• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আলতু মিয়ার ফালতু প্যাচাল

    ক্যানডিডেটরা এই বচ্ছর ফাঁকি মারতি পারে নাই

    শহীদুল ইসলাম বেলায়েত | ০৮ মে ২০১৭ | ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

    ক্যানডিডেটরা এই বচ্ছর ফাঁকি মারতি পারে নাই

    কুটিকালে মুরব্বীগো কাছে শুনছি “আল্লায় যারে দেয় তারে ছাপ্পড় ফাইড়া দেয়,”কথা খানের মাহেত্য এই বচ্ছরের মকসেদপুর পৌরসভার এলেকশনে ভালো কইরা বুঝতি পারছি। এলেকশনের দুই দিন পরে বাজারে যাইয়া চা খাইয়া দোকানের এক কুনায় বইসা একখান স্যাক সিগরেট ধরাইয়া এলেকশনের গপ্প শুনতিছিলাম। চিয়ারমেনি আর মিম্বারীতে যারা খাড়াইছে তারা ক্যাম্বায় পেত্থম পেত্থম রাইতের বেলা ব্যাগ ভইরা মাল-কড়ি নিয়া বাইর হইতো;আর সইন্ধ্যা বেলা খালি ব্যাগ নিয়া ঘরে ফিরতো,এলেকশনের ২/৩ দিন আগে ঈশার নামাজের সুমায় ব্যাপ নিয়া গিরামে ঢুকতো আর ফয়জরের আজান দিলি ঘরে ফিরতো এই সব কিসতা শুনতিছিলাম।
    আগের দিনে এলেকশন আসলি চা বানাইতি বানাইতি দুকানদারের গতর ব্যাথা হইয়া যাইতো,কিন্তু এই বচ্ছর চা’র দুকানদাররা তেমন যুইত করতি পারে নাই। করবি ক্যাম্বায়,সব ভোটাররা সইন্ধ্যা হইলি ঘরের মইধ্যে সান্ধাইয়া যায়,কোন মক্কেল আইসা না পাইয়া ফেরত গেলি নিজেরই পরের দিনের বাজার করা বন্ধ হইয়া যাবি। এই বচ্ছরের এলেকশনে মাল দিয়ার নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে।
    আগের দিনে মাতুব্বররা পগেট ভইরা মাল আনতো,তার পাড়ার সব ভোট সেই যুগাড় কইরা দিবি; কিন্তু এই বচ্ছর ভোটারগো সাথে কথা কইয়া যা দিয়ার তা হাতে হাতে দিয়া ক্যানভাচাররা দিলে বড়ই শান্তি পাইছে। আগের দিনে সিন্টার খরচ দিতো বাড়ির পুইষ্যা ব্যাটাগো কাছে;আর এই বচ্ছর মাল পানি কামাইতে ফাষ্টো হইছে মাইয়া ঝিপুত। ব্যাটারা যাগো ভোট দিবিনা তাগো কাছেরত্যা সিন্টার খরচ নিতি চায় নাই। কিন্তু ঘরের বৌ-ঝিরা কেউরেই বৈমুখ করে নাই। সব্বাইরে খুশী করার জন্যি সব ক্যানডিডেটগো যম্মের মতোন ছুইলা দিছে। আরেকখান ঘটনা শুইনা আমার দিলে বড়ই চোট পাইলাম। আগের দিনে নিজির দল কিম্বা পাট্টির মানুষ এলেকশনে খাড়াইলি নিজির গাইটের টাকা খরচ কইরা এলেকশন করতো,কিন্তু এই বচ্ছর কোন দল পাট্টি মানা-মানি নাই, য্যাম্বায় পারছে ছুইলা দিছে। তয় এইডা ঠিক,ইয়ার পাছেও কারবালার ঘটনা রইছে। এলেকশনের আগে ভোটাররা বিপদে পইড়া দল পাট্টির নিতার কাছে গেলি নিতারা তাজা মুরগী ছুলার মতোন ছুইলা দিছে,এইবার নিতারাও ছুলা খাইছে। এইসব গপ্প শুনতি শুনতি জোহরের আজান হইয়া গেল। জোহর পইড়া বাড়ির দিক হাটতি লাগলাম। বাড়ির সামনে যাইয়া দেখি নতুন জামা গতরে দিয়া নাতনী টুকটুকি আর ব্যাটার বউ আমার জন্যি খাড়াইয়া রইছে। সেও সুন্দ্যার লাল পাইড়া নতুন শাড়ী পরছে। টুকটুকিরে কোলে নিয়া বাড়ির মইধ্যে যাইয়া দেখি বড় ব্যাটার বউ গোছল কইরা রইদে কাপড় নাড়তিছে। তার গরনেও নতুন শাড়ী। মাসের শ্যাষ,বউরা টাকা পাইলো কই,ভাবতি ভাবতি ঘরে গেলাম। ঘরে যাইয়া দেখি আমার বুইড়া গিন্নীও নতুন শাড়ী পইরা নামাজ পড়তিছে। ঘটনা দেইখা আমার মাথায় চক্কর দিতিই চৌকির উপ্যার বইসা পড়লাম। গিন্নী নামাজ পইড়া সামনে আইসা কইলো,ধ্যান কইরা কি ভাবতিছো। কইলাম ঘটনা কি,সব্বাই নতুন কাপড় পরছো,পাইলা কুথায়? কদুর বিচির মতোন সুন্দ্যার পান খাওয়া দাঁত বাইর কইরা গিন্নী কইলো,এলেকশনে পাওয়া টাকা তুমিতো সব ভাইঙ্গা খাইছো। ক্যানডিডেটরা এই বচ্ছর আমাগো ফাঁকি মারতি পারে নাই। যে আইছে তারেই কইছি নগদ না পাইলি ভোট নাই। সব্বাই পাঁচশো,এক হাজার দিয়া গেছে। তাই দিয়া আমরা তিন শাশুড়ী ব্যাটার বউ শাড়ী কিনছি। তুমার নাতির জন্যিও কিনছি। তুমার কাছে দিলিতো বিড়ি খাইয়া ধুমা উড়েইয়া দিতা। কইলাম,ঠিক কথাই কইছো। মনে মনে কইলাম,এলেকশনের কয়দিন যে মাছ-গোস্তীর-পায়াস খাইছ তা তুমার কোন ভাতারে দিয়া গেছিলো।


    Facebook Comments Box


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757