• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কে হবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান?

    ডেস্ক | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ

    কে হবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান?

    আগামী ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির (জাপা) নবম জাতীয় সম্মেলন। জাপার এ সম্মেলন নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর নতুন পরিবেশে সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এরশাদ জীবিত থাকার সময় জাপার চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়তি কোনো ভাবনা ছিল না। ওই সময় আলোচনার বিষয় থাকত পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের পদ নিয়ে। কিন্তু এরশাদের অনুপস্থিতিতে এবার সবাইকে ভাবতে হচ্ছে চারটি পদ নিয়ে। এ চারটি পদ হচ্ছে পার্টির চেয়ারম্যান, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও প্রথম যুগ্ম মহাসচিব। যদিও এখন পর্যন্ত জাপার বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের চেয়ারম্যান পদে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে জাতীয় সম্মেলনের ক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাপার এক জ্যেষ্ঠ নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত হয়তো জি এম কাদেরই চেয়ারম্যান হবেন। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বাগিয়ে নিতে প্রবল চাপে রাখা হবে তাঁকে। সে ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান পদে রওশন এরশাদকে হাজির করতে পারেন তাঁর অনুসারীরা।’


    রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের বিরোধ পুরনো। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কৌশলে ওই বিরোধ সামাল দিতেন। এরশাদের অনুপস্থিতিতে এ দুজনের বিরোধ সামাল দেওয়ার কেউ নেই। সম্প্রতি বিদিশা ইস্যুতে জি এম কাদের ও রওশন এরশাদ এক সারিতে দাঁড়ালেও এটা কোনো স্থায়ী সমঝোতা নয় বলে জানিয়েছেন পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। এরশাদের জীবদ্দশায় সব সময় পার্টিতে জি এম কাদেরের ওপরের পদে অবস্থান ছিল রওশনের। রওশন এরশাদ ছিলেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান, জি এম কাদের ছিলেন কো-চেয়ারম্যান। কিন্তু মৃত্যুর আগে এরশাদের দেওয়া চিঠি অনুসারে জি এম কাদের এখন জাপার চেয়ারম্যান। তবে এখন পর্যন্ত জি এম কাদেরকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মেনে নেননি রওশন এরশাদ ও তাঁর অনুসারীরা। তাঁরা জি এম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেই দেখছেন। আসছে নবম জাতীয় সম্মেলনে জি এম কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হলে রওশন এরশাদ পার্টির কোন অবস্থানে থাকবেন, তিনি কি জি এম কাদেরের অধীনে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান হবেন? এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে রওশনপন্থীদের মধ্যে। রওশনপন্থীরা চান আসছে সম্মেলনে রওশন এরশাদকে পার্টির চেয়ারম্যান করতে। অন্যদিকে জাপার বেশির ভাগ জেলা কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বড় অংশ রয়েছে জি এম কাদেরের পক্ষে।
    তাঁদের মতে, পার্টি ও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে জি এম কাদের এগিয়ে। তারাও চায় রওশন এরশাদকে সম্মানজনক অবস্থানে রেখেই জি এম কাদের নেতা হন। এরশাদের মৃত্যুর পর এরই মধ্যে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রথা ভেঙে জাতীয় পার্টিকে সমঝোতা করতে হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী পার্টির চেয়ারম্যানই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হয়ে আসছিলেন। এরশাদের মৃত্যুর পর ওই প্রথায় ছেদ পড়ে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এখন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা। বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান। জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে রওশন-জি এম কাদের বিরোধ ফের চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন।


    এখন পর্যন্ত কেউ জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদের প্রার্থিতার ঘোষণা না দিলেও এ পদে আলোচনায় রয়েছেন পাঁচজন। তাঁরা হলেন বর্তমান মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও ফকরুল ইমাম। আসছে সম্মেলনে জাপার মহাসচিব বদলের জোর গুঞ্জন রয়েছে পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে। সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হলে বিতর্কিত হয়ে পড়েন মশিউর রহমান রাঙ্গা। এসব অভিযোগকে মুখরোচক আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘পার্টি ও জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করি, পার্টির নেতাকর্মীরা চাইলে পদে থাকব, না চাইলে থাকব না।’

    জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিলেও রওশন এরশাদ কয়েকটি শর্ত দিতে পারেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রওশন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা থাকবেন। তাঁর ছেলে রাহগীর আল মাহী সাদকে পার্টির প্রথম যুগ্ম মহাসচিব এবং তাঁর পছন্দের লোককে জাতীয় পার্টির মহাসচিব করতে হবে।
    সূত্র মতে, সে ক্ষেত্রে রওশন এরশাদের পছন্দের প্রার্থী হতে পারেন রুহুল আমিন হাওলদার অথবা ফকরুল ইমাম। রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘ফকরুল ইমাম রওশন এরশাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মানুষ। এ ছাড়া তিনি ক্লিন ইমেজের। তাঁর বিষয়ে জি এম কাদেরপন্থীরাও কোনো আপত্তি করবেন না।’

    যদিও ফকরুল ইমাম বলেন, ‘আমি কোনো পদের প্রার্থী নই। তবে দায়িত্ব এসে গেলে তা পালনের সামর্থ্য আছে আমার।’

    আসছে জাতীয় সম্মেলন বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘পার্টির কর্মীরাই পার্টির প্রাণ। সম্মেলনে তাঁদের দেওয়া সিদ্ধান্ত আমরা মাথা পেতে নেব। পার্টির কর্মীরা কখনো ভুল করেন না।’

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669