• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    কে এই রিটা রহমান?

    ডেস্ক | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩:১৫ অপরাহ্ণ

    কে এই রিটা রহমান?

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খুনী মেজর খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের অনেক নেতাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের একাংশ মনে করছেন যে, রিটা রহমানের মতো বিতর্কিত প্রার্থীকে রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন না দিয়ে স্থানীয় নেতাদেরই মনোনয়ন দেওয়া যেত। রিটার স্বামী শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনীই নয়, সে জাতীয় চার নেতা হত্যারও অন্যতম আসামি ছিল। রিটাকে মনোনয়ন দেওয়ায় রংপুরের বিএনপি নেতারাও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

    এর আগে, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও রিটা রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। সেসময়ও এই মনোনয়ন ঘিরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। রিটা রহমানের বাবা মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী।


    রিটা মূলত বিএনপির জোটসঙ্গী ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি অব বাংলাদেশের প্রধান ছিলেন। তবে গতকাল রোববার তিনি নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন।

    জানা যায়, ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে ও ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর খায়রুজ্জামান দেশ ছাড়ে। জাতির পিতার অন্য দুই খুনী ফারুক ও রশীদের সঙ্গে সে লিবিয়াতে আশ্রয় নেয়। এরশাদের আমলে সে মাঝে মাঝেই দেশে আসতো। জেলহত্যা মামলার অন্যতম আসামি খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিলো। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এলে জামিনে মুক্তি পায় সে। আসামি থাকা অবস্থায় বিএনপি সরকার খায়রুজ্জামানকে প্রমোশনও দেয়। এক পর্যায়ে বিএনপির আনুকূল্যে জেলহত্যা মামলা থেকেও অব্যাহতি পেয়ে যায় খায়রুজ্জামান। এরপর বিএনপি সরকার তাকে মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে। ১/১১ সরকারের সময় খায়রুজ্জামান নিয়োগ পায় মালয়েশিয়ায়।

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাকে দেশে ফিরতে বলে। কিন্তু খায়রুজ্জামান দেশে না ফিরে পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে ৬০ লাখ টাকার তহবিল তসরুপের অভিযোগ ছিলো। এক পর্যায়ে খায়রুজ্জামান মালয়েশিয়াকে সেকেন্ড হোম বানায়। কিন্তু মালয়েশিয়াকেও নিজের জন্য নিরাপদ মনে না হওয়ায় কানাডায় পালিয়ে যা্য় সে। পলাতক অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।

    রিটার বাবা জাদু মিয়ারও রয়েছে নানা কেচ্ছা। তিনি অত্যাধিক মদ্যপান করতেন বলে জানা যায়। মাওলানা ভাসানী বলতেন, ‘চাউলের দাম বাড়লো কিনা তা আমার জাদু না জানলেও মদের দাম বাড়লো কিনা তা ঠিকই জানে।’ মুক্তিযুদ্ধের সময় জাদু মিয়ার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

    বিএনপি গঠনকালীন সময়েই অজ্ঞাত রোগে জাদু মিয়া মারা যান। তার ছেলে এরশাদের মন্ত্রী শফিকুল গানি স্বপন বিশ্বাস করতেন তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। জাদু মিয়া মারা যাওয়ায় অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বিএনপির মহাসচিব নিয়োগ করা হয়।

    জানা গেছে, রিটা জামাত ঘরানার রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেন। এক সময় রাজধানীর বিজয়নগরে তিনি একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টও খুলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেটা বন্ধ করে দেন।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী