• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ক্রাইম পেট্রল দেখেই খুন করা হয় এই শিশুকে

    | ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৪০ অপরাহ্ণ

    ক্রাইম পেট্রল দেখেই খুন করা হয় এই শিশুকে

    মুখে কাপড়, হাত পেছনে বাঁধা। পায়ে দড়ি বেঁধে পেছন দিয়ে গলায় পেচিয়ে টান টান করে বাঁধা। সাবার চোখ এড়াতে খাটের নিচে পুরনো কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। যাতে কোনো শব্দ বা নড়াচড়া না করতে পরে।


    এভাবেই গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজ বাড়ির পাশের ভাড়াটিয়ার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু শ্রেণির মেধাবি ছাত্রী আয়শা আক্তার ইয়াসফার (৬) লাশ। এই ঘটনায় আয়শাদের বাড়ির পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া এনামুলকে (১৯) প্রধান আসামি করে ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। তবে এনামুল পালাতক।


    আয়শার মামা আলমগীর হোসেন বলেন, তাকে বিকাল ৪টা খেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বাড়ির অন্য সদস্যেদের সাথে এনামুলও আয়শার খোঁজ করে। এনামুল এক পর্যায়ে বলেন, আয়শা মনে হয় অন্য পাড়ায় খেলতে গেছে। সে তো এখন বড় হয়ে গেছে। সে যত দূরেই যাক আবার একা একা চলে আসতে পারবে।

    তবে আয়শার মা বার বার বলেন, সে মনে হয় তোমার ঘরেই আছে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে এনামুল তার ঘর খুলে দেয় এবং সবার সাথে ঠান্ডা মাথায় তার ঘরে ঢোকে।

    আয়শার মামা বলেন, সে খুব পরিকল্পনা করে এই কাজটি করেছে। সে ধারণা করেছিল তার ঘরে আমরা আয়শাকে খুঁজে পাব না। তার খাটের নিচে পুরনো কাগজ দিয়ে এমনভাবে ঢেকে রাখা হয়েছিল যে সহজে যেন কারো নজরে না পড়ে। কিন্ত আয়শার মায়ের সন্দেহ হলে তিনি খাটের নিচে ঢুকে আয়শার মরদেহ উদ্ধার করেন।

    আমার বোন খাটের নিচ থেকেই চিৎকার করে ওঠে তুই আমার মেয়েটারে মেরে ফেললি। এই কথা শুনে এনামুল দৌড়ে পালিয়ে যায়।

    এর আগে দুপুর ৩টার দিকে আয়শাকে তার মা তাদের নিজ ঘরে ঘুমাতে বলেন। আয়শাকে যে ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার পাশেই তার মা কাজ করছিলেন। কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ পাননি। ৩টার পর কোনো এক সময় এনামুল এই কাজ করে।

    খুন হওয়া ঘরের পাশের ভাড়াটিয়া বলেন, যেদিন আয়শাকে খুন করা হয় সেদিন সকালেও আয়শার মা এনামুলকে নাস্তা খাইয়েছে। এনামুলের মা দেশের বাড়ি যাওয়ার কারণে আয়শার মা সব সময় তার খোঁজ নিতেন। এনামুল দুই বছর ধরে এখানে থাকলেও কারো সাথে খুব একটা মিশত না। সে সব সময় মাথা নিচু করে চলাফেরা করত। প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে কথাও বলত না। আমারা দেখেছি সে খুব মনযোগ দিয়ে ক্রাইম পেট্রোল দেখত। আমাদের ধরণা সে ক্রাইম পেট্রোল দেখে দেখে এই কাজ করেছে। কারণ আয়শা নিখোঁজের পুরোটা সময় সে সবার সাথেই ছিল। তাকে দেখে একদম স্বাভাবিক মনে হয়েছে। তার মধ্যে কোনো চিন্তার ছাপ দেখিনি। সে এই হত্যাটি পেশাদার খুনিদের মত করেছে।

    এই ঘটচনার পর এনামুলের ঘরে তার কোনো ছবি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে আয়শাকে খুন করার পর সে পরিকল্পনা করে সব ধরনের আলামত সরিয়ে ফেলেছে। পুলিশও একাধিকবার তার ঘর সার্চ করে কোনো শক্ত আলামত সংগ্রহ করতে পারেনি।

    ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা এখনো আসামিকে ধরতে পারিনি। তবে তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। এনামুলের বাবা বোবা হওয়ায় কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। আমরা আসামিকে ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনামুল ঢাকার বাইরে পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে পুলিশের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তার মোবাইল নম্বর ট্রাকিং করেও তাকে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673