• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    গাজীপুরে ছাত্রদলের এক কমিটিতে ১৪ বছর পার

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক | ১৪ আগস্ট ২০১৭ | ৯:০১ অপরাহ্ণ

    গাজীপুরে ছাত্রদলের এক কমিটিতে ১৪ বছর পার

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ৩৮ বছর আগে ১৯৭৯ সালের পহেলা জানুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে। বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে এ ছাত্রসংগঠনটি ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। ডাকসুর ভিপিসহ দেশের ছাত্র সংগঠনে নেতৃত্বদানকারী এ সংগঠনটি এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। গতিশীল নেতৃত্ব ও ছাত্রদের হাতে নেতৃত্বে না থাকার কারণে এ সংগঠনটি রাজপথে পুরনো ভূমিকায় নামতে পারছেন না।


    গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালের ১২ জুলাই। সোমবার (১৪ আগস্ট) যার ১৪ বছর একমাস দুইদিন পূর্ণ হলো। দ্বিবার্ষিক ওই সম্মেলনে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন মো. শরাফত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হান্নান মিয়া হান্নু। সাবেক জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ২০০৩ সালে নির্বাচিত সভাপতি মো. শরাফত হোসেন ওই সময় ঢাকা ল’কলেজের ছাত্র ছিলেন বলে কমিটি অনুমোদনপত্রে উল্লেখ রয়েছে। দলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, তখনই তার বয়স ছিল চল্লিশের কোঠায়। সরাফত হোসেন বর্তমানে গাজীপুর জেলা বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং টঙ্গী এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। প্রায় বিশ বছর ধরে তিনি টঙ্গীতে ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক (ডিশ), হাউজিসহ নানা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত।

    ajkerograbani.com

    একই অবস্থা হান্নুরও। দলীয় ব্যানারে হান্নান মিয়া হান্নু ২০১৩ সালের ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। একই সাথে তিনি গাজীপুর পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এদের বাইরেও কমিটির অনেকেই ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও প্রবাসে পাড়ি দিয়েছেন। ফলে দলীয় কর্মসূচিতে ছাত্রদল বরাবরই ব্যর্থ। অথচ সেই কমিটি দিয়েই চলছে জেলা-উপজেলা ছাত্রদল। অছাত্রদের হাতে ছাত্রদলের রাজনীতি থাকায় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন কয়েকটি ভাগে। দলীয় নানা কর্মসূচি পালনে তাই কমিটি ব্যর্থ হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ৪টি কমিটি গঠন করা হলেও গাজীপুরে সেই এক কমিটিই জোড়াতালি দিয়ে চালাচ্ছে দল।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগের সন্নিকটে থাকা এই কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৮১ সদস্যের সবারই ছাত্রজীবন শেষ হয়েছে বহু আগে। নামধারী এই ছাত্রনেতারা প্রভাব খাটিয়ে এখন নিজেদের আখের গোছাতে বেশি ব্যস্ত। বেশিরভাগ নেতার চুল-দাঁড়িতে পাক ধরেছে অনেক আগেই। ইতোমধ্যে অভিভাবকের স্থানটিও দখল করে নিয়েছেন এরা। সেই সাথে যুবদলে রাজনীতির সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তারা। অনেকের বয়স পঞ্চাশের কোঠায়। কারও কারও সন্তানের স্কুল, কলেজ পাড়ি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার সময় হয়েছে। আবার কেউ সংসার নিয়ে ব্যস্ত, কেউবা ব্যবসায়ী অথচ দিব্যি তারা এখনও জেলা ছাত্রদলের নেতা। বুড়ো এই ছাত্র নেতাদের কারণে অনেক ছাত্রনেতার স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। যেন তাদের জন্য থেমে রয়েছে ঘড়ির কাটাটাও। এমন অমর ছাত্রদের নিদ্রা যেনো দিন দিন আরো গভীর হচ্ছে। তবুও জেলা ছাত্রদলের নেতা পরিচয়ে ব্যানার, ফেস্টুন করে সুযোগ বুঝে যেখানে সেখানে টানিয়ে নিজেদের পরিচয় জাহির করছেন তারা। এছাড়া রাজপথে না থেকে স্যোশাল মিডিয়ায়তে এরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটি না হওয়ার কারণে মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, কলেজ ও ওয়ার্ড শাখার কমিটি হচ্ছে না। ফলে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বও সৃষ্টি হচ্ছে না। তরুণ, মেধাবী অনেকেই দলে মূল্যায়ন না পেয়ে বিদায় নিয়েছেন এক সময়কার সবচেয়ে বড় এই সংগঠনটি থেকে। এছাড়া গাজীপুর জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন না হওয়ার কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। এদিকে পদ বঞ্চিত দলের ত্যাগী তরুণ নেতারা নতুন কমিটি গঠনের চেষ্টায় একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছে। ‘বুড়ো’ পদধারী ছাত্রদল নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রভাবিত করে কমিটি গঠন বারবার পেছাচ্ছেন। এভাবে পুরনো এই কমিটি দিয়েই চলছে গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সংকটময় সংসার।

