• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কোটায় যাঁতাকলে পিষ্ট ঢাবি ছাত্রের আকুতি

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১:৪৪ অপরাহ্ণ

    কোটায় যাঁতাকলে পিষ্ট ঢাবি ছাত্রের আকুতি

    আমরাও আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার বাবা, কাকা, জেঠা, মামার বংশসহ চৌদ্দ গোষ্ঠীর সবাই আওয়ামী লীগার। আওয়ামী রক্ত আমাদের শরীরেও আছে। আর হৃদয়ে মুজীবীয় আদর্শ ধারন করে চলি। এটা ক্যাম্পাসের সবাই জানে। আমরা বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক না হলেও অন্তত অসচেতন নই। আমাদের পুর্বসূরীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। আমার মা-বোনরা তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন এই দেশটাকে স্বাধীন করার জন্য। আমার বোন হারিয়েছে তার একমাত্র ভাইটিকে। আমার মা হারিয়েছে তাঁর অন্ধের যষ্টি ছেলেটিকে। আমার বাবা হারিয়েছে তার একমাত্র অবলম্বনটিকে। এতকিছু ত্যাগের বিনিময়েই আমাদের এই স্বাধীনতা অর্জন।


    নিজের একটা গল্প শেয়ার করি, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটা ইউনিয়ন, ১০ নং সাহাপুর ইউনিয়ন, আমার ইউনিয়ন। আমার কাকা এখানকার চেয়ারম্যান, এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবু রসিক মহাশয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা। সদা হাস্যজ্জ্বল, প্রানবন্ত। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে কোন একদিন উনি বাজারে বসে কথা বলছিলেন, সে কথাগুলো অনেকটা এমন, “দেখো আমার এই জীবনে আর কোন চাহিদা নেই। আমি চেয়েছিলাম দেশটা স্বাধীন হোক। আমি সেটা করেছি। মুক্তিযুদ্ধে ওনার অবদান দু একটা বললেন। তারপর কি অকপট সরলোক্তি, নেত্রী(শেখ হাসিনা) আমাকে মাসে মাসে যে টাকা পাঠায় তাতে আমি খুব ভালোভাবে চলি। আবার শুনেছি আমি মারা গেলে আমার লাশকে পতাকা দিয়ে মুড়ে, ডিসি, এসপি এবং ওসির উপস্থিতিতে দাহন করা হবে, আমাকে রাষ্ট্রিয় সন্মান জানানো হবে। এই জীবনে এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে?
    এবার আসি মোদ্দা কথায়, ক্যাম্পাসে কতগুলো ছেলেমেয়ে আন্দোলন করছে, খেয়াল করে দেখলাম ওরা কেউ বলছে না কোটা বিলুপ্ত করতে হবে, ওদের দাবী কোটাকে সংস্কার করতে হবে। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মাত্র ২-৩% মানুষের হাতে যদি ৫৬% কোটা অবরুদ্ধ থাকে তাহলে আমরা কি করে বাঁচবো? আমাদেরওও ভবিষ্যত আছে, পরিকল্পনা আছে। আমার মত হচ্ছে প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সাপ্তাহিক, মাসিক, বাৎসরিক সব বাজেট করা হোক, তাদের সকল প্রকার অর্থকষ্ট দুর করা হোক, তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য সেনাবাহিনী, কিংবা পুলিশে শারীরিক যোগ্যতার ভিত্তিতে কিছু কোটা বরাদ্দ করা হোক, কিন্তু বিসিএস কে কোটামুক্ত করা উচিৎ।
    না হলে দেশেন এডমিনিস্ট্রেশন কিন্তু একদম ভেঙে যাবে। শুধু শুধু কি একটা নোটিশে বিশটা বানান ভুল পাওয়া যায়? ০.২% মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের জন্য যদি ৩০% কোটা করেন, তারপর আবার তাদের জন্য স্পেশাল বিসিএস, মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে এসেছে – মুক্তিযোদ্ধাদের নাতীপুতি, জামাতা, বৌমা সহ চৌদ্দ গোষ্ঠীর সবাই কোটা ভোগ করে।
    পৃথিবীর সব দেশেই কোটা পদ্ধতি আছে, কিন্তু এমন কোটাপদ্ধতি পৃথিবীর কোনদেশে আছে বলে শুনিনি, এবং নেই। সবমিলিয়ে ২০% কোটা, এবং ৮০% মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তাহলে প্রতি পাঁচজনের গ্রুপে একজন একটু কম মেধাবী, বলদ, কিসিমের হলেও বাকি চারজন মিলে সেটা কভার কররা যাবে। কিন্তু ওই গ্রুপের তিনজনই যদি কম মেধাবী আর বলদ কিসিমের হয়, তাহলে বাকি দুজন সেটা কভার করতে হিমশিম খাবে। মেধাবীদের জন্য, তাদের মেধার বিকাশের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। তা না হলে সকল মেধাবীরা কিন্তু সমোস্বরে বলে উঠবে এবং হৃদয়ে ধারন করবে “দাউদ হায়দারের” সেই বিখ্যাত উক্তি “জন্মই আমার আজন্ম পাপ”। তখনই দেশটা রসাতলে যাবে নিশ্চিত। দেশটা বাঁচুক, অনেক কষ্টে আর ত্যাগে অর্জিত এই দেশটা ভালো থাকুক।


    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673