• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    খালেদের দাবি, ‘জুয়ার নিয়ন্ত্রক সম্রাট’

    ডেস্ক | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১:১০ পূর্বাহ্ণ

    খালেদের দাবি, ‘জুয়ার নিয়ন্ত্রক সম্রাট’

    ঢাকার মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত ছয়টি ক্লাবে ক্যাসিনো, জুয়ার আসর ও অশ্লীলতার নিয়ন্ত্রক ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    ওই তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান চালায় র‍্যাব। আটক করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে। এসব অভিযানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকও জব্দ করা হয়।


    ‘দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারাদেশে শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়েছে’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার বলেছেন, ‘অনিয়মকারী যে দলেরই হোক তাকে পাকড়াও করা হবে। এখনও সময় আছে, এসবের সঙ্গে জড়িতরা সাবধান হয়ে যান।’ ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাবের অভিযান শুরু হয়েছে। আটক করা হচ্ছে সরকারদলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের। ‘অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে’ বলেও সতর্ক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    এছাড়া ‘ক্যাসিনো মামলায় যুবলীগের যাকেই গ্রেফতার করা হবে তাকেই বহিষ্কার করব’- বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। ফলে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সরকারদলীয় সংগঠনের এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ব্যক্তিরা এখন আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।

    সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের বড় একটি অংশই মূলত চলে দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ছত্রচ্ছায়ায়। বর্তমানে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন। যেকোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

    এদিকে, অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় সাতদিনের রিমান্ডে থাকা যুবলীগ নেতা খালেদ হোসেন ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন যে, মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত ছয়টি ক্লাবে ক্যাসিনো, জুয়ার আসর ও অশ্লীলতার নিয়ন্ত্রক ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

    তদন্ত সূত্র আরও জানায়, মতিঝিলে মোট ছয়টি ক্লাব রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছার; আরামবাগ ও দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে মমিনুল হক সাঈদ, ভিক্টোরিয়া ক্লাবের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এবং ইয়াংমেন্সের সভাপতি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

    সম্রাট ও খালেদ দুটি ক্লাবের সভাপতি হলেও দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওই ছয়টি ক্লাবের প্রতিটি জুয়ার আসর সম্রাট ও খালেদের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চলতো। এছাড়া দৈনিক তারা দুজন জুয়ার আসর থেকে চাঁদা উত্তোলন করতেন।

    চাঁদার নির্দিষ্ট পরিমাণ না জানলেও সূত্র জানায়, ক্লাবপ্রতি চাঁদার হার প্রতি রাতে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা।

    গত বুধবার অবৈধ অস্ত্র ও ইয়াবা রাখার অপরাধে খালেদকে গ্রেফতার করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে সম্রাট। খালেদকে বুধবার রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করেন র‌্যাব সদস্যরা। পরদিন তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং মামলা করে র‌্যাব। এর মধ্যে মাদক ও অস্ত্র মামলায় সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া মামলার তদন্তভার দেয়া হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)।

    ক্যাসিনোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানান, তিনি ইয়াংমেন্স ক্লাবের সভাপতি। মতিঝিলের আশপাশে কয়েকটি ক্লাবে আগে থেকেই ক্যাসিনো ও জুয়া চলতো। যখন ইয়াংমেন্সের খরচ চালানো কষ্টকর হচ্ছিল তখন একজন ব্যবসায়ী খালেদকে ক্যাসিনো স্থাপনের প্রস্তাব দেন। খালেদ সেই প্রস্তাবে রাজি হন। খালেদের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর চুক্তি হয় যে, তিনি ক্যাসিনোর আয় থেকে একটি নির্ধারিত অংশ ক্লাবের জন্য এবং একটি অংশ খালেদকে দেবেন। তবে ওই ব্যবসায়ীর নাম বলেননি খালেদ।

    সূত্র আরও জানায়, খালেদের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশি ওই ব্যবসায়ী নয় মাস আগে ক্যাসিনো স্থাপনের জন্য দেড় কোটি টাকা দিয়ে সরঞ্জাম আনেন। এর দুই মাস পর পুরোদমে ক্যাসিনো পরিচালনা শুরু হয়। প্রতিদিন রাতে ওই ব্যবসায়ী ক্যাসিনোর একটি ভাগ খালেদের কাছে পৌঁছে দিতেন। আরেকটি অংশ যেত পুলিশসহ প্রভাবশালী কয়েকজনের পকেটে। তবে গত দু-তিন মাস আগে ওই ব্যবসায়ী এক নেপালিকে ক্যাসিনোর দায়িত্ব দিয়ে চলে যান।

    খালেদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কয়েকটি ক্যাসিনোর ‘নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নাম বলেছেন।

    সূত্র জানায়, খালেদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঠিকাদারি কাজ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে খালেদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি সিটি কর্পোরেশনের মতিঝিলের সড়ক মেরামতের ৫২ কোটি টাকার কাজ করছেন। সম্প্রতি পূর্বাচলে ৪০ কোটি টাকার সরকারের একটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেন তিনি।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী