• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    গোপালগঞ্জের সর্বত্র লাগছে আধুনিকতার ছোঁয়া

    বিশেষ প্রতিবেদক | ২০ অক্টোবর ২০১৮ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

    গোপালগঞ্জের সর্বত্র লাগছে আধুনিকতার ছোঁয়া

    আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন বদলে যাচ্ছে গোপালগঞ্জ। গোপালগঞ্জ ছিল চারদিক থেকে নদীবেষ্টিত একটি দ্বীপের মতো। এলাকার মানুষের যোগাযোগ ও যাতায়াতের একমাত্র বাহন ছিল নৌকা ও লঞ্চ। গত শতাব্দীর আশির দশকে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কে প্রথম কিছু যানবাহন চলাচল শুরু করে। এলাকার বেশিরভাগ মানুষের জীবিকার পথ ছিল কৃষি। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পর থেকে পিছিয়েপড়া গোপালগঞ্জ জেলার উন্নয়নকাজ শুরু হয়। সে সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নকাজ করে শেখ হাসিনার সরকার।


    কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করার পর গোপালগঞ্জ জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলে শেখ হাসিনা আবার সরকার গঠন করেন। এর পর থেকে গোপালগঞ্জের উন্নয়নযাত্রা শুরু হয়। এখন এ জেলায় নৌকা ও লঞ্চ চলাচল নেই বললেই চলে। গোপালগঞ্জের সঙ্গে সারা দেশের আধুনিক বাস যোগাযোগ শুরু হয়েছে। গোপালগঞ্জ এখন শিক্ষাক্ষেত্রেও অনেক এগিয়েছে।


    এ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব চক্ষু ইনস্টিটিউট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক মানের শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম, বিসিক শিল্পপার্ক, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, পিটিআই, গোপালগঞ্জ মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, প্রাণিসম্পদ ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার, বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প (বাপার্ড), জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা শিশু একাডেমি, পাসপোর্ট অফিস, জেলা সার্ভার স্টেশন, আবহাওয়া অফিস, ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্ট, রেললাইনসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

    এ ছাড়া শেখ রেহানা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সরকারি ওষুধ কোম্পানি ইডিসিএল তৃতীয় প্রকল্প, শেখ লুত্ফর রহমান ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামোতে। এখন কোনো গ্রাম নেই। সব এখন শহর হয়ে গেছে। এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। আছে ডিশ লাইন। সবার হাতে স্মার্টফোন। যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের কারণে মানুষের বেকারত্ব কমেছে। এখন সবাই বলতে গেলে সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছে। একসময় এখানকার মানুষ বেশির ভাগ বসবাস করত টিনের ঘরে। এখন গ্রামেগঞ্জে সব মানুষ মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং নির্মাণ করছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই গোপালগঞ্জ এখন একটি অগ্রসরমান জেলা।

    এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রতিদিন তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আসেন। জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সারা দেশ তথা গোপালগঞ্জের উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর গোপালগঞ্জের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হওয়া শুরু করে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে এবং আমাদের গোপালগঞ্জের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে গোপালগঞ্জের উন্নয়নযাত্রা এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে অনেকেই এখন ব্যক্তি উদ্যোগে শিল্প-কলকারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এসব বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে গোপালগঞ্জের মানুষের ভাগ্য।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669