• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে পদক্ষেপ জরুরি

    অ্যাডভোকেট শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ | ১১ আগস্ট ২০১৯ | ১২:১২ অপরাহ্ণ

    কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে পদক্ষেপ জরুরি

    আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এই মহিমান্বিত স্মৃতি অনুসরণে হাজার হাজার বছর ধরে পালিত হচ্ছে কোরবানির প্রথা। বস্তুত কোরবানি নিছক পশু জবাই নয়। মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকে যে অহংবোধের হীনম্মন্যতা তা বিসর্জন দিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হওয়াই হলো কোরবানির শিক্ষা। এ বিষয়ে আল্লাহর ঘোষণা- পশুর রক্ত বা মাংস নয়, তার কাছে পৌছে বান্দার তাকওয়া।

    সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের উৎস- মহান আল্লাহ।
    আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী জীবন গড়ার মধ্যেই রয়েছে কোরবানির আসল মাহাত্ম। তা উপেক্ষা করে কোরবানির নামে অহংবোধের প্রকাশ ঘটলে তা হবে পশু হত্যার নামান্তর।

    এ মনোভাব ধর্মীয় দৃষ্টিতেও পরিত্যাজ্য। ঈদুল আজহা বা কোরবানির জন্য সারা দেশে এখন চলছে প্রস্তুতি। কোরবানিতে পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। জবাইকৃত পশুর রক্ত ও বর্জ্যে যাতে পরিবেশ দূষিত না হয় তা নিশ্চিত করা আমাদের ধর্মীয় কর্তব্য।

    কুরবানীর পশুর বর্জ্য অপসারণ এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। কুরবানীদাতারা কুরবানীর পর যদি বর্জ্যগুলো নিজ দায়িত্বে পরিস্কার করেন তাহলে পরিবেশ নষ্ট হবে না। আর এটা না করলে এর জন্য কষ্ট ভোগ করতে হবে আমাদেরকেই। কিন্তু আমরা তো অন্তত নিজের এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে পারি। পশুর যেসব অংশ ফেলে দিতে হবে সেগুলো এভাবে যত্রতত্র ফেলে না রেখে বড় কোনো ব্যাগে ভালভাবে বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বা ডাস্টবিনে রাখলে তা সমাজের জন্যই মঙ্গল জনক হবে।
    পবিত্র ঈদুল আযহার দিনে পশু কুরবানী করার কারণে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হওয়া নতুন কিছু নয়। পশুর হাট বসা থেকে পশু কুরবানী করা পর্যন্ত রাজধানীতে বর্জ্য জমতে থাকে। এর সাথে ঘর-গৃহস্থালীর আবর্জনা যুক্ত হয়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য।
    কুরবানীর পশুর চামড়া ও বর্জ্য নিয়েও কিছু করণীয় রয়েছে। কুরবানীর পশু জবেহ করার ফলে যাতে পরিবেশ বিন্দুমাত্রও দূষিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রক্ত আর অন্যান্য বর্জ্যাদি দ্রুত অপসারণ করার জন্যে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তার সাথে সহযোগিতা করা দরকার।
    কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এখনো দেশের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণে সচেতন থাকতে হবে।
    এবারের ঈদে ডেঙ্গু রোগ এক বড় ধরনের আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ঈদে যারা রাজধানীতে থাকবেন এবং যারা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন ও যাবেন তাদের সবাইকে ডেঙ্গুর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। নগরীতে পশু কোরবানি-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সিটি কর্পোরেশনকে তৎপর থাকতে হবে। নগরবাসীর প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, তারাও যেন পশু কোরবানি দেয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হন। রাস্তার ওপর বা যত্রতত্র কোরবানি দেয়া অনুচিত। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ ছড়ায়। ঈদের পবিত্রতা সব ক্ষেত্রেই বজায় রাখা প্রয়োজন।
    ঈদ মানে আনন্দ। আল্লাহ এ আনন্দে দরিদ্রদের শরিক করার জন্য তার ধনী বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন। লোক দেখানো ধর্মীয় আচার পালনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা, সহযোগিতা, বন্ধুত্ব, মমতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে ঈদুল আজহার আদর্শকে আমরা সমুন্নত রাখতে পারি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিশ্বের সব মুসলমানকে সেই তওফিক দান করুন।

    লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলন।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী