• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কুরবানীর পশুর বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব আমাদের সবার

    অধ্যক্ষ সুমনা ইয়াসমিন | ০৭ আগস্ট ২০১৯ | ২:৫৭ অপরাহ্ণ

    কুরবানীর পশুর বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব আমাদের সবার

    জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আর মাত্র কয়েক দিন পরে সাড়ম্বরে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে জড়িত বিশ্বাসীদের আদি পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) এবং তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পবিত্র স্মৃতি। একই সঙ্গে এটি এমন এক উৎসব এবং ইবাদত যা মানব জাতির ঐক্য এবং বিশ্ব শান্তির পথ দেখাতে পারে। অনুমিত হিসেবে সাড়ে চার হাজার বছর আগে আল্লাহ নবী হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে তার প্রিয় বস্তু কোরবানির নির্দেশ দেন। আল্লাহর প্রতি সংশয়াতীত আনুগত্যে হজরত ইবরাহিম (আ.) প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানির সিদ্ধান্ত নেন। আপত্য স্নেহ যাতে ঐশী নির্দেশ পালনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তা নিশ্চিত করতে নিজের চোখ বেঁধে প্রিয় পুত্রকে কোরবানির প্রাক্কালে আল্লাহর ইচ্ছায় ইসমাইল (আ.)-এর বদলে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। ফেরেস্তা হজরত ইবরাহিমকে জানান, আল্লাহ তার আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়েছেন।
    আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এই মহিমান্বিত স্মৃতি অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে পালিত হচ্ছে কোরবানির প্রথা। বস্তুত কোরবানি নিছক পশু জবাই নয়। মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকে যে অহংবোধের হীনম্মন্যতা তা বিসর্জন দিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হওয়াই হলো কোরবানির শিক্ষা। এ বিষয়ে আল্লাহর ঘোষণা- পশুর রক্ত বা মাংস নয়, তার কাছে পৌছে বান্দার তাকওয়া। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের উৎস- মহান আল্লাহ।
    আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী জীবন গড়ার মধ্যেই রয়েছে কোরবানির আসল মাহাত্ম। তা উপেক্ষা করে কোরবানির নামে অহংবোধের প্রকাশ ঘটলে তা হবে পশু হত্যার নামান্তর। এ মনোভাব ধর্মীয় দৃষ্টিতেও পরিত্যাজ্য। ঈদুল আজহা বা কোরবানির জন্য সারা দেশে এখন চলছে প্রস্তুতি। কোরবানিতে পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। জবাইকৃত পশুর রক্ত ও বর্জ্যে যাতে পরিবেশ দূষিত না হয় তা নিশ্চিত করা আমাদের ধর্মীয় কর্তব্য।
    কুরবানীর পশুর বর্জ্য অপসারণ এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। কুরবানীদাতারা কুরবানীর পর যদি বর্জ্যগুলো নিজ দায়িত্বে পরিস্কার করেন তাহলে পরিবেশ নষ্ট হবে না। আর এটা না করলে এর জন্য কষ্ট ভোগ করতে হবে আমাদেরকেই। কিন্তু আমরা তো অন্তত নিজের এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা পারি। পশুর যেসব অংশ ফেলে দিতে হবে সেগুলো এভাবে যত্রতত্র ফেলে না রেখে বড় কোনো ব্যাগে ভালভাবে বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বা ডাস্টবিনে রাখলে তা সমাজের জন্যই মঙ্গল জনক হবে।
    পবিত্র ঈদুল আযহার দিনে পশু কুরবানী করার কারণে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হওয়া নতুন কিছু নয়। পশুর হাট বসা থেকে পশু কুরবানী করা পর্যন্ত রাজধানীতে বর্জ্য জমতে থাকে। এর সাথে ঘর-গৃহস্থালীর আবর্জনা যুক্ত হয়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য।
    কুরবানীর পশুর চামড়া ও বর্জ্য নিয়েও কিছু করণীয় রয়েছে। কুরবানীর পশু জবেহ করার ফলে যাতে পরিবেশ বিন্দুমাত্রও দূষিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রক্ত আর অন্যান্য বর্জ্যাদি দ্রুত অপসারণ করার জন্যে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তার সাথে সহযোগিতা করা দরকার।
    কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এখনো দেশের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণে সচেতন থাকতে হবে। চামড়া মূল্যবান অর্থকরী সামগ্রী। চামড়া পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে আশা করা যায়। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বিশ্বের সকলের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করি।

    লেখক: অধ্যক্ষ, উত্তরা ইউনাইটেড কলেজ ও সভাপতি স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তর।


    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী