• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কেন আলোচনায় বিমানবন্দর সড়কের ৪ ফিট দেয়াল

    কে, এম মাহমুদ, অনলাইন এক্টিভিস্ট | ২৩ মে ২০১৭ | ৬:১৫ অপরাহ্ণ

    কেন আলোচনায়  বিমানবন্দর সড়কের ৪ ফিট দেয়াল

    ফেইসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে চলমান ‘বনসাই’ গুজবের সমাধান দিয়েছে একটি অনলাইনে প্রকাশিত লেখা ‘ বিমানবন্দর সড়কের বনসাই এবং আমাদের সাংবাদিকতা’ শিরনামে লেখাটি। শুধু তাই নয় বিমান বন্দর সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার সমাধান দিয়েছে সেই লেখা। এই জন্য একজন নাগরিক হিসেবে সেই লেখাটির জন্য লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলেই নয়। তবে, ঘটনা প্রবাহে মনে হচ্ছে: এ প্রকল্প নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারো নতুন ‘ইস্যু’ এ প্রকল্পের ৪ ফিট দেওয়াল। সেই দেওয়ালের কারাগারেই নাকি আটকা পড়ছে রাজধানী ঢাকা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও ছড়িয়েছে উত্তাপ। তবে, যিনি এ মন্তব্য করে ঢাকা সিটিতে উত্তাপ ছাড়িয়েছেন তার সেই উত্তাপে নগরবাসীর আতঙ্কিত না হওয়ার কোন কারণ নেই। তবে একটু যারা বিশ্লেষণ করবেন তারা অবশ্য আতঙ্কিত না হয়ে আশ্চর্য কিংবা কিংকর্তব্যবিমুড়ও হতে পারেন।


    বিষয়টি নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করা যাক। বিজ্ঞানী কিংবা খুব বেশি তাত্বিক হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে গণিতবিদ হলে ভালো। আসুন ছোট বেলায় ফিরে যাই। একটি গাছে ৫ টি পাখি আছে। একটি পাখিকে গুলি করে হত্যা করা হলো। গাছে এখন কয়টি পাখী। এটি একটি উদাহরনমাত্র, সচেতন পাঠক মাত্রই তা বুঝতে পারছেন। এবার পাটি গণিতে ফিরে যাই। ঢাকা সিটির আয়তন প্রায় ৩‘শ ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার। কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে বিমান বন্দরের দুরত্ব ৪ কিলোমিটার। এই রাস্তার পাশে ৪ ফিট দেওয়াল তৈরি করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এবার দেখি কারাগারের দেওয়ালের উচ্চতা কত ? কারাগারের দেওয়ালের উচ্চতা হয় ১৮ ফুট। এবার আসুন অঙ্ক মেলায় ৪ কিলোমিটারের ৪ ফুট দেওয়াল দিয়ে ৩‘শ ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার আয়তনের ঢাকাকে কারাগারে পরিনত করি। এর আগের অঙ্কে আমি ফলাফল কিন্তু চাইনি। তাই এবারো চাইছিনা। কিন্তু যিনি আজ সকালে কারাগারে ঢাকা সিটি বলে নগরবাসীকে উৎকন্ঠায় রেখে গেছেন হিসেবটা তার জন্য রেখে দিলাম।


    রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে। এটা রাজধানীর মোটামুটি সবারই জানা। ৬ কিলোমিটার এ সড়কে সাড়ে ৫ লাখ গাছ লাগাবে বাস্তবায়ণকারী প্রতিষ্ঠান ভিনাইল ওয়ার্ল্ড। এরই অংশ হিসেবে কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত রেললাইনের পাশের অংশে ৪ ফিট উচ্চতার দেওয়াল তৈরি করা হচ্ছে। সবুজায়ণের অংশ হিসেবে এ দেয়াল একধরণের গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে। যাকে বলা হয় ওয়াল কার্পেট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন আছে।

    আমাদের দেশের কোন রাস্তার পাশে যে দেওয়াল তৈরি করা হয়নি তা নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত বাইপাস সড়কটিতে ৪-৫ ফিট উচ্চতার দেওয়াল তৈরি করে তার পাশে গাছ লাগানো হয়েছে। আর হাতিরঝিল প্রকল্পের জন্য এলাকার চারপাশে ৮-১০ ফিট উচ্চতার দেয়াল দেওয়া হয়েছে। এরকম রাজধানীতে আরও অনেক জায়গা আছে যেখানে রাস্তার পাশে দেওয়াল আছে।

