• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

    ঢাবি প্রতিনিধি | ০৫ জুলাই ২০১৮ | ৭:০২ অপরাহ্ণ

    কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ ও ছাত্রীরা।
    বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীদের উপর যারা হামলা করেছে তাদের শাস্তি ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’ ব্যানারে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে আটককৃতদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়। অন্যদিকে বহিরাগত ছাত্রীদের নিয়ে পাল্টা কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ। এছাড়া ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর রহমানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তার মুক্তির আগ পর্যন্ত ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


    বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল থেকে মেয়েরা হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি শামসুন্নাহার হলের সামনে গিয়ে জড়ো হলে এর কিছুক্ষণ পরে তাদের সাথে যোগ দেন কবি সুফিয়া কামাল হলের মেয়েরা। তারা শামসুন্নাহার হলের মেয়েদের মিছিলে যোগদানের আহ্বান জানালেও ওই হল থেকে গুটিকয়েকজন ছাড়া আর কেউ বের হননি। তবে শামসুন্নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি শারমিন জিয়াসমিন শান্তা ও সাধারণ সম্পাদক নিপু তন্বী মেয়েদের হল থেকে বের হতে দিচ্ছেন না বলে শোনা যায়। পরে তারা ওই হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।


    মিছিলে ছাত্রীরা ‘এসো ভাই এসো বোন গড়ে তুলি আন্দোলন’, ‘আমার ভাই মার খেল কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার বোন লাঞ্চিত কেন?’, ‘শিক্ষা ও সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’, ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলি আন্দোলন’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া মিলিলে তারা ‘ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না, বলা যাবে না, রক্ত দিয়ে পেলাম শালার এমন স্বাধীনতা,’ ‘সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই,’ ‘রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন, রুখে দাও’ লিখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড পদর্শন করেন।

    মিছিলটি টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, কলাভবন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, বিজয় একাত্তর হল, রেজিস্টার বিল্ডিং প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নিলে সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা তখন ছাত্রীদের পাশে অবস্থান করে ‘অবৈধ আন্দোলন মানি না, মানব না’, ‘পড়ালেখা করব, পরীক্ষা দেব’ এসব বলে পাল্টা স্লোগান দিতে থাকেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে সরে যান ছাত্রীরা। সেখান থেকে তারা আবার টিএসসি হয়ে রোকেয়া হলের সামনে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শেখ মৌসুমী বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই মেয়েদের ভূমিকা ছিল। ৮ এপ্রিল রাতে পাঁচটি হলের গেট ভেঙে মেয়েরা বের হয়ে এসেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজও আমরা হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ করতে নেমেছি। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনের সামনে অবস্থান নিলে মানুষরূপী কিছু সন্ত্রাসী আমাদের বিভিন্ন ধরণের কটুক্তি করে ও নিপীড়নের চেষ্টা করে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজু ভাস্কর্যের সামনে আমাদের মানববন্ধন ছিল। কিন্তু আমাদের দাড়াতে দেওয়া হয়নি। ওখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে বহিরাগতরা বেশি।

    রোকেয়া হলের ছাত্রী আফসানা শেফা বলেন, নিরাপদ ক্যাম্পাস আমাদের দাবি। আমাদের ক্যাম্পাসে আমরা হাটতে পারি না, ভয় হয়। মারধর ও গুম হওয়ার ভয়ে আমাদের ভাইয়েরা হল থেকে বের হতে ভয় পায়। আর যেন কারও উপর হামলা না করা হয় সেজন্য তিনি ভিসি ও প্রক্টরকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আটককৃতদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলবে।

    এদিকে,আন্দোলনকারীদের সনাক্তকরণে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বাইক মহড়া এবং ভিডিও চিত্র ধারণ করে ছাত্রলীগের নেতারা। মেয়েদের মিছিলের পেছনে পেছনে বাইক নিয়ে বাইকে করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মহড়া দিয়েছে তারা। এছাড়া মিছিলের সামনে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে ছাত্রীদের স্থির ও ভিডিও চিত্র ধারণ করে ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমীন রহমান, সূর্যসেন হলের সভাপতি মো. গোলাম সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম শপু, স্যার এ এফ রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষারসহ বিভিন্ন হল ইউনিটের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা ছিলেন। এছাড়া, ছাত্রলীগের ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজ শাখার নেতাকর্মীরাও ছিলেন।

    অধিভুক্ত কলেজের ছাত্রীদের নিয়ে ছাত্রলীগের পাল্টা কর্মসূচি:
    এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি মহল ‘চক্রান্ত’ করছে অভিযোগ এনে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে ‘বহিরাগত ছাত্রীদের’ নিয়ে মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ। এতে অংশ নেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের ছাত্রীরাও। এ সময় তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের কিছু কেন্দ্রীয় নেতাদেরও দেখা যায়।

    মানববন্ধনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, শুরু থেকেই ছাত্রলীগ কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে ছিল। এখনও আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলে আমরা তা মেনে নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছি। কিন্তুএকটি কুচক্রী মহল তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তা না হলে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পরও কেন এই আন্দোলন? এ থেকে বোঝা যায় এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামাত বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে সরকার পতনের চেষ্টা করছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ষড়যন্ত্রকে শক্তহাতে প্রতিহত করব।

    এদিকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের’ প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেয়া এক ছাত্রী প্রথমে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী বলে পরিচয় দেন। কিন্তু হলের কক্ষ নম্বর বলতে পারেননি। পরে স্বীকার করলেন তারা ইডেনে কলেজের ছাত্রী। বলেন, ‘আসলে আমরা ইডেন কলেজের ছাত্রী। আপুরা ডাকছে, তাই আসছি।’ এরপর নাম ও বিভাগ জানতে চাইলে এ ছাত্রীকে কথা বলতে দেননি কয়েকজন মেয়ে।

    এশিউরের মুক্তির দাবিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মানববন্ধন
    বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র যুগ্ম-আহŸায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর রহমানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল করিম, সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রুশদ ফরিদী, আন্তর্জাতিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান, মশিউরের বাবা ও ছোটবোন উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বিভাগের প্রায় ২শ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

    মানববন্ধনে বিভাগের ছাত্রী তিথী বলেন, মশিউর আমাদের সহপাঠী ও নিয়মিত শিক্ষার্থী। সে আমাদের সঙ্গে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস করব না।

    বিভাগের চেয়ারম্যান নেহাল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বলতে পারি, আমাদের কোনো ধরনের খবর না জানিয়ে, আমাদের ছাত্রদেরকে জেলহাজতে নিয়ে যাবে সেটা কাম্য না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি কর্তৃপক্ষকে বলব অনতিবিলম্বে মশিউরকে ফিরিয়ে দিতে। এই না করলে হয়তো বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে যা সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রভাব পড়বে। আমরা চাই শান্তিতে বসবাস করতে।

    সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের বিরুদ্ধে হওয়া সহিংসতার বিরুদ্ধে। সেই দাবিও যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানোর পরিস্থিতি না থাকে তাহলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে এট সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। আমি ভাবিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রকে মানববন্ধনে দাঁড়ানোর প্রতিবাদে তাকে নির্মমভাবে পেটানো হবে। অহিংস আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহিংসতা করে আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাবমূর্তি মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছেন।

    মানববন্ধনে মশিউরের ছোট বোন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তার ভাইকে ফেরত দিতে অনুরোধ করেন।

    গত ৩০জুন সূর্যসেন হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মশিউরকে তুলে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে পুলিশ তাকে আটক দেখায়।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673