• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

    ঢাবি প্রতিনিধি | ০৩ জুলাই ২০১৮ | ৬:১৩ অপরাহ্ণ

    কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি অবস্থান

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলার ঘটনায়পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে বিশ্বেবিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ।
    মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা।
    সমাবেশ শেষে তারা প্রক্টর অফিস ঘেরাও করে প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক হামলার বিচারসহসহ বিগত হামলাগুলোর বিচারের দাবি করেন। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা নানা ধরণের গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে তাদের বিচরের দাবিতে একই সময় রাজু ভাস্কর্যের সামনে পাল্টা মানববন্ধন করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
    বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামান্তা শারমিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালমান সিদ্দিকী প্রমুখ।


    সমাবেশে উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, এখানে দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার কারণে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল করেছেন। তার ঘোষণায় আন্দোলনকারীরা আনন্দ মিছিল করে এবং তাকে ‘ মাদার অব এডুকেশন ’ উপাধি দেয়। কিন্তু তিনি তার ঘোষণার প্রজ্ঞাপন এখনো জারি না করে ছাত্রদের সাথে প্রতারণা করছেন।


    তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে যা করছে, তা আইয়ুব খানের এনএসআইকেও হার মানায়। আমরা দেখেছি আন্দোলনের নেতাদের মারা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল(২ জুলাই) শহীদ মিনারেও ছাত্রদের মারা হয়েছে। আপনারা তো নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার দাবি করেন, শহীদ মিনারের মতো জায়গাতেও কেন তাহলে ছাত্রলীগ হামলা করলো?

    তিনি আরো বলেন, গতকাল প্রক্টর বলেছেন তিনি এই হামলার সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি ক্যাম্পাস ছুটি থাকার দোহাই দেন। কিন্তু ক্যাম্পাসে একজন প্রক্টরের দায়িত্ব তো ২৪ ঘণ্টাই। শুধু রুমে বসে কিছু বক্তব্য দেয়াই প্রক্টরের কাজ নয়। তার কাজ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু তিনি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন প্রক্টরের পদত্যাগ করা উচিত।
    শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সন্ত্রাস তৈরির জায়গা না, মানুষ তৈরির জায়গা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ছাত্রদের উপর ছাত্রলীগের হামলার বিরুদ্ধে প্রশাসন তো কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেই না বরং তাদের তোষামোদি করছে। ছাত্রলীগের লোকজন এই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করলো, নূরকে যেভাবে মারা হলো, তার বিরুদ্ধে প্রক্টর, ভিসি কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। বিচার চাইতে গেলে প্রক্টর লিখিত অভিযোগ দাখিলের কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান। পরবর্তিতে ছাত্রলীগের হামলায় আমরা কেউ মারা গেলে তখন কি আমরা লিখিত অভিযোগ করবো?

    তারা আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এটা জনগণের টাকায় চলে। গত কয়েকমাস এখানে কি হচ্ছে, তা আপনারা সবাই জানেন। এখানকার অধিকাংশই গরীব কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এখানে সকল শিক্ষার্থীই ভাই-ভাই। কেন অপরাজনীতির নামে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইদের লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে? এমন বিশ্ববিদ্যালয় তো আমরা চাইনি।

    সমাবেশে বিভিন্ন ধরণের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাতে লেখা ছিলো : ‘ আন্দোলনকারী, তোমাদের বন্ধু জনগণ, সরকার না ’, ‘ ছাত্রলীগকে এত ক্ষমতা কে দিয়েছে? গণরুম প্রশাসনের দায়িত্বে দাও ’, ‘ ছাত্রলীগের সন্ত্রাস থেকে শিক্ষা বাঁচাও, ছাত্রলীগের মতো সন্ত্রাসী সংগঠন বর্জন কর ’, ‘ আন্দোলনকারীদের সাথে প্রহসন, প্রতারণা বন্ধ কর ’, ‘ কোটা আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই ’, ‘ আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার বিচার চাই ‘ ইত্যাদি।

