• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কোথাও নেই ছাত্রদল!

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ৩১ জুলাই ২০১৭ | ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ

    কোথাও নেই ছাত্রদল!

    বিএনপির ভ্যানগার্ড নামে পরিচিত ছাত্রদল। এক সময়ের প্রতাপশালী এই সংগঠনটির বর্তমানে ভঙ্গুর অবস্থা। কোথাও নেই ছাত্রদল। সংগঠন সংশ্লিষ্টরা জানান, শীর্ষ নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতা, নেতাদের অবমূল্যায়ন, এলাকাপ্রীতি, দলের চেয়ে গ্রুপকে প্রাধান্য দেয়া, ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক সক্রিয় না থাকা, কর্মী সংকট, ক্ষমতাসীন সরকারের দমন-পীড়নের কারণে শক্তিশালী এই সংগঠনটি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।


    ২০১৪ সালের ১৪ই অক্টোবর সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে দায়িত্ব দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছিল। খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দু’বছর। এই কমিটি প্রায় নয় মাস আগে নির্ধারিত সময় পার করেছে। কিন্তু এখনও নতুন কমিটি ঘোষিত হয়নি। কমিটির দাবিতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় ও নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পদ প্রত্যাশীরা বেশ কয়েকবার মিছিল ও শোডাউন করেছে। এদিকে রীতি অনুযায়ী নতুন কমিটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। এই কমিটি তাদের নির্ধারিত সময় পার করলেও এখনো মাজারে ফুল দিতে যেতে পারেনি।

    ajkerograbani.com

    পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার রীতি থাকলেও তা করা হয়নি। সংগঠনটির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে সংগঠনটির ১০৭টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। এরমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক ইউনিট রয়েছে ২৯টি। যার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে মাত্র ৭টি ইউনিটে। ইউনিটগুলো হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ, মিরপুর। এগুলোর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি বিগত কমিটির আমলে পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। বাকি ইউনিটগুলোতে আংশিক কমিটি রয়েছে। ঢাকা কলেজ ও তিতুমীর কলেজে ঢাউস কমিটি করা হয়েছে। এই দুই কমিটির প্রত্যেকটিতে প্রায় ৭০০ নেতাকর্মীকে স্থান দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ঢাউস কমিটির কারণে সংগঠনটিকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

    বর্তমান কমিটি শিক্ষার্থীবান্ধব কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি। ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক কয়েকটি ইস্যুতে বিবৃতিতে দিয়ে দায় সেরেছে সংগঠনটি। সর্বশেষ গত ৬ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাপযোগী ক্যাম্পাস বিনির্মাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ২৫টি দাবি’ সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। এরপর দাবিগুলো আদায়ে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি দলটির নেতাকর্মীদের। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট বিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের আন্দোলনে সংগঠনটি সংহতি জানিয়েছিল।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রসংগঠনগুলো নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু বিগত সাত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি ছাত্রদল। ছাত্রদলের দাবি ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার কারণে তারা ক্যাম্পাসে আসতে পারে না। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর উপর ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের কিছু বিদ্রোহী নেতাকর্মীর হামলার পর থেকে আর ক্যাম্পাসে আসতে পারেনি তারা। গত কমিটি কয়েকটি ইস্যুতে ক্যাম্পাসে আসার চেষ্টা করলেও বর্তমান কমিটির এধরনের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে কয়েক মিনিটের খণ্ড খণ্ড ঝটিকা মিছিল নজরে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে পাঠানো কর্মসূচির ছবিগুলোতে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কর্মসূচি পালনের চেয়ে ছবি তুলতেই বেশি ব্যস্ত নেতাকর্মীরা।