    অভিযোগ রয়েছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গাজীপুর জেলা শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারাসহ সর্ব পর্যায়ে কেউ কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। সম্প্রতি সংগঠনটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। দলটির নেতারা মনে করেন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর পুরো মেয়াদে সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিল সুপার ফ্লপে। কোথাও কোনো সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে পারেনি। একইভাবে সরকারবিরোধী সব আন্দোলনেও শক্তি অর্জনে ব্যর্থ হতে দেখা গেছে কমিটির দায়িত্বশীল নেতাদের। জেলা ছাত্রদলের পরিচয়ে ফেস্টুন টানিয়ে নিজেদের প্রচার করলেও এসব নেতার অনেকেই রাজপথে নেই। আন্দোলন আসলেই সিঙ্গাপুর, মালেশিয়ায় ভ্রমণে চলে যান শরাফত ও হান্নুরা। ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের চান্দনায় ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে খালেদা জিয়ার জনসভা হওয়ার কথা ছিল। ছাত্রলীগের বাধার কারণে পরে হয়নি। অভিযোগ রয়েছে ২৫ ডিসেম্বর সভার দুইদিন আগে আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁত করে মালেশিয়ার ভ্রমণে যান গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছায়েদুল আলম বাবুল ও হান্নান মিয়া হান্নু।

    অপরদিকে অনেকের নামে নাশকতার মামলা থাকায় রয়েছেন আত্মগোপনে। এছাড়া সংগঠনটির দায়িত্বশীল অনেকে পুলিশি হামলা, গ্রেফতার ও ক্রসফায়ারের শঙ্কাকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির কার্যক্রম একবারেই লেজে গোবরে। কোথাও কোনো উল্লেখযোগ্য আন্দোলন ও সংগঠনকে শক্তিশালীকরণের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় নতুন কমিটিও গঠিত না হওয়ার ফলে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের কার্যক্রম বাম ঘরনার ছাত্র সংগঠনগুলোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেন।

    ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বলেন, দলীয় কোন্দল আর ক্ষমতা ধরে রাখার কারণেই ওই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সামনে নির্বাচন, দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা না হলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের আর দেখাই যাবে না। টঙ্গী থানা ও পাঁচটি উপজেলাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

    ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কয়েকবার উদ্যোগ নেন। কিন্তু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির নেতাদের মধ্যে কোন্দলের কারণে সেসব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায়। জেলার বিভিন্ন ইউনিট নিয়ে পর্যালোচনা ও প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হলেও কমিটি গঠনের কার্যক্রম থেমে রয়েছে।

    ছাত্রদলের এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, কয়েকবার গাজীপুর জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপের কারণে তা হয়নি। জেলা ও মহানগরে, কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেরই নিজেদের পছন্দের প্রার্থী রয়েছেন। তাদের পছন্দের একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে কমিটি গঠনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

    জেলা ছাত্রদলের একাধিক পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতা বলেন, দলের চরম দুঃসময়ে যারা দলের পাশে, রাজপথে থেকেছেন, তাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হলে দল অনেকটা প্রাণ ফিরে পাবে।

    অন্যদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের ৪ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও গাজীপুর মহানগরীতে গঠন করা হয়নি কোনো কমিটি। তাই জেলার পাশাপাশি মহানগর ছাত্রদলের প্রথম কমিটি গঠন নিয়ে মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর জেলা ছাত্রদল ও মহানগরের নতুন কমিটি হবে হচ্ছে করে দিন পার হচ্ছে। সিটি গঠনের শুরুতে মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় লক্ষ্য করা গেলেও গত চার বছরে তা নিঃশেষ হয়ে গেছে। মূলত বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়েছে এমন সদস্য দিয়েই চলছে এক সময়ের প্রভাবশালী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গাজীপুর জেলা শাখা।

    এদিকে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রয়াত বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আ স ম হান্নান শাহর মৃত্যুতে অভিভাবক সংকট তৈরী হয়েছে এ জেলায়। অপর দিকে আরেক অভিভাবক অধ্যাপক এম এ মান্নানকে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালকালে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, নাশকতা, বিস্ফোরক ও সরকারি কাজে বাধা দেয়াসহ বিভিন্ন আইনে মামলা করে ধমিয়ে রাখা হয়েছে। একই সাথে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নগর পিতার চেয়ার নিয়ে টানাটানি করছে ক্ষমতাসীন দল।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রদল নেতা বলেন, ২০০৩ সালের কমিটির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির তখন এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। রেজাউল করিম খোকন ১৯৯৪ সালে বিএ পাস করেন। অথচ এখনও তারা ছাত্রদলের পদ নিয়ে বসে আছেন। জেলা ছাত্রদলের কমিটি না হওয়ার কারণে বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও কলেজ শাখার কমিটি গঠন করা হচ্ছে না। ফলে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বও সৃষ্টি হচ্ছে না।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755