• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কৃষকের অবস্থান এখনো তলানিতেই

    খোকন তালুকদার | ০২ এপ্রিল ২০১৭ | ১১:০১ অপরাহ্ণ

    কৃষকের অবস্থান এখনো তলানিতেই

    কৃষকের অবস্থান আদিতে যেমন ছিল অন্তেও তেমনি আছে। পরিবর্তন হয়নি এক চুলও। আমাদের দেশের অধিকাংশই কৃষক। আজকাল অনেকেই কৃষি পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছে তারাও এক সময় কৃষকই ছিল। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কৃষকের প্রয়োজন হয় না। তাদের ভাল-মন্দ ভেবে দেখার সময়ও সরকারের থাকে না। তবে প্রয়োজন হয় বটে। খাদ্যের উৎপাদনের বেলায় প্রয়োজন হয়, রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে ভোটের বেলায় প্রয়োজন বেশি। কারণ, রাজনীতিবিদরা ভাল করেই জানে এই বোকা-সোকা লোক গুলোকে যদি কোন ভাবে দলে রাখা যায় তাতে তাদেরই লাভ বেশি। এও জানে যে, এরা কোন সময় মাথা উচুঁ করে অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিবাদ করবে না, পথে নামবে না। আজন্মকাল চুপচাপ থাকবে। এছাড়াও এই কৃষকদের প্রয়োজন অন্য সময়েও হয়।
    যেমন হয়েছিল- একাত্তরে। একাত্তরে কৃষকের অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা ছিল। মুক্তিযুদ্ধে অনেকের ভূমিকায় আমরা গৌরবের সাথে শুনি। যেমন, সেনাবাহিনী,পুলিশ, বিডিআর, ছাত্র, রাজনৈতিক দল, বিদেশী গণমাধ্যমÑ এদের সবার অবদান আমরা কম বেশি জানি। অথচ মুক্তিযুদ্ধে অধিকাংশ যোদ্ধাই ছিল কৃষক। কেউ সরাসরি যোদ্ধ করেছে, কেউ আশ্রয় দিয়েছে, কেউ নিজে না খাবার দিয়েছে, কেউ তথ্য সরবরাহ করেছে নিজের প্রাণ হাতে নিয়ে। অনেককে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে নির্মম অত্যাচার। ভেবে দেখলে অবাক হতে হয়, যদি যুদ্ধে আমরা হেরে যেতাম তাহলে এই কৃষককুল কোথায় এসে দাড়াঁত? গ্রামে ফিরলেই তো এরা রাজাকারদের হাতে ধরা খেয়ে যেত। অর্থাৎ পালানোর কোন জায়গা তাদের ছিল না। সে যখন যুদ্ধে গেছে সর্বস্ব পণ করেই গেছে। তার অঙ্গীকার ছিল ষোল আনা। যুদ্ধে এই কৃষককুলের ক্ষতিই হয়েছে বেশি। বাড়ি ঘর পুড়েছে, মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে।
    সমাজের অনেকেই ক্ষতিপূরণ পেলেও কৃষক পায়নি। অনেকেই উন্নতি লাভ করেছে, কৃষক করেনি। সে রয়ে গেছে যেখানে ছিল সেখানেই। সরকারের শ্রমিকের প্রয়োজন হয় কিন্তু কৃষকের প্রয়োজন হয় না। শ্রমিক আর কৃষকের মধ্যে পার্থক্য হলো সব কৃষকই শ্রমিক কিন্তু সব শ্রমিক কৃষক নয়। শ্রমিক সক্রিয় আর কৃষক নিষ্কৃয়। শ্রমিকের সংগঠন আছে, কৃষকের নেই। যা দু একটা আছে সেখানে কোন কৃষক নেই। তাই সরকারের শ্রমিককে প্রয়োজন হয়। তাছাড়া শ্রমিককে একসঙ্গে পাওয়া, মিটিং মিছিলে কাছে লাগে। যাকে সময় মত পাওয়া যায় না, কোন কাছে লাগে না তাকে কম গুরুত্ব দিলেও হয়! এই সুযোগে শ্রমিকরা ভদ্র বনে গেছে, শিক্ষিতের কাতারে নাম লেখিয়েছে আর কৃষকরা কৃষকই থেকে গেছে। পুঁজিবাদের লালন ভদ্রভাবেই হচ্ছে। এর ফলে এই ভদ্র শ্রেণী আর কৃষক শ্রেণীর মধ্যে বিরোধীতা লক্ষ্য করা যায়। এই শিক্ষিত শ্রেণীকেই মাঝে মাঝে স্বাধীনতার বুলি আওড়াতে শোনা যায়। কিন্তু কার স্বাধীনতা? কৃষকের নয় নিশ্চয়। ফলে কৃষকের অবস্থাটা যে কী তা চোখ মেললেই চোখে পরে যায়। আমরা পরিবেশ দূষণ, বিশুদ্ধ পানি, পুষ্টি, চিকিৎসা নিয়ে সভা-সেমিনার করি। আসলে কৃষকের জন্য পরিবেশটা কী? থাকে কোথায়? খায় কী? বিশুদ্ধ পানি আছে কি? শৌচাগার? পুষ্টি? চিকিৎসা? জুতো আছে ক’জনের পায়ে? টেলিভিশনে বড় বড় ডাক্তাররা বড় বড় রোগ নিয়ে ইংরেজিতে কথা বলে। ক’জন কৃষক তা বোঝে? ফসলের ভামপার ফলন হয়, টেলিভিশনে দেখায়, পত্রিকায় বড় করে ফিচার লেখা হয়, সরকার গর্ব করে কিন্তু কৃষকের মুখে হাসি নেই। কেন নেই? কারণ কৃষক জানে ফসল ভাল মানেই দাম কম। এক সময় কৃষকরা পাট পুড়িয়েছে দাম না পেয়ে। ফলে পাট চাষ শেষ হয়েছে। এবার আসবে ধান পোড়ানোর পালা। কৃষককে ধান কাটার সাথে সাথেই তা বিক্রি করে দিতে হয়। না বিক্রি করেও উপায় নেই। ধান ফলাতে তাকে ধার করতে হয়েছে। এখন সস্তায় বিক্রি করবে ধার পরিশোধের জন্য পরে আবার বেশি দামে কিনবে। বলা হয় কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির কথা। কিন্তু যে কৃষক বীজ,তেল,সার কিনেই হাফিয়ে উঠে সে এই আধুনিক যন্ত্রপাতি কিভাবে কিনে? অর্থাৎ দশা একই রকম। সবাই ব্যস্ত উপরে উঠা নিয়ে আর কৃষক ব্যস্ত টিকে থাকার লড়াইয়ে। যে যাই বলুক কৃষকের গলায় গামছা আর হাতে হারিকেন ঠিকই রয়ে গেছে।


    Facebook Comments Box


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    কবিতা মিষ্টি হাসি

    ২৭ আগস্ট ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757