভ্যাংশ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগী করে নিচ্ছেন।

    ৫। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ব্যাপকভাবে উন্নয়নের মধ্যদিয়ে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হতে চলেছে। ঘরে ঘরে চাকরীসহ ২০১৫ সালে নতুন পে-স্কেলের মাধ্যমে কল্পনাতিত ভাবে বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ গ্রামীণফোন তৎকালীন ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর মত এদেশের শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাদের সুবিধামত বাংলাদেশের টাকা বিদেশে পাচারসহ নিজেরা বেতন ভাতার নামে ভাগবাটোয়ারা করছেন। গ্রামীণফোন লিঃ এ কর্মরত শত শত শ্রমিক কর্মচারী আজ মানবেতর জীবন যাপন করে এ প্রতিষ্ঠানের সমস্ত কর্মকান্ড সারাদেশে সঠিকভাবে পালন করে চলেছেন।

    ৬। গ্রামীনফোনের শ্রমিকেরা বলেন এই কোম্পানীর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এ পর্যন্ত যে শ্রমিক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সমস্ত ধরনের কর্মকান্ড করে আসছে অথচ কোম্পানীর কিছু স্বার্থান্নেসী মহলের প্ররোচনায় আমাদেরকে স্থায়ী শ্রমিক হিসাবে মানছেনা। এমতবস্থায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্দ ও নিরুপায় হয়ে ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আদালতের আশ্রয় গ্রহন করে। মহামান্য শ্রম আদালত ৩০/৩/২০১১ ইং তারিখ ও ০৯/০৯/২০১৩ ইং এবং মহামান্য আপিল ট্রাইবুনাল ১২/০৯/২০১২ ইং তারিখে শ্রমিকের পক্ষে রায় প্রদান করেন, আদালতের দুটি রায় থাকার পরেও গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ সে রায়কে না মেনে তাদের ন্যায্য অধিকার হরণ করছে এবং পরবর্তীতে গ্রামীণফোন লিঃ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন বাংলাদেশ ও গ্রামীণফোন লিঃ শ্রমিক ইউনিয়ন নামে বাংলাদেশ সরকারের শ্রম আইনের ত্রয়োদশ অধ্যায়ের আওতায় দুইটি ট্রেড ইউনিয়নের রেজিষ্ট্রেশন লাভ করে যার নম্বর বি-২১৬১ ও বি- ২১৬৪। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে গ্রামীণফোন সে ট্রেড ইউনিয়ন স্থগিত করে রেখেছে। উক্ত বিষয়কে হাইকোর্টে স্থানান্তরিত করেন। একজন শ্রমিকের পক্ষে হাইকোর্টে শ্রামিকের অধিকার আদায়ের জন্য কতটুকু লড়বে এটাই জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন। এখানে উল্লেখ্য যে, লেবার কোর্ট ট্রাইবুন্যালের রায়ই একজন লেবারের জন্য সর্বোচ্চ ও ফাইনাল রায়। যেখানে এই দুটো রায় পাবার পরও গ্রামীনফোনের শ্রমিকদেরকে হয়রানী ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্যই হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে তাদের সব রায়ের কার্যক্রম স্থগিত করে রাখা হয়েছে।

    ৭। উক্ত সমস্যা সমাধান কল্পে গ্রামীনফোন শ্রমিকেরা একান্ত নিরূপায় হয়ে মহা পরিদর্শক কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বরাবর একটি আবেদন করে। এ বিষয়ে জনাব মহাপরিদর্শক মহোদয় গ্রামীনফোন কতৃপক্ষ এবং শ্রমিক নেত্রীবৃন্দকে এক টেবিলে বসিয়ে গ্রামীনফোন কতৃপক্ষকে লিখিত ও মিটিংয়ের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু গ্রামীনফোন কতৃপক্ষ এর কোনটিকেই তোয়াক্কা না করে শ্রমিকের উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং নানাভাবে র‌্যাব, পুলিশের ভয় দেখিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বেতন ভাতা প্রদানে নানা রকম হয়রানী সহ চাকুরীচ্যুত করারও ভয় প্রদর্শন করছেন।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757