• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    গর্ভবতী মা , সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে কী কী নিয়ম মানবেন

    অনলাইন ডেস্ক | ২৮ মার্চ ২০১৭ | ৪:৪২ অপরাহ্ণ

    গর্ভবতী মা , সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে কী কী নিয়ম মানবেন

    গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের একটাই চিন্তা থাকে৷ যেন সুস্থভাবে সন্তান পৃথিবীর আলো দেখে৷ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শারীরিক বা মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নয় সদ্যোজাত৷ অনেক শিশুই বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করে৷ এমনকী প্রতিবন্ধকতাও দেখা দিতে পারে৷ এর পিছনে নানা কারণ থাকতে পারে৷ গাইনোকলোজিস্ট ডক্টর সীমা শর্মা বলছেন, কয়েকটি খাওয়ার অভ্যাস বদলালে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে অনায়াসেই শিশু স্বাভাবিকভাবে জন্মাতে পারে৷ এই প্রতিবেদনে রইল সেই সংক্রান্ত কিছু তথ্য৷


    # গর্ভধারণের সময় কোনওভাবেই ধূমপান করা চলবে না৷ এমনকী আপনার সামনে কেউ ধূমপান করলে সেই জায়গা থেকে সরে যান৷ অন্তত দু’মিটারের মধ্যে একেবারেই থাকবেন না৷
    # অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য যে কোনও ধরনের কেমিক্যাল বা রাসায়নিক অত্যন্ত ক্ষতিকর৷ তাই এই সময় চুলে রঙ করা বা মুখে ব্লিচ করার মতো বিষয়গুলিকে এড়িয়ে চলারই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক৷
    # গর্ভধারণের সময় ফুটপাতের খাবার গর্ভবতীকে অসুস্থ করে তুলতে পারে৷ যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সন্তানের উপরও৷ সেই সব জীবাণু থেকে দূরে থাকাটা বিশেষ জরুরী৷
    # মদ্যপান করতে ভালবাসেন? অথবা কোকেনের মতো ড্রাগ সেবনের অভ্যেস রয়েছে? তাহলে বিপদ৷ কারণ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই জিনিসগুলি আপনার ও আপনার সন্তানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক৷ সামান্য পরিমাণ মাদকও ভ্রুণের মস্তিষ্ক বৃদ্ধির উপর খারাপ প্রভাব ফেলে৷
    # বর্তমানে শাক-সব্জি থেকে ফল, সবকিছুতেই রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো থাকে৷ কিন্তু জেনেশুনেও এসব খাবার বাজার থেকে কিনে খাওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকে না৷ যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর৷ সেক্ষেত্রে ফল খাওয়ার আগে তা ভালভাবে ধুয়ে ও মুছে নিন৷
    # রসায়নিক পদার্থ যাতে শরীরে না পৌঁছয় তার জন্য আপেল, শশার মতো ফলগুলির খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই ভাল৷ এতে অন্তঃসত্ত্বা ও তাঁর সন্তান সুস্থ থাকবেন৷


    সন্তান সম্ভবা মায়ের শরীরের যত্ন :

    গর্ভকালীন মায়েদের মন থাকে উৎকণ্ঠায় ভরা। কোনো বড় ধরনের স্ট্রেচ নিতে পারে না। সব সময় মানসিক চিন্তায় বিভোর থাকে মায়ের মন। তাই একজন গর্ভবতী মায়ের শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে দরকার মানসিক সুস্থতাও। নিয়ম করে নিতে হবে প্রতিদিনের রুটিন এবং গর্ভের শিশুকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখতে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
    সবদিক সামলে নিয়ে একজন নারী যখন সন্তান ধারণ করার কথা চিন্তা করেন, তখন তাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভেবে নিতে হয়। মায়ের যদি কোনো বড় অসুখ থাকে তাহলে প্রথমেই সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ গর্ভাবস্থায় সব ধরনের ওষুধ সেবন করা যায় না। কিছু কিছু ওষুধ সেবন করলে বাচ্চা জন্মের সময় বিকলাঙ্গ হতে পারে। খাওয়া-দাওয়ার দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় মায়েদের খাওয়ার রুচি কমে যায়। প্রয়োজনের তুলনায় কম খেলে গর্ভের শিশুর বাড়ন্তের হার কমে যাবে। এ ছাড়া দিনে দুই-তিন লিটার পর্যন্ত পানি পান করা উচিত এবং পানি বিশুদ্ধ কি-না তা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ পানি থেকেই বিভিন্ন রোগ-জীবাণু ছড়ায়। এ ছাড়া যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে, তাদেরও এ সময় প্রচুর পানি খেতে হবে। পুষ্টিকর সতেজ শাকসবজি ও প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। এগুলো ছাড়াও ফলমূল খেতে হবে। গর্ভাবস্থায় নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। এটা ক্ষণস্থায়ী। তাই চিন্তার কিছু নেই। প্রয়োজনে মায়ের বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা ডাক্তারকে জানিয়ে স্বাভাবিক কাজ করতে পারেন। তবে ভারী কাজ যেমন ঘর মোছা, কাপড় ধোয়া থেকে বিরত থাকুন। একজন গর্ভবতী মাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। দুপুরে ২ ঘণ্টা ও রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমালে ভালো হয়। মায়ের যদি বিশ্রাম কম হয় এবং মা যদি ক্লান্ত হয়ে পড়েন তবে তা গর্ভে থাকা শিশুর জন্য খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। শারীরিক পরিবর্তনের কারণে এ সময় গর্ভবতী মায়েদের একটু বেশি গরম অনুভূত হয়। তাই এ সময় আরামদায়ক এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত। গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে চারবার ডাক্তার দেখাতে হবে। ১২ সপ্তাহে একবার, ২৮ সপ্তাহে একবার, ৩২ সপ্তাহে একবার এবং ৩৬ সপ্তাহে একবার। এ ছাড়া কোনো সমস্যা হওয়া মাত্র ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রথম তিন মাসে রক্তে চিনির পরিমাণ বেশি থাকলে শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। কারও যদি আগে থেকেই প্রেসার বা ডায়াবেটিস থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ সেবন করতে হবে। টিটেনাসের ইনজেকশন দেওয়া না থাকলে এ সময় গর্ভবতী মাকে অবশ্যই টিটেনাসের ইনজেকশন দিতে হবে।
    আমাদের দেশে গর্ভবতী মায়েদের জন্য আরেকটি মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে খিঁচুনি। গর্ভাবস্থায় প্রেসার বেড়ে গিয়ে এ সমস্যা হয়ে থাকে। প্রেসার থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় প্রথম এবং শেষ দিকে খুব বেশি দীর্ঘ ভ্রমণ করা নিরাপদ নয়। এতে মা এবং শিশুর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুব বেশি জরুরি। অ্যাজমা বা অ্যালার্জি থাকলে ধুলা-বালি থেকে দূরে থাকবেন। গর্ভকালীন অবস্থায় সব ধরনের ওষুধ দেওয়া যায় না। তাই নিজ থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় ত্বকের ওপর কোনো ধরনের দাগ পড়লে তাতে ভয়ের কিছু নেই। সাধারণত হরমোনের জন্য ত্বকের ওপর এ ধরনের দাগ পড়ে থাকে। সন্তান প্রসবের পর আবার তা ঠিক হয়ে যায়।

    গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় যা রাখা উচিত :
    স্বাভাবিক অবস্থায় একটি শিশু ২৮০ দিন বা নয় মাস ১০ দিন মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠার পর পৃথিবীর আলো দেখতে পায়। এই সময়ে তার বেড়ে ওঠা ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নির্ভর করে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া পুষ্টির ওপর।

    গর্ভাবস্থায় অপর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ এবং অপুষ্টির কারণে একদিকে যেমন কম ওজনের ও অপুষ্ট শিশু জন্মগ্রহণ করে, তেমনি মায়েরও রক্তশূন্যতা, আমিষের অভাব, দুর্বলতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। এ সময় তাই হবু মায়ের খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। তাই প্রতিদিনের সুষম খাদ্য পরিকল্পনা করার সময় কিছু বিশেষ উপাদানের দিকে লক্ষ রাখা উচিত মায়েদের।

    আমিষ: স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি আমিষ দরকার হয় এ সময়। ভ্রূণের সঠিক বৃদ্ধি, স্তনগ্রন্থীর বৃদ্ধি ইত্যাদি নিশ্চিত করতে আমিষ প্রয়োজন। দৈনিক ৯০ থেকে ১০০ গ্রাম আমিষ দরকার হবে এ সময়। এই আমিষের মূল উৎস হবে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বাদাম, ডাল ও সিমের বিচি। লৌহ: স্বাভাবিক অবস্থায় একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর দৈনিক ৩০ গ্রাম লৌহ বা আয়রন দরকার হয়, কিন্তু গর্ভকালীন সময়ে দরকার হয় দৈনিক ৩৮ গ্রাম। লৌহ অনেক পরিমাণে পাওয়া যাবে কলিজা, শুকনো ফল, সবুজ সবজি, কালো কচুশাক, পালংশাক, লালশাক, টেংরা মাছ, বিট, গুড়, খেজুর, সফেদা ও টক ফলমূল ইত্যাদিতে।

    ফলিক অ্যাসিড: ফলিক অ্যাসিডের অভাবে মায়েদের রক্তস্বল্পতা হতে পারে। এ ছাড়া ফলিক অ্যাসিড সন্তানের জন্মগত বিকলাঙ্গতা প্রতিরোধ করে। গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে চার গুণ বেশি ফলিক অ্যাসিড খাওয়া উচিত। পালংশাক, লেটুস, কলিজা, শুকনো সিমের বিচি, ডিম, ডাল, দুধ ইত্যাদি ফলিক অ্যাসিডের উৎস।

    ক্যালসিয়াম: নবজাতকের হাড় ও দাঁত গঠনের জন্য শেষ তিন মাসে প্রচুর ক্যালসিয়াম দরকার হয়। একজন গর্ভবতী নারীর দৈনিক অন্তত এক হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খেতে হবে। দুধ ও দই ক্যালসিয়ামের একটি আদর্শ উৎস। এ ছাড়া ডাল, সরিষাশাক, বাঁধাকপি, শালগম, বিট, বাদাম, মাছ এবং ফলের মধ্যে কমলা ও আঙুরে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ অনেক।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    চর্বি কমাবে যে খাবার

    ১৭ এপ্রিল ২০১৭

    অণ্ডকোষে ব্যথা

    ২৩ মার্চ ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669