• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ‘ক্ষমতায় থেকেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে চাই’

    নিজস্ব প্রতিবেদক: | ০৯ জুলাই ২০১৭ | ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

    ‘ক্ষমতায় থেকেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে চাই’

    ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ মতায় এলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগের নেয়া কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হলে আমাদের আরো এক টার্ম মতায় আসা দরকার। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আওয়ামী লীগ সরকার উদযাপন করবে, এ ল্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীও আওয়ামী লীগ মতায় থেকে পালন করবে, আমি এটি চাই।’
    গতকাল শনিবার বিকেল ৫টায় গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল বলে উন্নয়নের সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পেরেছি। সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। আওয়ামী লীগের ল্য উন্নয়ন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এর বাইরে যারা মতায় এসেছে, তারা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। কাজেই দেশের মানুষকেই চিন্তা করতে হবে, তারা কী করবেন?’
    দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে। বিএনপি দেশ শাসন করতে নয়; ভোগ করতে, লুটপাট করতে মতায় আসে এটিও জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। আর আওয়ামী লীগ মতায় এলে দেশের উন্নয়ন করে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে; এটি প্রমাণিত।’
    বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন এলে তারা বিভিন্ন রকম টালবাহানা শুরু করে। এসবও জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। নির্বাচনে জনগণ ভোট দেবে। আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো। এই স্লোগানও কিন্তু আমরাই প্রণয়ন করেছি। এ ছাড়া ভোট জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারাই মতায় আসবে বলে আমরা মনে করি।’
    আমাদের সরকার হাওয়া ভবন খুলে খাওয়া ভবন তৈরি করেনি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইশতেহার হাতে নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করি। এ বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে ২০১৯ সালে আরো বড় আকারে বাজেট দেয়া হবে।’
    ২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনী আইনে আছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া যায়। এই আইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আছে।’
    ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন কোনো জেলা নেই, যেখানে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য অত্যাচার-নির্যাতন করেনি বিএনপি। তাদের অন্যায়-অত্যাচার-জুলুম ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এসব অত্যাচার-নির্যাতন ভুলে গেলে চলবে না। জনগণের কাছে এসব বারবার তুলে ধরতে হবে। তারা যে পরিমাণ অত্যাচার করেছে আমরা মতায় এসে তার কিছুই তো করলাম না।’
    তিনি বলেন, ‘অতীতে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর কী পরিমাণ অত্যাচার-নির্যাতন করেছে সেটা আর্কাইভে রাখা দরকার। সবার জানা দরকার। তারা কারাগারে ঢুকেও আমাদের নেতাকর্মী মেরেছে। আমরা অতীত ভুলে যাই, মাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখি।’
    স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করল, মানুষ মারল, গণহত্যা করল, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তারাই মতায় এলো। বেঈমান খন্দকার মোশতাককে মতায় বসাল। কিন্তু বেশি দিন রাখল না। তাকেও সরিয়ে দিলো যারা বেঈমানি করিয়েছে তারাই। এরপর জিয়াউর রহমান মতায় এলেন। তার মতাগ্রহণের মধ্য দিয়ে অপশক্তি রাষ্ট্র পরিচালনায় আসে। দেশ দুর্ভিরে মধ্যে পড়ে। দুর্নীতি-লুটতরাজ শুরু হয়। অন্য স্বৈরশাসকদের মতো তিনিও এলিট শ্রেণী তৈরি করে মতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেন। আইয়ুব খানও এমনই করেছিলেন। এভাবে ২১ বছর দেশ অন্ধকারে ছিল।
    তিনি বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আমরা মতায় এসে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন শুরু করি। জনগণের জীবনমান যেন উন্নত হয়, সে ল্েয আমরা কাজ শুরু করি। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে মনোনিবেশ করি। সে কাজের সুফল মানুষ এখন পাচ্ছে।
    শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এখন খাদ্যের অভাবে হাহাকার নেই। এক সময় মঙ্গাপীড়িত এলাকায় মঙ্গা নেই, দুর্ভি নেই। মানুষ পেট ভরে খেতে পারে। বেকারত্বের হার কমে গেছে। আর্থসামাজিক উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে।
    ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মাগুরা নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের বিএনপির একক নির্বাচন জনগণ দেখেছে। ষড়যন্ত্র করে ২০০১-এর নির্বাচনেও আমাদের হারিয়ে দেয়া হয়। তারপর আবার দেশকে পিছিয়ে দেয়া হয়। আমরা ২০০৯ সালে আবার মতায় এসে এ দেশের উন্নয়নে কাজ শুরু করি।’
    শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা মতায় এসে যেসব কাজ হাতে নিয়েছি সেসব বাস্তবায়ন করেছি। যেসব মেগা প্রকল্প হাতে রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে আরো এক টার্ম মতায় থাকা প্রয়োজন।’
    তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মতায় এলে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে সেটি প্রমাণিত। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে। এটিই আওয়ামী লীগের নীতি। এর বাইরে যারা মতায় এসেছে তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।’
    সভায় বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বন্যার্তদের পাশে নেতাকর্মীদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।


    Facebook Comments Box


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757