• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    খোরশেদ আলম বিপ্লবের খোলা চিঠি: বিশ্বাসে অপেক্ষা

    | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২:১৩ অপরাহ্ণ

    খোরশেদ আলম বিপ্লবের খোলা চিঠি: বিশ্বাসে অপেক্ষা

    আমার এ আহত হৃদয়ের পাগলামি তোমার হয়তো ভালো লাগবে না। কিন্তু আমার কথা তুমি ছাড়া ক’জনা বুঝবে বলো? যে নিজের হৃদপিণ্ড ছিঁড়ে ফেলে নিজের প্রাণের প্রাণকেও ভাসিয়ে পাথরে বুক চেপে থাকতে পারে। সে ছাড়া আমার কথা ক’জনা বুঝবে বলো? যার প্রেম কেবল স্মৃতি মাত্র, যাকে অবলম্বন করে সে সজীব থাকতে পারে । সে ছাড়া আমার কথা ক’জনা বুঝবে বলো? যার প্রতি শাবকহীন বিহঙ্গের মতো শ্মশানের চারদিকে ঘুরে বেড়ায় এবং যার প্রেম নাস্তিকের মনেও পরলোকের অস্তিত্বে বিশ্বাস উৎপাদন করতে পারে। তর্ক যুক্তি বিসর্জন দিয়ে শরীর থেকে মনকে পৃথক করে দিতে পারে। সে ছাড়া আমার কথা ক’জনা বুঝবে বলো? যে কবি না হয়ে ও জাগতিক শোক-তাপ, বিরহ-যন্ত্রণা,নৈরাশ্য-কাতরতায় বিষের জ্বালায় কবি হয়ে উঠছে। সে ছাড়া আমাকে ক’জনা বুঝবে বলো? যার ডাকে সাড়া দিয়ে রাত বিরাতে’- ছুটে আসতাম এই নির্জনতায়, সেই তুমি ছাড়া আমাকে আর কে বুঝবে বলো? কত বিনিদ্র কনকনে শীতের নৈশপ্রহরে তোমার চাঁদনী আলোয় টলমলে জলে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখেছি, সেই তুমি ছাড়া আমায় ক’জনা বুঝবে বলো?


    বাস্তবতার নিয়ম বড্ড কঠিন, যার বাইরে যাওয়ার কোন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনটাই নেই। নিয়তির আবর্তিত চাকায় পিষ্ট হয়ে সবকিছু নীরবে মেনে নিতে হয়। মনে পড়ে তুমি একদিন আমাকে বলতে-এই তুমি আমাকে কখনো ঠকাবে না তো! তুমি আমাকে কোন কিছুতে ভোগাবে না তো! যেন তোমার সঙ্গ স্বর্গ সুধা ছিল, মাথার উপরে চাঁদ আর সম্মুখে তুমি । তোমার খোলা এলোচুল আর ডাগর চোখের চাহনিতে চাঁদের নির্মল আলোর সাথে নক্ষত্রদের লুকোচুরি আমায় পাগল করে দিতো। খানিকটা দূরে তীর ঘেষা দোদুল্যমান গাছগুলোতে আলিঙ্গনরত লতা গুলোর সাথে হাওয়ার কি নিবিরাম খেলা। এ যেন পরকীয়া প্রেম। তুমি জানো আমি কেন আজ তোমার কাছে আসি? কেন এই গভীর নেশায় তোমার তীরে বসে কাঁদি ? তুমি ছাড়া দুঃখের কাহিনী আর কেউ শুনতে চায় না । এই কথা একবার‌ও কেউ শুনতে চায় না । মানুষ আপন শোকভার বইতে বড় অক্ষম, তাই পরের দুঃখ শুনতে কেউ ইচ্ছে করে না । মানুষের কাছে মনের দুঃখ প্রকাশ করলে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করা হয় যার বিনিময়ে কেবল উপহাস আর করুনায় স্তব্ধ হতে হয়। নিজেকে তাই তোমার সাথে আমার দীর্ঘশ্বাস মেশাতে আসি এখানে বারবার । পরের বেদনা পর বুঝে না, তাইতো স্রোতের সাথে আমার চোখের জল মেশাতে আসি। এই কথা তুমি ছাড়া আমাকে ক’জনা বুঝবে বলো?


