বুধবার ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গর্জে উঠলেন শাবান মাহমুদ, প্রত্যাহার হল ডিসি সুলতানা

শেখ সোহেল রানা :   |   সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

গর্জে উঠলেন শাবান মাহমুদ, প্রত্যাহার হল ডিসি সুলতানা

শাবান মাহমুদ মূহুর্তে গর্জে উঠলেন, যে মূহুর্তে গর্জে ওঠারই কথা।তিনি পুরোদস্তুর এক সাংবাদিক নেতা সেটা আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন গোটা জাতিকে।
কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফল ইসলাম মুক্তকে কুড়িগ্রামেরই ডিসি সুলতানা পারভীন কর্তৃক নাজেহাল ও কারাগারে নিক্ষেপের ঘটনা গোটা সাংবাদিক সমাজেরই ক্ষমতা ও আত্মমর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলো।
গোটা সাংবাদিক সমাজের মনে অগ্নিকুন্ডলি দাবানলের মতো যখন জ্বলছিল, তখনই বিএফইউজে’র মহাসচিব অবিসংবাদিত নেতা শাবান মাহমুদ অগ্নিমূর্তিধারণ করলেন।
কারন বাংলাদেশের যে কোনো সাংবাদিকদের অন্যায় ভাবে নির্যাতন , হয়রানী ও হামালা-মামলা করলে এ আঘাতটা সরাসরি সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদের বুকে এসে লাগে এবং ব্যাথিত করে। সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদের চরম হুশিয়ারি এবং তার অমোঘ বজ্রকন্ঠ ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো সরকার সংশ্লিষ্ট মহলে।
শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে প্রত্যাহার করা হলো কুড়িগ্রামের অপ্রকৃতস্থ ডিসি সুলতানা পারভীনকে এবং জামিনে মুক্ত করা হলো আরিফুল মুক্তিকে।
আজকের অগ্রবাণীকে শাবান মাহমুদ বলেন ,বাংলাদেশের গণমাধ্যম এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। ভালো নেই দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীরা। রাজধানী থেকে শুরু করে মফস্বল, সব জায়গায় একই অবস্থা। একদিকে নেই চাকরি আর বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা। অন্যদিকে নেই নিরাপত্তা।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক তথ্য অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ৩৬ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিচার হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি। গত ১০ বছরে কত সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়েছে, বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে গ্রেফতার ও আটক করা হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই।
সবমিলিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাংবাদিক সমাজ। সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কথিত রাজনীতিবিদ, সরকারি আমলা, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী, পেশাজীবি গোষ্ঠীর রোষানলে পড়তে হচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের। বিগত দিনে আমাদের দেশে যে সব সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমের জন্য চরম অশনিসংকেত বলে বলেও মনে করছেন তিনি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও ষ্টাফ রিপোর্টার আল-আমিনের মামলা কখনই সাংবাদিক সমাজের কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। এছাড়া বেশ কয়েকদিন যাবৎ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ রয়েছেন। তার বিষয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনী কোনো সন্ধান দিতে পারছে না।
তিনি আরো বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে সাংবাদিক সমাজের দ্বন্দ্ব তৈরীর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এসব ঘটনার মাধ্যমে বাক-স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বরাবর ব্যহত করার চক্রান্তে ব্যস্ত নানা চিহ্নিত মহল। নেতারা এ ধরনের অপচেষ্টাকারীদের সতর্ক করে দিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দাবী করেন। নতুবা চিহ্নিত এ মহলের মুখোশ উন্মোচনে কঠোর আন্দোলন দেওয়া হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের ‘পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে’। এখন এর থেকে উত্তোরণে পথ খুঁজতে হবে।

Facebook Comments Box


Posted ৯:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১