শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

‘গুম’ নিয়ে উদ্বেগের তালিকায় বাংলাদেশ

  |   শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | প্রিন্ট  

‘গুম’ নিয়ে উদ্বেগের তালিকায় বাংলাদেশ

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিটিগুলোতে সরকারের প্রতিনিধিদের ভাষ্য, এ দেশের আইনে ‘গুম’ বলে কিছু নেই। তবে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ দেশে জোরপূর্বক নিরুদ্দেশ করা বা গুমের বিভিন্ন অভিযোগ স্থান পেয়েছে।
সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার জেনেভায় শেষ হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ৩৬টি দেশের ছয় শতাধিক গুমের অভিযোগের মধ্যে বাংলাদেশেরও একাধিক অভিযোগ স্থান পেয়েছে। বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের পাঁচজন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। চেয়ার র্যাপোর্টিয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার তায়-উং বাইকের নেতৃত্বে ওয়ার্কিং গ্রুপের ভাইস চেয়ার হেনরিকাস মিকেভিশাস (লিথুনিয়া) ছাড়া সদস্য হিসেবে গিনি বিসাউয়ের আওয়া বালদে, কানাডার বের্নার্ড দুহাইম এবং আর্জেন্টিনার লুসিয়ানো হাজান ওই পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটি উন্মুক্ত নয়। সেখানে গুমের অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সবাইকে সুরক্ষায় ঘোষণা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া ‘নন-স্টেট অ্যাক্টর’ বা রাষ্ট্রযন্ত্রের অংশ নয় এমন কোনো শক্তির দ্বারা গুম হওয়ার অভিযোগগুলোও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওয়ার্কিং গ্রুপের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অন্তত দুটি গুমের অভিযোগ তুলে ধরার তথ্য স্থান পেয়েছে। আনসার আলী নামের এক ব্যক্তি ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকায় সশস্ত্র ‘স্টেট এজেন্টদের’ অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে ওয়ার্কিং গ্রুপ অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল যশোর মিউনিসিপ্যালিটি পার্ক থেকে সাইদুর রহমান কাজী নামের এক ব্যক্তিকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২০ সাল শেষে জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাতে বলা হয়েছে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশে গুমের অভিযোগ তারা পর্যালোচনা করেছে। সেসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে চিঠি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ওই বৈঠকে।
গত সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকে ব্লগার আসাদুজ্জামান নূরের (আসাদ নূর) আইনজীবীকে হুমকি, হয়রানি করা নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ সরকারকে চিঠি দিয়েছিল। ২০২০ সাল শেষে গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে গুমের অব্যাহত অভিযোগ নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ উদ্বিগ্ন। ওয়ার্কিং গ্রুপ গুমের অভিযোগ পাচ্ছে। ওই অভিযোগের অনেকগুলোই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের অভিযোগের ব্যাপারে দৃশ্যত দায়মুক্তির চর্চা নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশ নিয়ে পর্যবেক্ষণে ওয়ার্কিং গ্রুপ আরো বলেছে, ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের কম সম্পৃক্ততা অত্যন্ত দুঃখজনক। গত বছর ওয়ার্কিং গ্রুপ অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও বাংলাদেশ সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ১৯৯৬ সালে ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশের কাছে প্রথমবারের মতো একটি অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। এত বছরে মাত্র একটি ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া ২০১৩ সাল থেকে গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ সফরের অনুমতি দিতে বেশ কয়েকবার অনুরোধ জানিয়েছে। জানা গেছে, এসব অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ।
ঢাকায় সরকারি সূত্রগুলো বলেছে, সাধারণত এ ধরনের সফর উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এবং উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক সময়ে হয়ে থাকে।


Posted ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১