বৃহস্পতিবার ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীন প্রত্যাহার হচ্ছেন’

ডেস্ক   |   রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

‘কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীন প্রত্যাহার হচ্ছেন’

গভীর রাতে বাড়ি থেকে নিজ কার্যালয়ে এনে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে আটক ও পরে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের ঘটনায় বিতর্কিত কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আগে থেকেই কিছু কারণে ওই সাংবাদিকের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন ডিসি।
আজ রবিবার সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহারের তথ্য জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
সাংবাদিকের সঙ্গে ডিসির বিরোধের পর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় হয়ে যায়। এরপর আজ ওই ডিসিকে প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটল।
আজ রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল পৌনে ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিনে মুক্তি দেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের এই জেলা প্রতিনিধিকে।
এর আগে আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাজার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আপিল ও জামিনের আবেদন করেন রিগান। সকাল পৌনে ১১টার দিকে শুনানি শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা ২৫ হাজার টাকা জামানতে তাঁর আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন ও কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি অ্যাড. আহসান হাবিব নিলুর জিম্মায় জামিন দেন রিগানকে। এর কিছুক্ষণ পরই কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
বিষয়টি অনুসন্ধানে আগেই রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কে. এম. তারিকুল ইসলাম এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গণমাধ্যমকে বলেন, জোর করে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিতে পারেন না।
জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসার সদস্যদের একটি টিম কুড়িগ্রাম শহরের চড়ুয়াপাড়ায় বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের বাড়িতে হানা দেয়। এরপর মারধর করতে করতে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তার পোশাক খুলে দুই চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। এসব ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন ডিসি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন। এরপর মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ও পরে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আরিফুল ইসলামের স্ত্রী মোস্তারিমা সরদার নিতু বলেছেন, মধ্যরাতে বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে আরিফকে পেটানো, জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযানের সময় মাদকসহ আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে আটক করা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা।
কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে ধরে নিয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। টাস্কফোর্সের মাদকবিরোধী অভিযানে গত শুক্রবার মধ্যরাতে শহরের চড়ুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বলেছেন, জোর করে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিতে পারেন না। মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানের কথা বলা হলেও ওই অভিযানে একমাত্র সাংবাদিক রিগানকে ছাড়া আর কাউকে আটক করা বা সাজা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে মানববন্ধন করেছেন।
রিগানের সহকর্মীরা বলেছেন, জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে ধরে এনে সাজানো মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন) গাফফ্ার খান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে রংপুরের বিভাগীয় কমিশন তদন্ত করছে। আগামীকাল (আজ রবিবার) এ বিষয়ে তারা একটি প্রতিবেদন দেবে। তার ওপর ভিত্তি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কী ঘটেছে : বিবিসি বাংলা সাংবাদিক রিগানের স্ত্রী মোস্তারিমা সরদার নিতুর সঙ্গে কথা বলে জানায়, তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করার জন্য কুড়িগ্রাম কারাগারে গেলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানিয়েছে, তাঁর স্বামীর সঙ্গে কারো দেখা না করতে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। তাই তিনি দেখা করার অনুমতি পাননি।
তবে পরে রিগানের ভাই কারাগারে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানা গেছে।
মোস্তারিমা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘শুক্রবার রাত ১২টার দিকে অনেক লোকজন এসে আমাদের বাসার দরজা খুলে দিতে বলে। একপর্যায়ে ওনারা ধাক্কা দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সাত-আটজন মিলে আমার স্বামীকে মারতে শুরু করে। তাদের হাতে রাইফেল, পিস্তল সবই ছিল। তখন বারবার বলছিল, কয়দিন ধরে খুব জ্বালাচ্ছিস। গুলি করে দেব। বলে আর মারে। সারা রাস্তা মারতে মারতে নিয়ে গেছে।’ তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেছেন, রাত ১টার দিকে তাঁরা জানতে পারেন রিগানকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে মাদকের মামলায় এক বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসন দাবি করেছে, রিগানের বাড়ি থেকে ৪৫০ মিলিলিটার দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে সে দোষ স্বীকার করায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’
তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন,সাংবাদিক রিগান এর আগে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সংবাদ করেছিলেন। এ নিয়ে কিছুদিন ধরে তাঁকে নতুন আর কোনো সংবাদ না করার জন্যও বলা হয়েছিল।

Facebook Comments Box


Posted ২:৪২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১