    তারপরও কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের পাশে দেয়াল তোলায় সমস্যা কোথায়। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বলতে পারছিনা। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের র সাথে কথা বলে জানা গেছে। অবারিত সবুজ ঢেকে যাবে তাই এ রাস্তার পাশে দেয়াল তৈরি করা বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। আগেরমতো অঙ্কের হিসেবে আর না যাই। তবে একটা উদাহরন দেই। অন্য রাস্তা বাদই দিলাম। একই সড়কের মাঝে রোড ডিভাইডারের উচ্চতা সাড়ে তিন ফিট। প্রশ্ন হলো সাড়ে তিন ফিট এই রোড ডিভাইডারের কারণে অবারিত সবুজ ঢেকে যায় কি না। এবারো আমি উত্তর চাচ্ছি না।

    তাহলে কেন আসছে এ দেয়াল প্রসঙ্গ। কেন বলা হচ্ছে এই দেয়ালের কারণে ঢকা কারাগারে পরিনত হচ্ছে। নিতান্তই একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে দেখতে চাই এ দেয়াল হলে কি লাভ আর না হলে কি ক্ষতি।

    লাভের হিসেবটা আগে করি। বিমানবন্দর সড়কের মুলত এই জায়গাটি তুলনামুলক নির্জন। খিলখেত পুলিশের তথ্য অনুযাী ছিনতাই প্রায় নিয়মিত। পাশাপাশি রয়েছে এ এলাকার বস্তি কেন্দ্রীক মাদক ব্যবসা। যে এলাকায় দেয়াল তৈরি করা হচ্ছে তার পাশেই রয়েছে রেল লাইন। রেলওয়ে পুলিশের তথ্যমতে প্রতি বছর এখানে কাটা পড়ে ৩০-৩৫ জন। দেয়াল থাকায় এ এলাকায় ফুটওভারব্রিজ ছাড়া রাস্তা পারাপার কমবে। দেয়াল ঘেষে থাকবে ১২ টি পুলিশ বক্স। প্রতি এক কিলোমিটার পর পর থাকবে এ পুলিশ বক্সগুলো।

    এাবার ক্ষতির হিসেবটা করি। এলাকার ছিনতাইকারীরা বেকার হয়ে পড়বে। মাদক ব্যবসায় দেখা দিবে মন্দা। রেলে কাটা পড়া কমে গেলে পার্শবর্তী হাসপাতাল রোগী পাবে না। রেলওয়ে পুলিশকে রে-ওয়ারিশ লাশ টানতে হবে না। নিরাত্বাহীনতায় স্বাদ পাওয়া যাবে না। নির্বিঘেœ রাস্তা পার হওয়া যাবে না।

    লাভ ক্ষতির হিসেব যাই হোক পাঠক আসুন মুল আলোচনায় ফিরে যাই। যে সবুজ দেয়ালের কথা বলা হচ্ছে। যে ল্যান্ড স্কেপিং এর কথা বলা হচ্ছে। যে সাড়ে ৫ লাখ গাছের কথা বলা হচ্ছে। তা যখন বাস্তবে রুপ নিবে আপনি পাঠক নিজেকে ঐ যায়গায় ভাবুন। তার পর দেয়াল ভাঙ্গার দাবি নিয়ে কথা বলুন।

    আমি গত বছর এই সময় টকিওতো ছিলাম। আর পাঠক আপনারা যারা টকিওতে আছেন বা যারা টকিও ভ্রমন করেছেন নিশ্চই দেখেছেন তাদের প্রতিটি মহাসড়কের দুই পার্শে রয়েছে ১২-১৪ ফুট দেয়াল। যদিও সেটা অসচ্ছ কাঁচের।

    জাপানেরমতো উন্নত একটি দেশে এ ধরণের দেয়াল দেখে আপনি নিশ্চই অবাক হননি বা আশা করছি হবেন না। তাহলে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে শতাধিক ফুল এবং বাহারি গাছের ল্যান্ড স্কেপিংয়ের পাশে ৪ ফিট উচ্চতার এ দেয়াল আসলেই কি বে-মানান।

    বিমান বন্দর সড়কের ৪ কিলোমিটার এলাকায় ৪ ফিট উচ্চতার দেয়াল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য কিংবা মিডিয়া পাড়া গরম করা বা করার যারা চেষ্টা করছেন, আসুন যুক্তির নিক্তিতে পরিমাপ করে সমালোচনা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আর কোন ব্যাপারে যুক্তি দিতে না পারলে আসুন ভালো কাজের সমালোচনা থেকে বিরত থাকি।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669