• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ক্লিনিকের ডাক্তার নার্স নেই, ইঞ্জেকশন দেন ম্যানেজার

    আসিফ হাসান কাজল | ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | ১০:০০ অপরাহ্ণ

    ক্লিনিকের ডাক্তার নার্স নেই, ইঞ্জেকশন দেন ম্যানেজার

    মাগুরায় অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসক সেবিকা অপ্রতুলতা সর্বপরি চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে ভায়না টিটিডিসি পাড়ায় অবস্থিত একতা ক্লিনিক এণ্ড নার্সিং হোম। সম্প্রতি নিজ স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন করাতে এসে একতা ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা গ্রহনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে মোঃ মাহমুদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, গত ৪ নভেম্বর আমার স্ত্রী জেরিন শবনম (২৬) এর সিজারিয়ান অপারেশন শেষ করেই ঢাকা চলে যান এমবিবিএস ডাঃ আবু তাহের রাসেল। পরদিন সন্ধায় প্রসূতি শবনমের শরীরে তীব্র খিচুনী উঠে। ওই সময় ক্লিনিকে কোন ডাক্তার নার্স না থাকার দরুণ ক্লিনিক ম্যানেজার রনি উক্ত ডাক্তারকে ফোন করে জানায় রোগীর সংকটময় অবস্থার কথা।

    অতঃপর ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীর শরীরে ইঞ্জেকশন পুশ করা হয়। আর এই কাজ কোন ডাক্তার,নার্স করেনি করেছেন স্বয়ং ক্লিনিক ম্যানেজার! এর পরেই জেরিন শবনমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শরীরে প্রচুর খিচুনী বেড়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার পরিবার জানায় শবনম বর্তমানে মুমূর্ষ অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।


    একতা ক্লিনিক এণ্ড নার্সিং হোম পরিদর্শন ও সরেজমীনে দেখা যায় ক্লিনিকের দূর্দশা ও রোগীদের ভোগান্তির অবস্থা। ময়লা জরাজীর্ণ অপারেশন থিয়েটার, স্যাতস্যাতে বেসিং। হাতের গ্লাভস পূণঃব্যাবহার করার জন্য ওটি’তেই শুকানো হচ্ছে।


    এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে কিভাবে একটি ক্লিনিক চলছে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুব্রত কুমার জানান, গত ২ বছর ধরে একতা ক্লিনিক ও নার্সিং হোমের লাইসেন্স নবায়ন করা নাই। এছাড়াও জানান, একটি দশ শয্যার ক্লিনিকে সর্বনিম্ন ৬ জন প্রশিক্ষিত নার্স ও ৩ জন মেডিকেল ডাক্তার থাকা বাধ্যতামূলক। ক্লিনিকের কোন ম্যানেজার ইঞ্জেকশন পুশ করতে পারেন কিনা এই প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই না।

    এই ঘটনায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপাচার করা চিকিৎসক আবু তাহের মোহাম্মদ রাসেল এর সাথে কথা হলে তিনি স্বীকার করেন ম্যানেজার ইঞ্জেকশন পুশ করেছেন। তবে তার পুশ করার কথা না এটিও তিনি জানান। এই ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার কি অস্ত্রোপচার করার জন্য উপযোগী মানসম্পন্ন কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওই ক্লিনিকে আর কোন অপারেশন করবেন না । এই ব্যাপারে ক্লিনিক মালিক নাদের হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ দেখায়।

    পরে মাগুরা সিভিল সার্জন ডাঃ সাদউল্লাহ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে এই ধরনের বেসরকারি ক্লিনিকের ব্যাপারে আপনার প্রশাসন এর অবস্থান কি এমন তথ্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ক্লিনিকটি টিনের ঘরের তৈরী এ কারনে এই ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। এছাড়াও তিনি বলেন, এই সকল ক্লিনিক বন্ধ করার জন্য ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট তালিকা পাঠানো হয়েছে। যে তালিকায় এই ক্লিনিকের নামটি ও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবশ্যই এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669