• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কোরবানিকে সামনে রেখে নড়াইলে চলছে গরু-ছাগল মোটাতাজা করন

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক | ০৯ আগস্ট ২০১৭ | ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

    কোরবানিকে সামনে রেখে নড়াইলে চলছে গরু-ছাগল মোটাতাজা করন

    নড়াইল জেলায় এবছর কোরবানি গরুর চাহিদা হবে সর্বপরি ১৪ হাজার এবং ছাগলের চাহিদা হবে ৬ হাজার। চাহিদার চেয়ে তিনটি উপজেলায় মোট ৮ হাজারের বেশি গরু এবং ৩ হাজার ছাগল মোটাতাজা করছে জেলার কৃষকেরা। অর্থাৎ এবছর জেলার চাহিদা থেকে ১১ হাজার বেশি পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে নড়াইলে। দেশি গরুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
    দেশিয় পদ্ধতিতে জেলার চাষিরা গরু মোটাতাজা করে তাই এই জেলার গরুর চাহিদা বেশি। এসকল গরুর মাংশের চাহিদাও রয়েছে বেশ। প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে জেলার খামারীরা ও কৃষকেরা গরু মোটাতাজা করে। গত বছর কোরবানি ঈদে জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৮ হাজার গরু বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেছে জেলার চাষিরা। আর এবছর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্তত সাড়ে ৯ হাজার উদ্বৃত্ত গরু জেলার বাইরে বিক্রয় করতে পারবে বলে দাবি জেলা প্রানি সম্পদ অফিসের।
    জেলা প্রানি সম্পদ অফিস সুত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর নড়াইলের কৃষকেরা ও খামারীরা কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে দেশিয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে।
    গত বছর মোট ২৯ হাজার পশু মোটাতাজা করেছিলেন জেলার চাষিরা। যার মধ্যে প্রায় ২১ হাজার গরু, ৮ হাজার ছাগল ও ৮টি ভেড়া। আর চলতি বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার গরু ও ছালগ মোটাতাজা করছে জেলার খামারি ও কৃষকেরা। যার মধ্যে প্রায় ২২ হাজার গরু ৮হাজার ৩শ ছাগল। প্রতিবারের ন্যায় এবছরও তিনটি উপজেলার মধ্যে নড়াইল সদরে বেশি গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবছর জেলায় প্রায় ১ হাজার গরু ও ২শ ছাগল বেশি মোটাতাজা করছে। গত বছর ভারত গরু আমদানি কম করায় স্থানীয় গরুর চাহিদা ছিল বেশি। তাই জেলার গরু খামারীরা ভাল লাভ করেছে। চলতি বছর জেলার অনেক খামারি গত বারের তুলনায় আরও বেশি গরু মোটাতাজা করছে। অনেক নতুন খামার গড়ে উঠছে। খামারি ছাড়াও জেলার সাধারন কৃষকেরা বাড়তি ইনকামের জন্য বাড়িতে একটি দুটি করে গরু মোটাতাজা করছে। বর্তমানে জেলায় মোট রেজিস্ট্রিকৃত গরুর খামার রয়েছে ৩৫৫টি ( কোন কৃষকের তিনটি গরুর বেশি থাকলে একটি খামার ধরা হয় )। যার মধ্যে নড়াইল সদরে ২০৭টি লোহাগড়ায় ৯৬ টি এবং কালিয়ায় ৯৪টি। সাধারন্ত জেলার খামারিরা কোরবানিকে সামনে রেখে এসকল গরু মোটাতাজা করে। গত বছর জেলায় কোরবানির গরুর চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার এবং ছাগলের চাহিদা ছিল সাড়ে ৫ হাজার। সে হিসাবে জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১২ হাজার পশু (গরু ও ছাগল) বেশি মোটাতাজা করেছিল। আর এসকল উদ্বৃত্ত গরু বিভিন্ন জেলার কোরবানির চাহিদা মিটিয়েছে। জেলা পশু অফিসের হিসাব অনুযায়ী এবছর জেলায় কোরবানি গরুর চাহিদা হবে সর্বপরি ১৪ হাজার এবং ছাগলের চাহিদা হবে ৬ হাজার। অর্থাৎ জেলার চাহিদার চেয়ে তিনটি উপজেলায় মোট ৮ হাজারের বেশি গরু এবং ৩ হাজার ছাগল মোটাতাজা করছে জেলার কৃষকেরা। অর্থাৎ এবছর জেলার চাহিদা থেকে ১১ হাজার বেশি পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে।