    যদি চলে যেতে হয় আজ না হয় চলেই যাবো । মনকে তো আর ছলে ভুলাতে পারলাম না, তাই আবার সময় পেলেই চুপিচুপি তোমায় দেখতে আসবো। এমনি করে গোপনে এসে তোমায় দেখে যাবো চোখের দেখা শুধু , চোখের দেখাই দেখে যাবো। সকল ইন্দ্রিয়কে চোখে এনে আমার নয়ন ভরে দেখে যাবো । আমার এই দুঃখময় জীবনকে ভরিয়ে দেবো তোমায় দেখার মাঝে, এইতো আমার সুখ। এমনি করে কোন এক চাঁদনী রাতে মৃদু প্লাবনে, ঠিক এমনই নির্জনে, এমনই গভীর নেশায় নিভৃতে, এমনি করে চুপিসারে তোমাকে দেখে যাবো। আমার খুব ইচ্ছে সেদিন তুমি খুব সুন্দর করে সাজবে, সেদিন আয়নার সাথে রূপের তুখোড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সেদিন ওই সুন্দর মুখখানার দিকে তাকিয়ে আমি আনন্দে একবার কেঁদে যাবো। এখানে এত সুখ আগে কখনো জানতাম না। যে না জানে সেই তো ভালো আছে । জানিনা কত দিন এই হাকার আমার মন থেকে উড়াল দেবে । দিনরাত বুকের এই জলন্ত আগুন আর সইতে পারছি না, অনবরত হৃদয়ের স্তরে স্তরে লক্ষ সাপের দংশন আর কতকাল সইবো বলো? আর এই পাপময় স্মৃতি আমার আশ্রয়ে থেকে থেকে আমাকে পোড়ায় প্রতিনিয়ত। সর্বনাশী স্মৃতি আমার হৃদয়ে বাস করে আমারই প্রাণের ডাল ভেঙে আমারই হৃদয়ে আগুন জ্বেলে দেয়।

    মাঝে মাঝে তোমার প্রতি আমার বড্ড অভিমান হয়। ভাবি তোমার দু’কুলে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষরাজি তোমারি বুকে বহমান লোনাজলে তীব্র জলোচ্ছ্বাসে সব কিছুকে তলিয়ে দেই। কিন্তু পারিনা কি এক মায়াজাল নিবিড় ভালোবাসায় জড়িয়ে আছো আমার‌ই বুকে। তোমার মনে পড়ে কোন এক বড় দুপুরে তোমার তীরে দাঁড়িয়ে তোমারি জলে অপরূপ সৌন্দর্য দেখছি হঠাৎ ক্ষিপ্র ঝড় এসে আমাকে ছুঁড়ে ফেলেছিলো তোমার বুকের নোনা জলে। সেদিন আমি কোনরকম সাঁতরে তীরে উঠি । তোমার বুকে স্নান করার ছলে সাঁতার কেটেছি কত বার সে কথা ভুলে যাইনি। আর সেই তুমি ছাড়া আমাকে ক’জনা বুঝবে বলো? কখনো তোমার অনর নীরবতা কখনো ক্ষিপ্র উল্লাস কখনও বা পাষানী ঢেউ তলিয়ে নিয়েছে আমার পূর্বপুরুষ আর তাদের অস্তিত‌ও্ব। তবুও তোমাকে ভালোবাসার কমতি নেই । সবকিছু জেনে শুনে উদার মহানুভবতায় বারবার ফিরে আসি তোমার তীরে। মনে মনে ভাবি তুমি পাষাণ হলেও বড্ড নিবিড় ভাবে আশ্রয় দাও যে আশ্রয়ে় আজও সুখ খুঁজে ফিরি। চারিদিকে অন্যায় অত্যাচার অনিয়ম আর আমার মত দুঃখ ভরা মানুষের কান্নার শব্দ যখন কেউ বুঝতে পারে না, মনের হাহাকার যখন শুনতে পায়না কেউ, ঠিক তখন নিজেকে সান্তনা দিতে তুমি পাষাণী ভেবেও ফিরে আসি তোমারি ছায়া তলে। সে তুমিই বলো তুমিহীনা আমায় ক’জনা বুঝবে বলো?

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669