    এদিকে দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম নেই ছাত্রদলের। ছাত্রলীগ একক আধিপত্যে রয়েছে। ছাত্রদলের ক্যাম্পাস বিমুখতার কারণে সংগঠনটি কর্মী সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসগুলোতে অবস্থান না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে না। একই সঙ্গে নেতাদের গ্রুপিং রাজনীতির কারণে অনেকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে নিজেকে জড়ানো থেকে বিরত থাকেন। সর্বশেষ তেজগাঁও কলেজে ছাত্রলীগের সঙ্গে সহাবস্থান থাকলেও সেখান থেকেও তারা বিতাড়িত হয়। এছাড়া বর্তমান কমিটির সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ এলাকায় বেশি সময় দেয়ার কারণে সংগঠনের কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানা যায়। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ৭৩৪ সদস্য বিশিষ্ট। এত বড়ো কমিটি ছাত্রদলের ইতিপূর্বে হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা একে অপরকে চেনেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পাশাপাশি কমিটিতে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। তারা বলেন, থানার যুগ্ম সম্পাদককে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য পদ দেয়া হলেও ওই থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে কোনো পদেই রাখা হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেলেও জেলার নেতারা সেটা জানেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ বিষয়ে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে পদ পেয়েছে বলে শোনা যায়। এদিকে বর্তমান কমিটির মেয়াদে কোনো সাধারণ সভা ও সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠে। বিভিন্ন জেলা কমিটিগুলো কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিজেরাই আলোচনা করে দিয়ে দেন। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অন্য নেতাদের মতামত জানতে চাওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এসব বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজীব আহসান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। তারা ইউনিটগুলোতে প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করে। সরকারের দমন পীড়নের কারণে কয়েকটি ইউনিটে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করতে পারছে না। তবে সময়ের প্রয়োজনে ও সুযোগ তৈরি হলে ওইসব ইউনিটে দায়িত্বরতদের দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড দেখতে পাবেন। সাধারণ সভা ও সাংগঠনিক কমিট গঠন না করার বিষয়ে তিনি বলেন, সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও পুলিশি বাধার কারণে এসব কমিটিগুলো গঠন করা হয়নি। সাধারণ সভা করার পরিবেশ ছিল না। পুলিশ আমাদের একত্রিত হওয়ারই তো সুযোগ দেয় না। ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কোনো কর্মসূচি না থাকার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে কর্মসূচি দেয়া হয়নি।

    দ্বন্দ্বে নিষ্ক্রিয় ঢাবি ছাত্রদল: এদিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। স্বেচ্ছাচারিতা, নেতাদের মূল্যায়ন না করা, সংগঠনের চেয়ে ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয়ায় দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী দাবি করেছেন, দ্বন্দ্ব নিরসনে তারা বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকবিরোধীরা বলছেন, বারবার ভুল করার পরও সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার তারা করতে পারেনি।

    এমনকি কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বারবার চেষ্টা করেও সমস্যা নিরসন করতে পারেননি। সূত্র জানায়, দ্বন্দ্বের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় দুুইটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। শাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ রয়েছে। সুপার ফাইভের বাকিদের নেতৃত্বে অপর একটি গ্রুপ রয়েছে। সুপার ফাইভের বাকিরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি তানভীর রেজা রুবেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবু তাহের। বিভিন্ন কর্মসূচি তারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে আলাদাভাবে পালন করেন। অন্যদিকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা আলাদা কর্মসূচি পালন করছেন।

    ২০১৬ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলশাখাগুলোর কমিটি গঠন করা হয়। এক বছর মেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ইতিমধ্যে তাদের মেয়াদ শেষ করেছে। হল কমিটিগুলোর মেয়াদ ছিল তিন মাস। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হল কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি। সূত্র জানায়, কমিটি গঠনের পর থেকে সবার সহযোগিতায় কার্যক্রম চললে তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ও হল কমিটিতে বাদ পড়াদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রথম মতভেদ দেখা দেয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সুপার ফাইভের বাকিদের। বাদপড়াদের কমিটিগুলোতে অন্তর্ভুক্তির জন্য জোরালো দাবি তুলেন তারা। পরে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাছাই কমিটি করা হয়। বাছাই কমিটি আগ্রহীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করেননি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, বাছাই কমিটির সুপারিশ আমরা পেয়েছি। তবে এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় না। তাই একটু সময় নিয়েছি। তারা কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করুক। এরপর তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755