    প্রক্টর অফিস ঘেরাও :
    সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিস ঘেরাও করেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রক্টরকে পাঁচটি প্রশ্ন করেন বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়া। প্রশ্নগুলো হলো : ১. বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল যা হয়েছে, সে বিষয়ে আপনি কিছু জানেন না বলে আপনি সাংবাদিকদের বলেছেন। পদাধিকার বলে কি আপনি মনে করেন এটি দায়িত্বশীল আচরণ? ২. জানার পরে এবিষয়ে আপনি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা? ৩. গত ১৫ এবং ২৩ জানুয়ারী শিক্ষার্থীদের উপরে ভিসি অফিসে যে হামলা হয়েছে, সে ব্যাপারে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার কোনো আপডেট আছে কিনা? ৪. যারা দোষী, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা? ৫.আবার যদি হামলা হয় এবং আপনি যদি আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হন, তবে আপনি কি করবেন? পদত্যাগ করবেন বা আর কোনো বড় হামলা হলে নিজেকে ব্যর্থ মনে করবেন?
    প্রক্টর প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং তাদের শিক্ষার সাবলীল কার্যক্রম যেভাবে চলা প্রয়োজন সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি। যে ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে আপনাদের কিছু বলার থাকলে লিখিত আকারে আমাদের কাছে দেবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২৩ জানুয়ারীর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা তদন্ত কমিটিতে লিখিতভাবে বিচারপ্রার্থী হয়েছেন, আমার জানা মতে, তাদের কেউ সাক্ষ্য দিতে আসছেন না। যখন অভিযোগ দাখিল করা হয়, তখন অভিযোগকারীর দায়িত্ব থাকে অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান এবং ঘটনার সত্যতা উপস্থাপন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে তদন্ত কমিটিকে সহযোগীতা করার জন্যে তিনি অনুরোধ জানান।

    তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের উপর নিপীড়নকারীদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুতই পৌছে দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্যে হুমকি সৃষ্টি করে এমন কাজের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করুন। যারা এই ধরণের কাজ করে সেশনজট সৃষ্টি করতে চায় তাদের ছাড় দেয়া হবেনা।
    তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যেই আরো কিছু তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আপনারা জানতে পারবেন। এ বিষয়ে শৃঙ্খলা কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের কিছু অগ্রগতি আছে। সিন্ডিকেটের একটি সভায় তদন্তের সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হবে। বেশ কিছু তদন্ত রিপোর্ট আমরা প্রকাশ করবো, তখন এ বিষয়ে আপনারা জানতে পারবেন। গ্রেফতারকৃত ছাত্রদের কি হবে এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে প্রক্টর সেখান থেকে প্রস্থান করেন।

    ঘেরাও কর্মসূচী শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকারিয়া সাংবাদিকদের বলেন, যতদিন না ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে, ডাকসু প্রতিষ্ঠিত হবে, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর যা বলেছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট না। দায়িত্ব পালন বলতে কি বোঝায়, তিনি তা বোঝেন না। হামলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নিতে তিনি ব্যর্থ হলে তার পদত্যাগ করা উচিত।
    ভবিষ্যতে তাদের কোনো কর্মসূচী আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের ফেসবুকে একটা ইভেন্ট খোলা আছে। সেখানেই সব জানিয়ে দেয়া হবে।

    টিএসসিতে ছাত্রলীগের মানববন্ধন :
    কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা বিএনপি-জামাতের হয়ে কাজ করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্যে নানা ধরণের গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে তাদের বিচরের দাবিতে একই সময় রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

    মানববন্ধনে অংশ নেয়া এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্যে এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছাত্রলীগ শুরু থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে ছিলো, এখনো আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে কোটা বাতিল করার পরও কেন এই আন্দোলন?

    তিনি বলেন, এই আন্দোলনের নেতারা বিএনপি-জামাতের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত করতে চাইছে।

    মানববন্ধন শেষে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তানভীর উল হক সৈকত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুরু থেকেই কোটা সংস্কারের পক্ষে, এখনো আছি। সরকার কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নিয়েছে। একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কোটা সংস্কার হবে। কিন্তু এখন এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিলোনা। বর্তমানে তারা এ আন্দোলনকে একটি রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা করছে। এছাড়াও তারা বিভিন্নভাবে গুজব ছড়িয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

    মানববন্ধনে ছাত্রলীগের কর্মীরা বিভিন্ন ধরণের প্ল্যাকাড প্রদর্শন করেন। তাতে লেখা ছিলো: ‘ গুজবে কান দিবেন না ’, ‘ গুজবকে না বলুন ’, ‘ আবেগকে সরিয়ে বিবেক আনুন, একসাথে গুজবকে প্রতিহত করুন ’, ‘ রাশেদ, নুরুর ছড়ানো গুজবের কঠোর জবাব দেবে ছাত্রসমাজ ’, ‘ আবেগ সরিয়ে সত্য জানুন ’, ‘ যেখানেই গুজব, সেখানেই প্রতিরোধ ’, ‘ মিথ্যা গুজব ছড়ানোর বিচার চাই ’ ইত্যাদি।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673