• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ক্ষতিকর পণ্য প্লাস্টিক

    অনলাইন ডেস্ক | ২০ জুলাই ২০১৭ | ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

    ক্ষতিকর পণ্য প্লাস্টিক

    মহাসাগর পাড়ি দেয়ার সময় অনেকেই পানিতে নানা বর্জ্য ফেলে। এসব বর্জ্যের মধ্যে প্লাস্টিক অন্যতম। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দ্বীপে (হেন্ডারসান) পৃথিবীর সব থেকে বেশি পুরু প্লাস্টিক বর্জ্যের অস্তিত্ব পেয়েছেন গবেষকরা।


    যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন পিটকেইরন দ্বীপপুঞ্জের একটি হেন্ডারসান দ্বীপ, যা প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এই দ্বীপে কোন মানুষের বসবাস নেই। আর এই নির্জন দ্বীপে প্রায় ৩৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন টুকরো প্লাস্টিক বর্জ্যের টুকরো জমা হয়েছে।

    ajkerograbani.com

    ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ আমেরিকা গামী নৌকা, জাহাজ ও জল যান থেকে ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য স্রোতের সাথে এখানে এসে জমা হয়। এই তথ্য জানার পর গবেষকরা আশা করছেন মানুষ প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পর্কে আরও সচেতন হবে এবং এর ব্যবহার বন্ধ করবে। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশগ্রহণে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, হেন্ডারসন দ্বীপের প্রতি বর্গমিটারে ৬৭১ টুকরো প্লাস্টিকের বর্জ্য রয়েছে এবং সব মিলিয়ে যার ওজন হবে ১৭ টন।

    মাছ ধরার বিভিন্ন জিনিসের পাশাপাশি হেন্ডারসান দ্বীপের প্লাস্টিক বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে টুথ ব্রাশ, সিগারেটের লাইটার এবং রেজারসহ আরও বিভিন্ন নিত্য ব্যবহার্য পণ্য। সাগরের তীরে যেসব কাঁকড়া বাস করে তারা প্লাস্টিকের কৌটা ও বতলগুলোকে বাসা হিসেবে ব্যবহার করছে।

    সমুদ্র গবেষকরা বলছেন, আপাত দৃষ্টিতে এটিকে সুন্দর মনে হলেও এটি আসলে খুব ক্ষতিকর। কারণ এই প্লাস্টিকগুলো পুরাতন, তীক্ষ্ণ ও ধারালো। এগুলোও বিষাক্তও বটে।

    হেন্ডারসন দ্বীপের বাস্তুসংস্থান এর মৌলিক ১০ প্রজাতির গাছ এবং চার প্রজাতির পাখিসহ অন্যান্য প্রাণিকূলের জন্য বিখ্যাত। এই প্লাস্টিক বর্জ্য বাস্তুসংস্থানে বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

    গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দ্বীপেই এই ধরনের ভাসমান বর্জ্য এসে জমছে। এর সাথে কোন নির্দিষ্ট দেশ বা জাতি জড়িত নয়। এই প্লাস্টিক সমুদ্রের জন্য খুবই ধ্বংসাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে।

    ‘এই পৃথিবী খুব দ্রুত একটি প্লাস্টিকের গ্রহে পরিণত হবে এবং আমরা যদি এমনটা না চাই তবে ক্ষতিকর পণ্য বিশেষ করে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস ব্যবহারে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

    পৃথিবী খুব দ্রুতই একটি প্লাস্টিক গ্রহে পরিণত হচ্ছে। মার্কিন বিজ্ঞানীদের এক গবেষণা অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উৎপাদিত প্লাস্টিকের পরিমাণ ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন। গত ৬৫ বছরেই এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক তৈরি হয়েছে।

    এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক নিউ ইয়র্কের ২৫ হাজার এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সমান অথবা ১ বিলিয়ন হাতির ওজনের সমপরিমাণ।

    আর এই বিশাল পরিমাণ উৎপাদিত প্লাস্টিকের প্রায় ৭৯ শতাংশই ছড়িয়ে পড়েছে খোলা প্রকৃতিতে। প্লাস্টিক বর্জ্যে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।

    প্লাস্টিকের অধিক উৎপাদন এবং প্রকৃতিতে এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আশংকাজনক হারে বাড়ছে। মাটি এবং পানিকে ভয়াবহভাবে দূষিত করছে প্লাস্টিক। এমনকি নদী এবং সাগরও প্লাস্টিক পণ্যের কারণে দূষিত হচ্ছে। যেহেতু প্লাস্টিক পণ্য পচনশীল নয়, তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপ প্রয়োগ করে এগুলো নিঃশেষ করতে হবে।

    এছাড়া প্লাস্টিকের সঠিক প্রয়োজন নিরুপণ করে তারপর উৎপাদনে যাওয়া উচিত। এজন্য সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। প্যাকেজিং বা স্বল্প সময়ের জন্য পণ্য সরবরাহের কাজে প্লাস্টিক বেশি ব্যবহার করা হয়।

    ড. রোল্যান্ড গেয়ার নামের এক বিশেষজ্ঞ বিবিসিকে জানান, এই পৃথিবী খুব দ্রুত একটি প্লাস্টিকের গ্রহে পরিণত হবে এবং আমরা যদি এমনটা না চাই তবে ক্ষতিকর পণ্য বিশেষ করে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস ব্যবহারে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোলজিস্ট প্লাস্টিকের উৎপাদন, ব্যবহার এবং দূষণ সম্পর্কে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, প্রায় ৮ হাজার ৩শ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণের অর্ধেক গত ১৩ বছরে উৎপাদিত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ ভাগ প্লাস্টিক ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বাতিল প্লাস্টিকের মধ্যে মাত্র ৯ ভাগ পুনর্ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া ১২ শতাংশ প্লাস্টিক পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে আর ৭৯ ভাগ প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালে প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহারযোগ্য হার ইউরোপে ৩০ ভাগ, চীনে ২৫ ভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৯ ভাগ।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755