    জেলা প্রানি সম্পদ অফিস সুত্রে জানাগেছে, দেশিয় পদ্ধতিতে চাষিরা গরু মোটাতাজা করেন তাই এই জেলার গরুর চাহিদা বেশি। আকার ভেদে গত বছর প্রতিটা গরু ৩০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছে এখানকার চাষিরা। গড়ে প্রতিটা গরু ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করলেও গত বছর ২১ হাজার গরু ৯৪৫০০০০০০ টাকা বিক্রয় হয়েছে। আর এবছর ২২ হাজার গরু ৯৯০০০০০০০ টাকা বিক্রয় হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে নড়াইল সদরের মির্জাপুর, চাকই, সিংগাশোলপু, গোবরা, কমখালি, শাহবাদ,সিমানন্দপুর, জুড়–লিয়া। লোহাগড়া উপজেলার শিয়েরবর, চাচই, কোলা, কুমড়ি, দিঘলিয়া, মল্লিকপুর, মাকড়াইল, লাহুড়িয়া। কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া, মহাজন, টোনা, খাশিয়াল, বাবরা, গ্রামের কৃষক ও খামারিরা অন্যন্য এলাকা থেকে বেশি গরু মোটাতাজা করছে। জেলায় মোট যে গরু মোটাতাজা করা হয় তার ৩৫ ভাগ গরু মোটাতাজা করছে খামারিরা আর বাকি ৬৫ ভাগ গরু মোটাতাজা করছে জেলার সাধারন কৃষকেরা। প্রতিটা কৃষকের গোয়াল ঘরে তাদের হালের গরুর পাশাপাশি একটি দুটি করে মোটাতাজা করন গরু রয়েছে। আর এসকল গরু কোরবানিকে সামনে রেখে মোটাতাজা করছে তারা।
    কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারন্ত বছরের শুরুতে দেশি প্রজাতির প্রতিটি বাছুর ১২-১৫ হাজার টাকায় ক্রয় করে পালন করতে থাকে। সারা বছর খাবার হিসাবে কাজের ফাকে বিল থেকে কাচা ঘাস কেটে এনে খাওয়ানো হয় এবং ঈদের ২ মাস পূর্বে খড়, খৈল, কুড়া, ও ভুষি খাওয়ানো হয়। বছরে যে খাবার লাগে অধিকাংশ খাবারই বিলের কাচা ঘাষ। এই ঘাস ক্রয় করা লাগেনা তায় খরচ অনেক কম হয়। একটি বাছুর ১২-১৫ হাজার টাকায় ক্রয় করে সারা বছর পোষার পরে ঈদের সময় আকার ভেদে ৪০- ৯০ হাজার টাকায় বিক্রয় হয়। কৃষকেরা প্রতিটা গরু থেকে বছর শেষে আকার ভেদে ৩০-৫০ হাজার টাকা লাভ করে। নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলায় মোট ১১টি হাটে গরু বেচাকেনা হয়। স্থানীয় গরুর মালিকেরা এসকল হাটে নগদ টাকায় গরু বিক্রয় করেন। ১১টি হাটের মধ্যে জেলায় মোট ৪টি বড় হাট রয়েছে, মাইজপাড়া গরুর হাট, লোহাগড়া গরুরহাট, শিয়েরবর গরুরহাট, এবং পুরুলিয়া গরুরহাট। এখানে বিভিন্ন জেলার বেপারিরা এসে এখানকার গরু ক্রয় করে ট্রাকে নিয়ে ঢাকা,সিলেট, চিটাগাংসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রয় করে। এছাড়া স্থানীয় বেপারিরা এলাকায় কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু ক্রয় করে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করে। বর্তমানে এই পেশার সাথে জড়িত রয়েছে জেলার প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ (খামারি, কৃষক ও বেপারিরা)।
    খামারিরা জানান, গত বছর দেশের বাইরে থেকে বিদেশি গরু নড়াইলের কম এসেছিল। তাই দেশি গরুর চাহিদা ছিল অনেক বেশি। আমরা খামারিরা ও স্থানীয় কৃষকেরা নিজেদের গরু ভাল দামে বিক্রয় করতে পেরেছি। লাভ খুব ভাল হয়েছিল। আশা করছি সরকার এবছর ও বিদেশি গরু আমদানী করবেনা। সরকার যদি বিদেশি গরু আমদানি না করে তাহলে আমরা খামারিরা ভাল দাম পাব। লাভবান হতে পারবো। নড়াইল সদরের মির্জাপুর এলাকার কৃষক আমানউদ্দিন শেখ জানান, আমি গত বছর কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ২ বাছুর ৩৮ হাজার টাকায় ক্রয় করে ১১ মাস পালন করে কোরবানির আগে ১লক্ষ ২৩ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছিলাম। খরচ বাদে আমার ৬৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবছর আমি ৭৮ হাজার টাকা দিয়ে ৪ টি এড়ে বাছুর ক্রয় করে পালন করছি। গরু অনেক বড় হয়ে গেছে। আশা করছি কোরবানি সামনে রেখে ৪টি গরু ৩লক্ষ টাকার বেশি বিক্রয় করতে পারবো। আশা করছি সরকার এবছরও বিদেশ থেকে কোন গরু আমদানি করবেনা। নড়াইল জেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, গত ৫/৬ বছর আগে নড়াইলের চাষিরা অল্প পরিসরে গরু মোটাতাজা করত। সে সময় সরকার বিদেশ থেকে ঈদের সময় গরু আমদানি করায় জেলার অনেক খামারি ও কৃষকেরা গরুর নায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ২ বছর সরকার বিদেশ থেকে গরু আমদানি না করায় জেলার স্থানীয় কৃষকের গরুর চাহিদা ছিল অনেক বেশি। স্থানীয় খামারি ও কৃষকেরা লাভবান হয়েছে। তাই এবছর অনেক কৃষক গরু মোটাতাজা করতে আগ্রহী হয়েছে। আমরা সরকারী ভাবে তাদেরকে ৪৫-৫০ ভাগ ওষুধ ফ্রী দিয়ে থাকি। এবং বিভিন্ন পরামর্শসহ সব সময় খোজ খবর রাখি। আশা করছি এবছরও জেলার খামারি ও কৃষকেরা লাভবান হবে।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755